২০২৬-এর বিধানসভা নির্বাচনে তৃণমূল কংগ্রেসের বিপুল পরাজয় এবং ঠিক তার একমাসের মধ্যেই গোটা পরিষদীয় দলের মধ্যে চূড়ান্ত ভাঙন, দল থেকে ‘বহিষ্কৃত’ ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায়ের নেতৃত্বে ৫৮ জন বিদ্রোহী বিধায়কের ‘আসল তৃণমূল’ গড়ে প্রধান বিরোধী দল হিসেবে বিধানসভায় আত্মপ্রকাশ, কলকাতা ও সল্টলেক পুরসভার মেয়র পদ থেকে ফিরহাদ হাকিম ও কৃষ্ণা চক্রবর্তীর পদত্যাগ, দিল্লিতে সংসদীয় দলেও একইরকমভাবে ভাঙন তৃণমূল সরকারের বিগত পনেরো বছরের বিভিন্ন দিক নিয়ে আলোচনা ও ছানবিনের প্রয়োজনীয়তা আজ অবশ্যম্ভাবী করে তুলেছে। ২০১১ সালে সিঙ্গুর-নন্দীগ্রামের ঘটনাকেন্দ্রিক উত্তাল সিভিল সোসাইটি আন্দোলনের উপর নির্ভর করে তৃণমূল কংগ্রেস, জাতীয় কংগ্রেস এবং এসইউসিআই-এর জোট বাংলার ক্ষমতায় আসে। পূর্ববর্তী ৩৪ বছরের বামপন্থী পর্যায়ের শাসনপদ্ধতি ও পরিকল্পনাকে কীভাবে নিজেদের অনুকূলে নিয়ে এসে তারা এক নতুন ধাঁচের শাসনকাঠামো গড়ে তুলেছিল এবং সেই নতুন মডেলের ভিতরের কোন ফাঁকফোকর দিয়ে অবশ্যম্ভাবী ভাঙনের বীজ ঢুকল ও ২০২৬-এ কেবল সরকারই নয়, গোটা দলটাই ভেঙে চুরমার হয়ে গেল, সেই অভূতপূর্ব রাজনৈতিক ঘটনার বিভিন্ন দিক দিয়ে ব্যাখ্যা খোঁজা যেতে পারে। এই লেখায় আমরা সেরকমই দুয়েকটি দিক নিয়ে আলোচনা করতে চাইব।
১৯৭৭-এ ক্ষমতায় আসার পরে বামফ্রন্ট সরকারের জনসমাজে গ্রহণযোগ্যতা গড়ে তোলার একটি অন্যতম অস্ত্র ছিল আংশিক ভূমিসংস্কার এবং বিশেষত গ্রামীণ ও শহুরে দরিদ্র শ্রেণির মধ্যে একটি সুসংহত ‘পার্টি সোসাইটি’ গড়ে তোলার নিশ্ছিদ্র প্রক্রিয়া। সমাজতত্ত্ববিদ পার্থ চট্টোপাধ্যায় যে ‘রাজনৈতিক সমাজে’র কথা তাঁর একাধিক লেখায় বিশ্লেষণ করেছেন, তাকেই আরও গভীর তাত্ত্বিক পরিসরে ব্যাখ্যা করেছেন দ্বৈপায়ন ভট্টাচার্য। এই ‘পার্টিসমাজ’ এমনই এক ব্যবস্থা যেখানে জনসমাজের প্রত্যেকটি রন্ধ্রে রন্ধ্রে পার্টির নিরঙ্কুশ অনুপ্রবেশ ও আধিপত্য প্রতিষ্ঠিত হয়। জনগণ এবং শাসক পার্টির ভিতরে মধ্যস্থতার কাজটিও করে এই ‘পার্টি সোসাইটি’র কুশীলবেরা। ‘গভর্নমেন্ট অ্যাজ প্র্যাক্টিস: ডেমোক্রেটিক লেফট ইন আ ট্রান্সফর্মিং ইন্ডিয়া’ বইতে দ্বৈপায়ন এই ‘পার্টিসমাজ’কে ব্যাখ্যা করেছেন এইভাবে—’Party society