শনিবার, বাংলাদেশের রংপুর শহরের দাসপাড়া এলাকায় তালাবদ্ধ ঘরের ভেতর থেকে, একটি হিন্দু পরিবারের চারজনের মৃতদেহ উদ্ধার হয়েছে সন্দেহজনক অবস্থায়। নিহতরা হলেন — রংপুর জিলা স্কুলের অবসরপ্রাপ্ত শিক্ষক গণপতি চক্রবর্তী (৬৫), তাঁর স্ত্রী প্রীতিলতা চক্রবর্তী (৫০), তাঁদের মেয়ে আগামী চক্রবর্তী (২৩), এবং ছেলে প্রিয়ম চক্রবর্তী (১২)।
স্ত্রী প্রীতিলতা চক্রবর্তীর বোন পূজা চক্রবর্তী শনিবার পুলিশে খবর, যখন দুইদিন পরেও তিনি তাঁর বোনের এবং পরিবারের বাকিদের ফোন সুইচড অফ পান। শনিবার তিনি পার্শ্ববর্তী একটি বিল্ডিং থেকে ঘরের জানালা ভাঙেন এবং ঘরের সবকিছু অগোছালো অবস্থায় দেখে সন্দেহ করেন। এরপরেই তিনি পুলিশে ফোন করেন ঘটনার তদারকির জন্যে।
রংপুর মেট্রোপলিটন পুলিশ কমিশনার মোহাম্মদ আব্দুল মাবুদ রবিবার সাংবাদিক সম্মেলনে জানান, অভিযুক্তরা বৃহস্পতিবার গভীর রাতে গণপতির বাড়ির ছাদে ইয়াবা সেবন করছিল, যা একটি শক্তিশালী ও অবৈধ নেশাকারক বস্তু। শব্দ শুনে গণপতি ছাদে উঠে তাদের মাদক সেবন করতে দেখে বাধা দেন এবং চলে যেতে বলেন। জানা যাচ্ছে মূলত সেই কারণেই, অভিযুক্তরা তাঁকে গামছা দিয়ে শ্বাসরোধ করে হত্যা করে।
গণপতির চিৎকার শুনে তাঁর স্ত্রী প্রীতিলতা ও মেয়ে প্রার্থী ছাদে ছুটে আসেন, তাঁদেরও একইভাবে শ্বাসরোধ করে খুন করা হয়। এরপর অভিযুক্তরা ঘরের ভেতরে ঢুকে দম্পতির একমাত্র ছেলে প্রিয়মকেও একইভাবে হত্যা করে। ঘরের বিভিন্ন অংশ থেকে দেহগুলি উদ্ধার হয়েছে। পুলিশ কমিশনার জানান, অভিযুক্তরা শুক্রবার সকাল পর্যন্ত ঘরের ভেতরেই ছিল।
চার খুনের পর অভিযুক্তরা বাথরুম ব্যবহার করে, টেবিলে রাখা খেজুর খায়, এবং আরও ইয়াবা সেবন করে। এছাড়া গণপতি ও তাঁর স্ত্রীর মোবাইল ফোন ধোয়ার গুঁড়োর দ্রবণে ভিজিয়ে রাখে, যাতে আঙুলের ছাপ মুছে ফেলা যায় বলে পুলিশের ধারণা। এছাড়াও তাঁরা ঘর ছাড়ার আগে ঘরের সমস্ত আসবাবপত্র ছিন্নভিন্ন করে যাতে পুলিশ এই ঘটনাকে চুরি বা ডাকাতি বলেই প্রথমে সন্দেহ করে।
পুলিশ দুই যুবক, সিদ্ধার্থ দাস (২৩) এবং মুগ্ধ দাস (১৯) কে গ্রেফতার করে শহরের দক্ষিণগঞ্জ শ্মশানঘাট থেকে। ঘটনাসূত্রে জানা যাচ্ছে, অভিযুক্তরা মৃত পরিবারের কোনো আত্মীয় ছিল।
সংখ্যালঘু শ্রেণীর অন্তর্ভুক্ত হওয়ায়, ঘটনা নিয়ে ভিন্ন দিকে চাঞ্চল্য ছড়িয়ে পড়েছে। অনেকেই সন্দেহ করছে এটিকে একটি সাম্প্রদায়িক খুন হিসেবে। ভারতে সোশ্যাল মিডিয়ায় এই নিয়ে নানান অভিসন্ধান ছড়িয়ে পড়েছে এবং এই ঘটনাকে বাংলাদেশের পূর্বের হিন্দু হত্যার ঘটনার সঙ্গে যুক্ত করা হচ্ছে। এদিক অভিযুক্তের পিতাও নাকচ করে বলছেন যে নেশা করলেও ছেলে খুন করতে পারেনা। মৃতের এক কাছের আত্মীয়ও সন্দেহ করে সাংবাদিকদের জানান, যে দুটি নেশাতুর দুর্বল ছেলে একটি পুরো পরিবারের খুন করতে পারে না।
এই নৃশংস ঘটনার পর রবিবার রংপুর জিলা স্কুলের শত শত ছাত্রছাত্রী ক্লাস বর্জন করে প্রতিবাদ জানায় এবং অভিযুক্তদের অবিলম্বে গ্রেপ্তার ও মৃত্যুদণ্ডের দাবিতে রংপুরের প্রশাসনিক কার্যালয়ের দিকে মিছিল করে।

