সাংবাদিক সম্মেলন, শেখ হাসিনা ফের খবরে! তারেক নাকি হাসিনা? কী ভাবছে দিল্লী? ক্যাম্পাসে গ্রাফিতিতে চুনকাম ও রাষ্ট্রের ছায়া বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় জয় বন্ধ করে সার্বিক হোক নির্বাচন! তবেই সাপমুক্তি হবে পশ্চিমবঙ্গের? বিজেপির বিরুদ্ধে ভোটে জিতে মোদীর সঙ্গে ব্রেকফাস্ট! সায়নী, কাকলীরা আর জিতবেন? প্রতিবাদী মানেই ‘অ্যান্টিন্যাশনাল’ নয়, ভাগবতের কথা কি মাথায় রাখবে তথাকথিত ‘দেশভক্ত’রা? বাঁকিপুরের ঝাঁকি, সঙ্গে CJP! ঘুরে দাঁড়াতে পারবে BJP? গোষ্ঠীদ্বন্দ্ব কাঁটা মোদী-শাহ’র CPIM থেকে BJP হয়ে তৃণমূল! বিরোধী হলেই কাদা-ডিম্ ছোঁড়ার রাজনীতি বাংলায়, কবে বদলাব আমরা? জমিতেও হিন্দু-মুসলমান? মুখ্যমন্ত্রীর ‘ল্যান্ড জিহাদ’ মন্তব্যে শোরগোল বঙ্গ রাজনীতিতে

বনগাঁর ছেলের দ্বৈত আন্তর্জাতিক স্বীকৃতি, ‘লুবলুর পৃথিবী’ মনোনীত ‘অস্কারসম’ আইজনার ও হার্ভেতে

১৮৩ জন
পড়েছেন

প্রতিবেদন টি শেয়ার করুন

টিনটিন, অ্যাস্টেরিক্স, নারুতোর সীমানা পেরিয়ে নারায়ণ দেবনাথের হাত ধরে বাংলা ভাষার কমিক্স ঢুকে পড়েছিল বাঙালি শিশুকিশোরদের বুকসেল্ফে। এবার বাঙালির কমিক্স পৌঁছে গেল বিশ্বের দরবারে। নেপথ্যে চার্বাক দীপ্ত। বনগাঁর ছেলের বাংলা কমিক্স উপন্যাস ‘লুবলুর পৃথিবী’ মনোনীত জোড়া আন্তর্জাতিক পুরস্কারের জন্য।

বাংলা ভাষায় বাংলার কমিক্স

গত কলকাতা বইমেলায় ‘লুবলুর পৃথিবী’ বাজারে আসা মাত্রই খইয়ের মতো উড়ে গিয়েছিল। চিত্রভাষায় সাজানো এই গ্রাফিক নভেলটির স্রষ্টা চার্বাক দীপ্ত। এবার বিশ্বমঞ্চে ইতিহাস গড়তে চলেছে এই কমিক্স উপন্যাস৷ ‘বুক ফার্ম’ থেকে প্রকাশিত এই উপন্যাসটি ২০২৬ সালের মর্যাদাপূর্ণ উইল আইজনার কমিক ইন্ডাস্ট্রি অ্যাওয়ার্ডস-এ ‘বেস্ট ডিজিটাল কমিক’ বিভাগে মনোনীত হয়েছে৷ কমিকের মায়েস্ত্রো তথা স্রষ্টা উইল আইজনারের নামাঙ্কিত এই পুরস্কার কমিক্স জগতে অস্কারের সমতূল্য। সঙ্গে হার্ভে অ্যাওয়ার্ডের ডিজিটাল বুক অফ দ্য ইয়ারের জন্যও মনোনীত হয়েছে ‘The world of Lublu’। আমেরিকার কার্টুনিস্ট হার্ভে কার্টজম্যানের নামানুসারে এই পুরস্কারের নামকরণ করা হয়েছে।

লুবলুর পৃথিবী

যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রাক্তনী চার্বাক দীপ্তর এই সাফল্য ফের একবার বিশ্বের দরবারে বাঙালির কলার তুলল। না আছে বিদেশি কোনও সংস্থার প্রভাব না চেনা জানা। মস্তিস্ক প্রসূত ভাবনা আর নিজের ভাষাতেই চার্বাক খুঁজে পেয়েছেন বিশ্বজয়ের সিঁড়ি। এর আগে এই দুই ঐতিহ্যবাহী অ্যাওয়ার্ডে ভারতীয় উপমহাদেশের কোনও স্রষ্টা একসঙ্গে মনোনীত হননি। তাও সারা বিশ্ব যেখানে ‘বাংলা’ বলতে কলকাতাকে চেনে, সেই কলকাতা থেকেও ঘণ্টা দুই দূরে অবস্থিত বনগাঁর নামও চার্বাকের দৌলতেই জানল সারা বিশ্ব।

চার্বাক দীপ্ত

যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয় থেকে দর্শনে স্নাতক চার্বাকের নামটিও ভারতীয় দর্শনের থেকেই অনুপ্রাণিত। তাঁর বাবা প্রাচীন ভারতীয় দর্শনের নাস্তিক ও বস্তুবাদী ‘চার্বাক’ ধারার অত্যন্ত অনুরাগী ছিলেন। সেইখান থেকেই নাম আর দীপ্ত কোনও পদবী নয় এটি তাঁর বাবার নামেরই একটি অংশ। চার্বাক দর্শন মতে যা চোখে দেখা যায় তাই বিশ্বাসযোগ্য। বাস্তবতা, উপলব্ধি এবং আত্ম-অনুসন্ধানের গভীর প্রকৃতিকে অনুধাবন করাই উপন্যাসের লুবলু আর কিমের প্রধান উপলক্ষ্য। প্রথমে একাধিক প্রকাশনা এই বই ছাপাতে মুখ ফিরিয়ে নিয়েছিল। পরবর্তীতে ‘বুক ফার্ম’ প্রকাশনা সংস্থার হাত ধরে বাজারে আসে ‘লুবলুর পৃথিবী’। গ্রাফিক উপন্যাসটিতে রয়েছে নানাবিধ রেফারেন্স বা উল্লেখ—যার ব্যাপ্তি ডেকার্ট ও ভ্যান গঘ থেকে শুরু করে ভারতের কিংবদন্তি জাদুকর পি. সি. সরকার পর্যন্ত। চার্বাক এর আগে ঝুলিতে ভরেছেন ‘নারায়ণ দেবনাথ পুরস্কার’। তিনি কাজ করেছেন সুকুমার রায়ের হযবরল থেকে, জীবনানন্দ দাশের বনলতা সেন নিয়ে৷ কাজ করছেন রামায়ণ নিয়েও। চার্বাকের মুকুটে আরও পালজ জুড়ুক পরবর্তীতে। তাঁর এই কৃতিত্ব সাহস জোগাক বাংলার হবু শিল্পীদের চাওয়া এটুকুই।

অন্যান্য প্রতিবেদন.