ডিজিটাল নিউজ পাবলিশার্স অ্যাসোসিয়েশন (DNPA)-র করা একটি মামলার প্রেক্ষিতে ভারতের সুপ্রিম কোর্ট কেন্দ্র সরকারের কাছে নোটিস জারি করেছে। ডিজিটাল ব্যক্তিগত তথ্য সুরক্ষা আইন (DPDP Act, 2023) ও তার বিধিমালা সংবাদমাধ্যমের স্বাধীনতায় কেমন প্রভাব ফেলছে—তা নিয়ে এই আইনি লড়াই শুরু হয়েছে। অ্যাক্ট, ২০২৩-এর কিছু নির্দিষ্ট ধারার বিরুদ্ধে ২১টি প্রভাবশালী সংবাদমাধ্যমের এই যৌথ লড়াই কেবল আইনি লড়াই নয়, এটি দেশের গণতান্ত্রিক কাঠামোর অন্যতম স্তম্ভ সংবাদমাধ্যমের স্বাধীন ও মুক্ত বিচরণের ওপর এক গভীর সংকটময় পরিস্থিতির ইঙ্গিত দিচ্ছে
আইনটির ৪৪(৩) ধারা অনুযায়ী, ব্যক্তিগত তথ্য প্রকাশসংক্রান্ত তথ্যের অধিকার (RTI) আইনের পুরনো বিধানগুলিকে সংশোধন করা হয়েছে। অন্যদিকে, ৩৬ নম্বর ধারায় কেন্দ্রীয় সরকারকে সংবাদমাধ্যমের কাছ থেকে নির্দিষ্ট তথ্য তলব করার একচ্ছত্র ক্ষমতা দেওয়া হয়েছে। ডিএনপিএ-র মূল আপত্তি ও আশঙ্কা হলোআগাম অনুমতির শর্ত৷ কোনো ব্যক্তির ব্যক্তিগত তথ্য নিয়ে খবর করতে যাওয়ার আগে নাকি তাঁর থেকে অনুমতি নিতে হবে৷ এটি অবাস্তব৷ যদি তাঁরই পূর্বানুমতি নিতে হয়, তবে তদন্তমূলক সাংবাদিকতা অসম্ভব হয়ে পড়বে। কারণ, সরকারি দুর্নীতি বা অনিয়মের সঙ্গে যুক্ত প্রভাবশালী ব্যক্তিরা কখনোই স্বেচ্ছায় নিজের বিরুদ্ধে তথ্য দিতে চাইবেন না।
তথ্যের উৎস বা ‘হুইসেলব্লোয়ার’-দের গোপনীয়তা রক্ষা করা সাংবাদিকতার পেশাগত নৈতিকতা। এই আইনের জাঁতাকলে পড়ে সেই গোপনীয়তা বিঘ্নিত হতে পারে। আইনজীবী মাধবী দিবানের যুক্তি অনুযায়ী, এই আইন পরোক্ষভাবে এক প্রকার আগাম সেন্সরশিপ বা সেন্সরশিপের জমানা ডেকে আনছে, যা স্বাধীন সংবাদ পরিবেশনের ক্ষেত্রকে চরমভাবে সংকুচিত করবে।
এই মামলার অন্যতম রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক মাত্রা হলো, DNPA র মঞ্চে মোদী সরকারের নীতিমালার পরিচিত পরিমণ্ডলে থাকা শিল্পপতি মুকেশ আম্বানি ও গৌতম আদানির মালিকানাধীন সংবাদ গোষ্ঠীও যুক্ত রয়েছে। অর্থাৎ, মূলধারার ঐতিহ্যশালী ও বৃহৎ সংবাদমাধ্যমগুলি আজ দলমত নির্বিশেষে গণমাধ্যমের অস্তিত্ব রক্ষায় এক প্ল্যাটফর্মে দাঁড়িয়েছে।
শীর্ষ আদালত তাৎক্ষণিকভাবে কোনো অন্তর্বর্তী স্থগিতাদেশ না দিলেও কেন্দ্রীয় আইন এবং বৈদ্যুতিন ও তথ্যপ্রযুক্তি মন্ত্রককে নোটিস জারি করেছে। আগামী নভেম্বর মাসে এই মামলার পরবর্তী শুনানি রয়েছে। আদালত যদি এই আইনের সাংবিধানিক বৈধতা এবং সংবাদমাধ্যমের ওপর এর নেতিবাচক প্রভাব গভীরভাবে খতিয়ে না দেখে, তবে ভবিষ্যতে তথ্যানুসন্ধান ভিত্তিক সাংবাদিকতায় সত্য তুলে ধরার স্বাধীনতা প্রশ্নচিহ্নের সামনে এসে দাঁড়াবে৷