is the modular form of political society in West Bengal’s countryside…in the conditions to other groups, thereby splitting settled communities on partisan lines’ (pp.126-127)। বাংলার জনসমাজে বামজমানায় এই ‘পার্টি সোসাইটি’র আধিপত্য বিস্তার ও তাকে ধরে রাখার কাজটায় সবচেয়ে প্রত্যক্ষভাবে যারা সাহায্য করেছিলেন, তাঁরা মূলত শিক্ষক ও সরকারি কর্মচারী সংগঠনের লোকজন। তাঁরা নিজেরাও পার্টির ঘনিষ্ঠ এবং অনেকেই পার্টিসদস্যও বটে। সামাজিক এমনকি পারিবারিক জীবনের ভিতরেও এই ‘পার্টি সোসাইটি’র অনুপ্রবেশ এমনভাবে ঘটেছিল যে, পুরো ব্যাপারটাই ‘নরম্যালাইজড’ হয়ে যায়। এই গোটা প্রক্রিয়ায় জনসমাজ আর পার্টির সম্পর্ককে ‘সিমেন্টিং’ করার কাজটা করেছিল বামপন্থী দলগুলির মতাদর্শ। অর্থাৎ মতাদর্শের সম্প্রসারণই এই ‘ডিসেমিশেন’-এর কাজটা মসৃণভাবে করত। তার মানে আদৌ এটা নয় যে, বাংলার সমস্ত মানুষ বামপন্থী মতাদর্শের অগ্রণী সৈনিকে রূপান্তরিত হয়েছিল। কিন্তু বলপ্রয়োগ আর ‘হেজিমনি’ নির্মাণের মধ্যে একটা সামঞ্জস্য বজায় ছিল দীর্ঘদিন অব্দি।
এই ‘পার্টি সোসাইটি’র চেহারাই বদলে যেতে আরম্ভ করে একুশ শতকের গোড়া থেকে। ১৯৮০ থেকে একাধিক পে-কমিশন, চাকরিগত সুযোগসুবিধার বৃদ্ধি আর এক নয়া ভোগবাদী মধ্যবিত্ত শ্রেণির উত্থান যেমন একদিকে বামপন্থার মতাদর্শগত ক্ষয় ঘটাচ্ছিল, তেমনই সাংস্কৃতিক পুঁজির বদলে ছোটো ব্যবসা ও লেনদেন-ভিত্তিক ব্যবসায়িক কারবারের উপর নির্ভরশীল এক নয়া নেতৃত্বের উদ্ভব ঘটছিল, যাদের মধ্যে ছিল শহর-গ্রামের ছোটো ব্যবসায়ী, ঠিকাদার, মহাজন, সুদের কারবার-করা লোকজন ইত্যাদি। এই শ্রেণিই সিঙ্গুর-নন্দীগ্রাম গণ-আন্দোলনের পর্যায় থেকেই ধীরে ধীরে পার্টিসমাজের দখলদারিত্ব নিজেদের হাতে নিয়ে নেয় এবং নতুন শাসক তৃণমূল কংগ্রেসের পিছনে সরাসরি দাঁড়িয়ে যায়। এরাই মমতা ব্যানার্জির নেতৃত্বে নতুন সরকারের আমলে সামাজিক ক্ষমতার পুনর্গঠন প্রক্রিয়ায় নেতৃত্ব দেয়। ক্যাডারভিত্তিক পার্টি নয় বলেই তৃণমূল কংগ্রেস বিভিন্ন জনমুখী প্রকল্প চালুর পাশাপাশি এই নব্যধনী শ্রেণির হাতে রাজনৈতিক ক্ষমতা স্থানান্তরিত করে দিতে বাধ্য হয়। ফলত, সরকারি চাকরিনির্ভর শিক্ষিত মধ্যবিত্তের হাতে আর সামাজিক আধিপত্যের জায়গাটা