ক্যাম্পাসে গ্রাফিতিতে চুনকাম ও রাষ্ট্রের ছায়া বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় জয় বন্ধ করে সার্বিক হোক নির্বাচন! তবেই সাপমুক্তি হবে পশ্চিমবঙ্গের? বিজেপির বিরুদ্ধে ভোটে জিতে মোদীর সঙ্গে ব্রেকফাস্ট! সায়নী, কাকলীরা আর জিতবেন? প্রতিবাদী মানেই ‘অ্যান্টিন্যাশনাল’ নয়, ভাগবতের কথা কি মাথায় রাখবে তথাকথিত ‘দেশভক্ত’রা? বাঁকিপুরের ঝাঁকি, সঙ্গে CJP! ঘুরে দাঁড়াতে পারবে BJP? গোষ্ঠীদ্বন্দ্ব কাঁটা মোদী-শাহ’র CPIM থেকে BJP হয়ে তৃণমূল! বিরোধী হলেই কাদা-ডিম্ ছোঁড়ার রাজনীতি বাংলায়, কবে বদলাব আমরা? জমিতেও হিন্দু-মুসলমান? মুখ্যমন্ত্রীর ‘ল্যান্ড জিহাদ’ মন্তব্যে শোরগোল বঙ্গ রাজনীতিতে রেখা পাত্রের বিরুদ্ধে বাড়ি দখলের অভিযোগ, শর্বরীর বিরুদ্ধে দোকান! তোলাবাজির TMC-BJP হয়?

রামলীলা ময়দানে খর্গের মঞ্চ ‘শুদ্ধিকরণ’, স্বাধীনতার ৭৯ বছর পরও পদবিই কি পরিচয়?

২৮ জন
পড়েছেন

প্রতিবেদন টি শেয়ার করুন

৮ ই আগস্ট, ২০২৬। ইন্ডিয়ান ন্যাশনাল কংগ্রেসের জাতীয় সভাপতি মাল্লিকার্জুন খর্গে উত্তরাখণ্ডের রামিল্লা গ্রাউন্ডে, দলের প্রচার কাজে গিয়েছিলেন এবং সেখানে তিনি মঞ্চে দাঁড়িয়ে বক্তৃতাও দেন। বিতর্ক ঘনায়, তার ঠিক দুইদিন পরে ১০ই আগস্ট, যখন সেই মঞ্চ শুদ্ধিকরণের পূজা হয় ‘শ্রী রাম সেনা’ নামক এক সংস্থার তত্বাবধানে। কিছুক্ষনের মধ্যেই সেই ভিডিও ভাইরাল হয় জনপ্রিয় সোশ্যাল মিডিয়া সাইটগুলোতে। এরপর খর্গে কেন্দ্রীয় দল বিজেপির বিরূদ্ধে মন্তব্য করেন এবং জাতিবৈষম্যের আরোপ দেন। তিনি লোকসভার ‘Monsoon session’ এর শেষদিনে, ‘Untouchability Act’ এর অধীনে, অপরাধীদের গ্রেফতার করার আর্জি জানান।
জেপি নাড্ডা খর্গের সমস্ত দাবিকে অস্বীকার করে বলেন যে তিনিও খুব দুঃখিত এই ঘটনার জন্যে। কিন্তু উল্লিখিত ওই সংস্থা, যাঁরা এই কাজ করেছে তাঁরা উত্তরাখণ্ড বিজেপির সাথে কোনভাবেই যুক্ত নয়। বিজেপির এক কর্তা আরও জানান যে খর্গের বিজেপি ও আর এস এস বিরোধী কটূক্তির জন্যেই সংস্থা এমন কাজ করেছে।

দুই বছর আগে, ২০২৪ সালের জুলাই মাসে অখিলেশ যাদব সাংবাদিকদের সামনে দাবি করেন, তিনি উত্তরপ্রদেশ পরিষদে থাকার সময়, একসময় মুখ্যমন্ত্রীর বাড়ি যান এবং তাঁর বাড়ি থেকে বেরোনোর পরে, মুখ্যমন্ত্রীর নিজের বাড়ি গঙ্গাজল দিয়ে শুদ্ধিকরণ করেন।
যেই ‘Caste Census’ এর কাজ আজ অধিগ্রহণ করেছে সরকার, সেই দাবি জানানোর জন্যেই ২০২৪ সালে রাহুল গান্ধীকে অনুরাগ ঠাকুর কটাক্ষ করে বলেন, গান্ধীর নিজের কি জাতি যে তিনি জাতি সমীক্ষনের জন্যে প্রশ্ন তুলছেন।

সাম্প্রতিককালে, ঠিক কক্রচ জনতা পার্টির সাফল্যের পরেই ইন্সটাগ্রামে ‘ রিজার্ভেশন হটাও’ নামের একটি পেজ তৈরি হয়। খুব জলদিই লক্ষ লক্ষ মানুষ সেটা ফলো করা শুরে করে এবং আজ সেই গ্রুপের ফলোয়ার্স প্রায় পাঁচ লক্ষ মানুষ। সংরক্ষন আইনের সংস্কার বা সংশোধনের প্রয়োজন কতটা তা নিয়ে আলোচনা হয়তো সত্যিই জরুরি। কিন্তু এই আইন স্বাধীনতার ৭৯ বছর পরেও কেন অটল, তা বিচার করতে ভুলে যাই আমরা।

মাল্লিকার্জুন খর্গের ৮১ বছর বয়স এবং তিনি ৪০ বছরেরও বেশি সময় জুড়ে রাজনীতির সঙ্গে যুক্ত। তিনি কর্ণাটকের প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী এবং বর্তমানে রাজ্যসভায় বিরোধী দলের সভাপতি, যা বিরোধীদের সবচেয়ে উচ্চপদস্থ আসন বলে গণ্য করা হয়। এত বিশাল পদের অধিকারী হওয়া সত্ত্বেও তাঁকে যদি এত নিম্নমানের জাতিভেদের শিকার হতে হয় তাহলে আপনার, আমার মতো মানুষদের ঠাঁই কোথায়? সংরক্ষন আইনের প্রয়োজন আছে কি না তা হয়তো প্রত্যেকের ব্যক্তিগত মতামত, কিন্তু যুগ যুগান্তর ধরে সমাজের নিচু শ্রেণীর প্রতি হয়ে আসা অপব্যবহার তো আমরা কেউই অস্বীকার করতে পারিনা। যেদিন এই ভেদাভেদ মুছে যাবে সম্পূর্ণভাবে সেদিন থেকে সংরক্ষণের প্রয়োজন আপনিই শেষ হবে। তবে এখনও এই সমাজে মানুষ মানুষকে হয়তো নামেই চেনে, কিন্তু বিচার করে পদবীতে।

অন্যান্য প্রতিবেদন.