ক্যাম্পাসে গ্রাফিতিতে চুনকাম ও রাষ্ট্রের ছায়া বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় জয় বন্ধ করে সার্বিক হোক নির্বাচন! তবেই সাপমুক্তি হবে পশ্চিমবঙ্গের? বিজেপির বিরুদ্ধে ভোটে জিতে মোদীর সঙ্গে ব্রেকফাস্ট! সায়নী, কাকলীরা আর জিতবেন? প্রতিবাদী মানেই ‘অ্যান্টিন্যাশনাল’ নয়, ভাগবতের কথা কি মাথায় রাখবে তথাকথিত ‘দেশভক্ত’রা? বাঁকিপুরের ঝাঁকি, সঙ্গে CJP! ঘুরে দাঁড়াতে পারবে BJP? গোষ্ঠীদ্বন্দ্ব কাঁটা মোদী-শাহ’র CPIM থেকে BJP হয়ে তৃণমূল! বিরোধী হলেই কাদা-ডিম্ ছোঁড়ার রাজনীতি বাংলায়, কবে বদলাব আমরা? জমিতেও হিন্দু-মুসলমান? মুখ্যমন্ত্রীর ‘ল্যান্ড জিহাদ’ মন্তব্যে শোরগোল বঙ্গ রাজনীতিতে রেখা পাত্রের বিরুদ্ধে বাড়ি দখলের অভিযোগ, শর্বরীর বিরুদ্ধে দোকান! তোলাবাজির TMC-BJP হয়?

ধর্মেন্দ্র প্রধানের ইস্তফায় আন্দোলনে ইতি, বিরোধীদের জন্য স্বস্তি, নাকি নতুন পরীক্ষার শুরু?

১৪ জন
পড়েছেন

প্রতিবেদন টি শেয়ার করুন

ককরোচদের আন্দোলনের বিরাট জয়। যন্তর-মন্তরে টানা কয়েক সপ্তাহের বিক্ষোভের পর শেষ পর্যন্ত কেন্দ্রীয় শিক্ষামন্ত্রী ধর্মেন্দ্র প্রধান পদত্যাগ করেছেন। সরকারের দাবি, ছাত্র-ছাত্রীদের মধ্যে তৈরি হওয়া উদ্বেগ ও অস্থিরতা দূর করে পরিস্থিতি স্বাভাবিক করতেই জাতীয় স্বার্থে এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। একই সঙ্গে ককরোচ জনতা পার্টি (CJP)-ও তাদের প্রধান অবস্থান-বিক্ষোভ তুলে নেওয়ার ঘোষণা করেছে।

এই পদক্ষেপে দীর্ঘদিনের অচলাবস্থার অবসান ঘটলেও, এর রাজনৈতিক প্রভাব নিয়ে ইতিমধ্যেই আলোচনা শুরু হয়েছে। একদিকে এটি বিরোধী রাজনীতির কাছে বড় সাফল্য হিসেবে হলেও রাজনৈতিক সমীকরণে নতুন মোড় ঘোরানো সিদ্ধান্তও বটে। 

২০ জুলাই ‘সংসদ চলো’ অভিযান

বিরোধীদের অক্সিজেন

বিরোধীদের এই জয় খানিক অক্সিজেন জুগিয়েছে। শাসকদলের এক গুরুত্বপূর্ণ মন্ত্রীর পদত্যাগ বিরোধীদের হাতে বড় রাজনৈতিক অস্ত্র তুলে দিয়েছে। প্রথমে অরাজনৈতিকভাবে শুরু হলেও, পরে এই আন্দোলনকে হাতিয়ার করেছে প্রায় সব বিরোধী দলগুলিই। পরীক্ষা পরিচালনায় প্রশাসনিক গাফিলতির যে অভিযোগ বিরোধীরা বারবার তুলছিল, শিক্ষামন্ত্রীর পদত্যাগ সেই দাবিকেই আরও জোরালো করেছে। সঙ্গে বিপুল জনমানুষের সাড়াও পেয়েছে তাঁরা। 

প্রধানমন্ত্রীর বাড়ির সামনে বিরোধীদের অবস্থান

অরাজনৈতিক মঞ্চের জয়ের ভাগ নেওয়ার চেষ্টা? 

তবে এই ঘটনার সবচেয়ে বড় বার্তা অন্য জায়গায়। কারণ এই আন্দোলনের নেতৃত্বে ছিল না কোনও প্রচলিত ছাত্র সংগঠন বা বড় রাজনৈতিক দল। বরং ডিজিটাল মাধ্যমে সংগঠিত, ব্যঙ্গাত্মক রাজনৈতিক প্ল্যাটফর্ম ককরোচ জনতা পার্টি (CJP)-ই আন্দোলনের মূল চালিকাশক্তি হয়ে ওঠে। ফলে বিরোধী দলগুলো একাধিক প্রশ্নের মুখে পড়ছে। এটি একটি গণ আন্দোলনের রূপ নিয়েছে কোনও রাজনৈতিক দলের পতাকা ছাড়াই। যা বিরোধীরা পারল না তা করে দেখাল একটি অরাজনৈতিক মঞ্চ। যদি ভবিষ্যতেও এ ধরনের নির্দলীয় নাগরিক আন্দোলন জনসমর্থন পেতে থাকে, তাহলে প্রচলিত বিরোধী দলগুলিকে তরুণ প্রজন্মের কাছে অপ্রাসঙ্গিক বা সেকেলে বলে মনে হতে পারে। 

ধর্মেন্দ্র প্রধানের ইস্তফা পত্র

পরাজয় মেনে নেওয়া নাকি অন্য কৌশল কেন্দ্রের? 

কেন্দ্রের দৃষ্টিকোণ থেকে শিক্ষামন্ত্রীর পদত্যাগকে পরিস্থিতি শান্ত করার একটি গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ হিসেবে দেখা হচ্ছে। একইসঙ্গে সরকার ইতিমধ্যেই কম্পিউটার-ভিত্তিক পরীক্ষা (CBT) চালুর পরিকল্পনা, কেন্দ্রীয় তদন্তকারী সংস্থা (CBI)-র মাধ্যমে তদন্ত এবং পরীক্ষা ব্যবস্থায় একাধিক সংস্কারের বার্তা দিয়েছে। এর মাধ্যমে সরকার বোঝাতে চাইছে যে, শুধু রাজনৈতিক সিদ্ধান্ত নয়, প্রশাসনিক সংস্কারের দিকেও তারা এগোতে প্রস্তুত। ভুল থেকে শিক্ষা নিয়ে মানুষের কাছে আরও বেশি গ্রহণযোগ্য হয়ে ওঠারও নজির গড়ল কেন্দ্রীয় সরকার। 

অন্যান্য প্রতিবেদন.