থাকে না। সেটা চলে যায় এই ক্ষুদ্র ও মাঝারি ব্যবসার সঙ্গে যুক্ত নয়া-সম্পদশালী শ্রেণির হাতে। বকেয়া ডিএ দেব না, মহার্ঘ ভাতা চেয়ে “ঘেউ ঘেউ করবেন না”, মমতা ব্যানার্জির এই জাতীয় ঔদ্ধত্যের নিহিত কারণ লুকিয়ে রয়েছে এই শ্রেণিগত আধিপত্যের প্রতিসরণে। ‘স্বনিযুক্ত’, ব্যবসায়ী, বিভিন্ন ধরনের আইনি-বেআইনি কাজে জড়িয়ে থাকা এক নব্য-সচ্ছল শ্রেণি এবার সামাজিক আধিপত্যের জায়গায় চলে এল তৃণমূল জমানায়।
তৃণমূল শাসনের পনেরো বছরে এই নয়া-বিত্তবান, সাংস্কৃতিক পুঁজিবিহীন, প্রথাগত শিক্ষায় পিছিয়ে-থাকা নব্য-অভিজাত শ্রেণিটির হাতে যে ব্যবস্থা গড়ে উঠল, তাকেই ‘ফ্র্যাঞ্চাইজি সমাজ’ বলা যেতে পারে। এখানে পলিটিক্যাল আধিপত্য ও ক্ষমতার বিস্তার কোনও সুসংহত পার্টি-কাঠামোর মধ্য দিয়ে নয়, বরং একধরনের পেট্রন-ক্লায়েন্ট সম্পর্কের মধ্য দিয়ে পরিচালিত। ব্যক্তিগত, সামাজিক, গোষ্ঠীগত ও আর্থিক স্বার্থের দেওয়া-নেওয়াই এই ‘ফ্র্যাঞ্চাইজি সমাজে’র মূল লক্ষণ। মতাদর্শ বা সংগঠনের চেয়েও এক্ষেত্রে বেশি গুরুত্বপূর্ণ হয়ে ওঠে স্থানীয় নেতৃত্ব এবং অনুগামী কর্মীবাহিনী ও তাদের পরিবারের অর্থনৈতিক শক্তি ও ‘পাইয়ে দেবার’ সক্ষমতা। যেকোনও ‘ফ্র্যাঞ্চাইজি’ প্রতিষ্ঠানের মতোই ক্রমশ তৃণমূল কংগ্রেস দলের এই পার্টিকাঠামোটিও রাজ্যব্যাপী একটি বিরাট প্রতিষ্ঠিত রাজনৈতিক ব্র্যান্ডনির্ভর, প্রত্যেকটি এলাকায় ক্ষুদ্র-মাঝারি স্থানিক চুক্তির শর্তে আবদ্ধ একদিকে আনুগত্য, অন্যদিকে অর্থনৈতিক-রাজনৈতিক লভ্যাংশ উপরে পৌঁছে দেবার কারিগরিতে পর্যবসিত হয়েছিল। প্রথমদিকে মমতা ব্যানার্জি নিজেই ছিলেন সেই অবিসংবাদিত ‘ব্র্যান্ড’, যার আওতায় এই স্থানিক ‘ফ্র্যাঞ্চাইজি’গুলো কাজ করতে আরম্ভ করেছিল। কিন্তু সুসংহত রেজিমেন্টেড পার্টিকাঠামোবিহীন, হার্ডকোর মতাদর্শবিহীন কেবল অ্যাড-হক চাহিদা ও তাৎক্ষণিক তাগিদভিত্তিক এই ‘ফ্র্যাঞ্চাইজি’ মডেলের সংকট ঘনীভূত হতে লাগল দুদিক থেকে। প্রথমত, সম্পূর্ণ বিরোধী রাজনৈতিক পরিসরটুকু ছলে-বলে-কৌশলে দখল করে নেবার আগ্রাসী মানসিকতা। দ্বিতীয়ত, বাংলায় তৃণমূলের এই দিশাহীন সুবিধাবাদী রাজনীতির বিকল্প পরিসরটি সঙ্ঘ পরিবারের হিন্দুত্ববাদী রাজনীতির আগ্রাসী উত্থানের মধ্যে দিয়ে এক অনতিক্রম্য চ্যালেঞ্জ হিসেবে দাঁড়িয়ে যাওয়া। তৃণমূলের ‘ফ্র্যাঞ্চাইজি’ রাজনীতি এই কঠিন চ্যালেঞ্জের মোকাবিলায় সম্পূর্ণ ব্যর্থ হল, কারণ, এই রাজনৈতিক লড়াইকে শুধুমাত্র আর্থিক ও অন্যান্য সুযোগ-সুবিধা দানের ‘পেট্রন-ক্লায়েন্ট’ মডেল দিয়ে প্রতিরোধ করা ছিল অসম্ভব।
