পেটের টানে পাঠশালা:মেলেনি সরকারি বরাদ্দ। ধারের টাকায় চলছে মিড-ডে মিল

১৬ জন
পড়েছেন

প্রতিবেদন টি শেয়ার করুন

রাজ্যের সরকারি ও সাহায্যপ্রাপ্ত স্কুলগুলিতে মিড-ডে মিল ব্যবস্থা আজ চরম সংকটের মুখে। সংবাদমাধ্যমের সাম্প্রতিক প্রতিবেদন অনুযায়ী, গত তিন মাস ধরে মিড-ডে মিলের সরকারি বরাদ্দ এসে পৌঁছায়নি। এর জেরে পাড়ার দোকান থেকে ধার করে এবং প্রধান শিক্ষকদের পকেটের টাকায় কোনও রকমে চলছে রান্না। প্রশ্ন উঠেছে, রাজ্যের ভবিষ্যৎ অর্থাৎ শিশুদের পুষ্টির মতো একটি অত্যন্ত সংবেদনশীল বিষয় নিয়ে এই রাজনীতি কেন?


​রাজধানী কলকাতার কিছু এলাকায় ইস্কনের মতো সংস্থার মাধ্যমে মিড-ডে মিল সরবরাহ করা হলেও, সিংহভাগ জেলা ও গ্রামীণ স্কুলগুলিতে আগের মতো নিজ দায়িত্বে রান্না করতে হয়। চাল বাদে সবজি, তেল, মশলা থেকে শুরু করে রান্নার গ্যাসের খরচ—সবটাই মেটাতে হয় বরাদ্দ হওয়া অর্থের মাধ্যমে। কেন্দ্র ও রাজ্যের যৌথ অর্থায়নে (৬০:৪০ অনুপাতে) এই প্রকল্প পরিচালিত হলেও, গত তিন মাস ধরে তা বন্ধ।

মিড ডে মিলের পাতে পড়ুয়ারা


​ঝাড়গ্রাম থেকে সোনারপুর কিংবা উত্তর ২৪ পরগনার হাতিয়াড়া হাই মাদ্রাসা—সর্বত্রই একই ছবি। প্রধান শিক্ষকরা জানাচ্ছেন, পাড়ার দোকানদাররা এতদিন ভরসা করে ধার দিলেও এখন আর সামগ্রী দিতে চাইছেন না। শুধু তাই নয়, মিড-ডে মিলের রান্নার সঙ্গে যুক্ত কর্মীরাও গত তিন মাস ধরে কোনো ভাতা পাচ্ছেন না। পেটে ভাত জোগাতে যেখানে হিমশিম দশা, সেখানে শিক্ষার পরিবেশ বজায় রাখা কীভাবে সম্ভব, তা নিয়ে ক্ষোভ বাড়ছে শিক্ষক ও অভিভাবক মহলে।


​এই সংকটের মূল কারণ হিসেবে উঠে আসছে নতুন পোর্টাল ব্যবস্থা। বর্তমানে মিড-ডে মিলের অনুদান পোর্টালের মাধ্যমে ব্লক পর্যায়ে আসার কথা। অভিযোগ উঠেছে, পোর্টালটি আকছার অচল থাকে, যার ফলে টাকা আটকে যাচ্ছে এবং যথাসময়ে স্কুলে পৌঁছাচ্ছে না। রাজ্যের মিড-ডে মিল দফতরের পক্ষ থেকে দায় এড়ানোর চেষ্টা করে বলা হয়েছে যে পোর্টাল সংক্রান্ত সমস্যা অর্থ দফতর বলতে পারবে।প্রশ্ন উঠছে, যদি পোর্টাল বিকল থাকে, তবে বিকল্প পদ্ধতিতে জরুরি ভিত্তিতে অর্থ ছাড়ার কোনো উদ্যোগ কেন নেওয়া হলো না?


​মিড-ডে মিল প্রকল্প কেবল পুষ্টির উৎস নয়, এটি স্কুলে পড়ুয়াদের উপস্থিতি ধরে রাখার প্রধান হাতিয়ার। শিক্ষার অধিকার ও সামাজিক সুরক্ষার প্রশ্নে এই ধরনের আর্থিক টানাপোড়েন সরকারের সদিচ্ছার ওপর বড় প্রশ্নচিহ্ন তোলে। বিরোধীরা ইতিমধ্যেই এই ইস্যুকে সামনে এনে শাসক দলের বিরুদ্ধে দুর্নীতির ও অব্যবস্থাপনার অভিযোগ তুলছে। অথচ, সরকারের তরফ থেকে কোনো সুনির্দিষ্ট বা দ্রুত সমাধানের বার্তা এখনও মেলেনি।
​শিশুদের অন্ন জোগানোর এই লড়াইয়ে রাজনীতি বা আমলাতান্ত্রিক লালফিতের ফাঁস কোনোভাবেই কাম্য নয়। সময় এসেছে বিষয়টিকে সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দিয়ে দেখার, অন্যথায় রাজ্যের শিক্ষা পরিকাঠামোয় এর সুদূরপ্রসারী নেতিবাচক প্রভাব পড়বে।

অন্যান্য প্রতিবেদন.