রামমন্দিরের পর বদ্রীনাথ। হিন্দুদের পবিত্র এই তীর্থস্থানে অনুদান তছরুপের অভিযোগ উঠেছে। ভক্তদের দেওয়া অনুদান চুরির ঘটনায় ইতিমধ্যেই তোলপাড় সোশ্যাল মিডিয়া। বদ্রীনাথ-কেদারনাথ মন্দির কমিটি (বিকেটিসি) এই অভিযোগের বিষয়ে তদন্তের নির্দেশ দিয়েছে। কমিটির সভাপতি হেমন্ত দ্বিবেদী জানিয়েছেন, সোশ্যাল মিডিয়ায় ছড়িয়ে পড়া অভিযোগগুলোকে খতিয়ে দেখা হচ্ছে। একটি তদন্ত কমিটি গঠন করে অভিযুক্তদের কাছে ব্যখ্যা চাওয়া হবে। মুখ্যমন্ত্রী পুস্কর সিং ধামীর নির্দেশে উত্তরাখণ্ড সরকারও একটি তদন্ত কমিটি গঠন করেছে। ১৫ দিনের মধ্যে চাওয়া হয়েছে রিপোর্ট।
শুক্রবার ‘ভৈরব সেনা’ নামে একটি সংগঠন বদ্রীনাথ ধামে আর্থিক তছরুপের অভিযোগ তোলে। মন্দির কমিটির চেয়ারম্যানের ব্যক্তিগত সহকারীর বিরুদ্ধেই উঠেছে তছরুপের অভিযোগ। উত্তরাখণ্ডের এই পবিত্র স্থানে টাকা নয়-ছয় নিয়ে যখন বিতর্ক তুঙ্গে তখনই ঘটনায় নতুন মোড়।
চুরির কথা জানাজানি হওয়ার দুদিন আগেই রহস্যজনকভাবে বদলে ফেলা হয়েছে মন্দিরের সমস্ত সিসিটিভি ক্যামেরা। আর এতেই আরও বেশি সন্দেহ দানা বাঁধতে শুরু করেছে। ভক্তদের অভিযোগ তবে কি প্রমাণ লোপাটের চেষ্টা চলছিল?

যদিও এই বিষয়ে মন্দির কমিটির প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা (CEO) সোহান সিং রাঙ্গাদের দাবি, এতে কোনও রহস্য নেই। পুরোটাই রুটিন প্রক্রিয়া। এক ভক্ত মন্দিরকে অত্যন্ত হাইরেজোলিউশন এবং উন্নত প্রযুক্তির ক্যামেরা দান করেছিলেন। সেই কারণেই পুরনো ৩২টি ক্যামেরার বদলে নতুন ক্যামেরা লাগানো হয়েছে।
ভক্তদের আশ্বাস দেওয়া হয়েছে পুরনো ক্যামেরার সমস্ত ফুটেজ অক্ষত রয়েছে। তদন্তের প্রয়োজনে তা ব্যহহার করার অনুমতিও দেওয়া হবে। অভিযোগ প্রমাণিত হলে কাউকেই রেয়াত করা হবে না বলে হুঁশিয়ারি দেয় কর্তৃপক্ষ। হেমন্ত দ্বিবেদীর প্রাইভেট সেক্রেটারি প্রমোদ নটিয়ালকে আপাতত মন্দিরের সমস্ত কাজকর্ম থেকে সাসপেন্ড করা হয়েছে। ইতিমধ্যেই তার নামে দায়ের হয়েছে একটি FIR-ও।

উল্লেখ্য, বদ্রীনাথে এই মরসুমে প্রায় ৭০ কোটি টাকার অনুদান এসেছে। এছাড়াও বিপুল পরিমাণ আয় হয় মন্দিরের গেস্ট হাউস থেকে। সেই টাকা চুরির অভিযোগ উঠতেই শোরগোল পড়ে গিয়েছে।