এলাকায় এলাকায় পার্টির অস্তিত্ব গড়েই উঠেছিল বিভিন্ন উপায়ে টাকা তোলা এবং সেই আর্থিক সঞ্চয়নের উপর নির্ভরশীল এক নতুন গোষ্ঠীর উপর নির্ভর করে। ২০১৯-র লোকসভা নির্বাচনে বিজেপির ১৮ টি আসন ও ৪০ শতাংশ ভোট পাবার পরে যে ভোটকুশলী সংস্থার সঙ্গে হাত মিলিয়ে পার্টি সাময়িক সাফল্য পেল ২০২১ এবং ২০২৪-এও, সেই মধ্যস্থতাকারী বাণিজ্যিক সংস্থাটি যখন এই ফ্র্যাঞ্চাইজি সিস্টেমের নিয়ন্ত্রক হয়ে দাঁড়াল, যখন সে রাজ্যের প্রত্যেকটি এলাকাতেই দলের রাজনীতিও নিয়ন্ত্রণ করতে আরম্ভ করল, তখন পুরো যান্ত্রিক ব্যবস্থাটিই ভিতর থেকে ভেঙে পড়েছিল। বাহ্যিক চাকচিক্য তার ওই অন্তঃসারহীন চেহারাটা আড়াল করতে পারেনি। পারস্পরিক লেনদেন একটা কর্পোরেট সংস্থাকে চালনা করতে পারে, কিন্তু রাজনীতিতে মানুষ নিয়ে কারবার, সেখানে ওই কর্পোরেট ‘ফ্র্যাঞ্চাইজি’ মডেল প্রয়োগ করতে গেলে যে বিপর্যয় ঘটবে সেই আঁচটুকুও দলের শীর্ষনেতৃত্ব হয় টের পায়নি, নয়তো ততোদিনে তাদের হাত থেকে বেরিয়ে গেছে গোটা ব্যবস্থাটাই। রাজ্যে দীর্ঘ দু’দশক বৃহৎ পুঁজিনিবিড় শিল্প আসতে দেওয়া হয়নি, বড়ো বিনিয়োগ আসেনি, ফলত, পার্টিঘনিষ্ঠ অসংখ্য মানুষের জীবিকার উৎসই হয়ে দাঁড়িয়েছে ক্ষুদ্র ও মাঝারি পরিষেবাক্ষেত্রের ইউনিটসমূহ। এই ইউনিটগুলির মধ্যে রয়েছে কাঁচামাল সরবরাহ, সরকারি প্রকল্পের বাস্তবায়ন, রিয়েল এস্টেটের ব্যবসা, পরিবহন নেটওয়ার্ক, চালকল-তেল-খাদ্যপণ্য-ট্রেডিং নেটওয়ার্ক, মহাজনী কারবার-জাতীয় অনানুষ্ঠানিক অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ড। বে-আইনি কয়লা-বালি উত্তোলন, গোরু পাচার, জলাজমি-জঙ্গল ধ্বংস করে বে-আইনি নির্মাণ—এই ব্যাপক দুর্নীতির এক বৃহৎ ইকোসিস্টেমে এতো মানুষ জড়িয়ে পড়েছিলেন যেটা তাঁদের বেঁচে থাকার অন্যতম মাধ্যম এবং উপায়ে পরিণত হয়েছিল। একদিকে ‘ফ্র্যাঞ্চাইজি’র আঞ্চলিক স্তরের নেতারা দেড়দশকে ফুলে-ফেঁপে উঠেছিল এবং তাদের সেই অস্বাভাবিক বিত্ত-বৃদ্ধির সঙ্গে জড়িয়ে গিয়েছিল জনসমাজের একটা বৃহৎ অংশ। তারাই ক্ষমতা এবং অর্থের প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষ ‘বেনিফিশিয়ারি’। এই ‘বেনিফিট’ বজায় রাখার জন্যই গোটা সিস্টেমের সঙ্গে জড়িয়ে গিয়েছিল পুলিশ-প্রশাসন। গবেষক সুমন নাথ এই দুর্নীতির ব্যাপক চক্রটিকে সমাজের ক্ষেত্রে ‘নেসেসারি ইভিল’ হিসেবে চিহ্নিত করেছেন (Everyday Politics and Corruption in West Bengal, Economic and Political Weekly, Vol. 52, No. 21, May 27, 2024)। এই ‘বাধ্যতামূলক দুর্নীতি’র অলাতচক্রই তৃণমূল কংগ্রেসের জন্য সর্বাত্মক বিপর্যয় ডেকে এনেছে এবারের নির্বাচনে। মানুষ যে কখন পাশ থেকে সরে গেছে এই সামূহিক দুর্নীতি আর গা-জোয়ারির কারণে, নেতৃত্ব তা বুঝতেই পারেননি।
এতোকিছু সত্ত্বেও হয়তো শেষরক্ষা হত, যদি হার্ডকোর মতাদর্শের ‘সিমেন্টিং’ দিয়ে নিজেদের সামাজিক হেজিমনি তৈরি করতে পারত তৃণমূল কংগ্রেস। কিন্তু সেদিক দিয়েও তারা ব্যর্থ। লালুপ্রসাদ যাদবের ‘রাষ্ট্রীয় জনতা দল’, অখিলেশ যাদবের ‘সমাজবাদী পার্টি’ বা স্তালিনের ‘ডিএমকে’ নির্বাচনী বিপর্যয়ের পরেও নিজেদের অস্তিত্ব টিঁকিয়ে রাখতে পেরেছে, আগামীদিনেও হয়তো পারবে। কারণ, প্রথম দুটি দলের ক্ষেত্রে জাতপাতের বঞ্চনাজনিত রাজনীতি ও জাতি-বর্ণগত উন্নয়নের আকাঙ্ক্ষা, যা ভারতীয় সমাজের সুদীর্ঘ তিনহাজার বছরব্যাপী বর্ণগত লড়াইয়ের ধারাবাহিকতারই অংশ, তা কার্যকরী হয়েছে। স্তালিনের ক্ষেত্রে উত্তরভারতীয় হিন্দি আধিপত্যবাদবিরোধী ‘দ্রাবিড় অস্মিতা’র এক শক্ত জমির উপর দাঁড়িয়ে রাজনীতি করার লম্বা ঐতিহাসিক উত্তরাধিকার রয়েছে। কিন্তু তৃণমূল কংগ্রেস এরকম কোনও মতাদর্শগত আধিপত্যের জায়গা গড়েই তুলতে পারেনি। তাদের ‘বাঙালি অস্মিতা’ এক পলকা, ঠুনকো এবং বনিয়াদবিহীন মিথ্যাচার, কারণ হিন্দি আধিপত্যের বিরুদ্ধে কিছু দেখনদারি কর্মসূচি ব্যতীত কোনও কংক্রিট আইডিওলজি তারা অনুসরণ করেইনি। বিজেপি ও সঙ্ঘ পরিবারের ‘হার্ড হিন্দুত্বে’র বিপরীতে তারা মরীয়া হয়ে ‘নরম হিন্দুত্বে’র লাইন নিয়েছিল। ফলত, দুর্নীতির ইকোসিস্টেমটি সহ্যের সীমা ছাড়িয়ে যাবার সঙ্গে সঙ্গে তাদের নকল বুঁদির কেল্লা তাসের ঘরের মতো ভেঙে পড়া ছিল কেবল সময়ের অপেক্ষা মাত্র।