গাজায় ফের ইসরায়েলি হামলা: ২৪ ঘন্টায় নিহত ৭

৩ জন
পড়েছেন

প্রতিবেদন টি শেয়ার করুন

মধ্যপ্রাচ্যের সংঘাতপূর্ণ ভূখণ্ডে শান্তি ও স্থিতিশীলতার সব কূটনৈতিক প্রচেষ্টা যখন বারবার হোঁচট খাচ্ছে, ঠিক তখনই গাজা উপত্যকায় ইসরায়েলি সামরিক বাহিনীর অব্যাহত আগ্রাসন নতুন করে মানবিক ও রাজনৈতিক সংকটকে ঘনীভূত করছে। সাম্প্রতিক এক প্রতিবেদনে উঠে এসেছে গাজায় ইসরায়েলি হামলায় গত ২৪ ঘণ্টায় আরও ৭ জন ফিলিস্তিনির নিহত এবং ২৪ জন আহত হওয়ার খবর।


প্রতিবেদন সূত্রে জানা যায়, ২০২৩ সালের অক্টোবর থেকে শুরু হওয়া সর্বাত্মক যুদ্ধের পর গাজায় একটি তথাকথিত ‘যুদ্ধবিরতি’ বা রাজনৈতিক সমঝোতার কথা বলা হলেও বাস্তবচিত্র সম্পূর্ণ বিপরীত। ২০২৫ সালের অক্টোবরে যুদ্ধবিরতি কার্যকর হওয়ার পর থেকে এ পর্যন্ত ইসরায়েলি হামলায় ১,৫৩৪ জন ফিলিস্তিনি প্রাণ হারিয়েছেন এবং আহত হয়েছেন ৫,৪৮০ জন। একই সঙ্গে, উদ্ধারকর্মীরা ধ্বংসস্তূপের নিচ থেকে ৮৪১টি মৃতদেহ উদ্ধার করতে সক্ষম হয়েছেন। এই পরিসংখ্যান স্পষ্টভাবে নির্দেশ করে যে, যুদ্ধবিরতি চুক্তিগুলো কেবল কূটনৈতিক বাহানা হিসেবে কাজ করছে। গাজার সাধারণ মানুষের জীবনের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে তারা সম্পূর্ণ ব্যর্থ ।
২০২৩ সালের অক্টোবর থেকে চলমান এই রক্তক্ষয়ী সংঘাতের সামগ্রিক চিত্র অত্যন্ত ভয়াবহ।

আল জাজিরা ও গাজার স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের তথ্য অনুযায়ী, এ পর্যন্ত এই যুদ্ধে মোট ৭৪,৪৯৪ জন ফিলিস্তিনি নিহত এবং ১,৭৫,৬০৪ জন আহত হয়েছেন। এই বিশাল সংখ্যক হতাহত ও অবকাঠামোগত ধ্বংসযজ্ঞ কেবল গাজার ভৌগোলিক অস্তিত্বকেই বিপন্ন করেনি, বরং বিশ্ব মানবতার নৈতিক ভিত্তিকে এক গভীর সংকটের মুখে ঠেলে দিয়েছে। চিকিৎসাকেন্দ্র, শিক্ষা প্রতিষ্ঠান এবং আশ্রয়শিবিরগুলো নিয়মিত হামলার লক্ষ্যবস্তু হওয়ায় আন্তর্জাতিক মানবাধিকার আইন ও যুদ্ধাপরাধের প্রশ্নগুলো আবারও তীব্রভাবে সামনে চলে এসেছে।


রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, গাজায় ইসরায়েলি আগ্রাসন থামাতে আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের দ্বিমুখী নীতি পরিস্থিতিকে আরও জটিল করে তুলছে। জাতিসংঘ এবং ক্ষমতাধর রাষ্ট্রগুলোর পক্ষ থেকে নামমাত্র নিন্দা জানানো হলেও ইসরায়েলি সামরিক কৌশলকে থামানোর মতো কোনো কার্যকর অর্থনৈতিক বা রাজনৈতিক নিষেধাজ্ঞা আরোপ করা হয়নি। মধ্যপ্রাচ্যের ভূ-রাজনীতিতে নিজেদের আধিপত্য বজায় রাখার স্বার্থে পরাশক্তিগুলোর এই নিষ্ক্রিয়তা ফিলিস্তিনি জনগণের ন্যায়বিচার পাওয়ার পথকে দিন দিন আরও দীর্ঘ ও কণ্টকাকীর্ণ করে তুলছে।


গাজায় সাম্প্রতিক এই প্রাণহানি এবং সামগ্রিক সাড়ে ৭ লাখের বেশি মানুষের হতাহতের ঘটনা বিশ্ব রাজনীতির এক লজ্জাজনক অধ্যায়। যতদিন পর্যন্ত আন্তর্জাতিক সম্প্রদায় ইসরায়েলের ওপর কার্যকর চাপ সৃষ্টি না করবে এবং ফিলিস্তিনিদের আত্মনিয়ন্ত্রণ অধিকার ও সার্বভৌমত্বকে স্বীকৃতি না দেবে, ততদিন এই রক্তক্ষয়ী সংঘাতের স্থায়ী সমাধান অসম্ভব। ফিলিস্তিনিদের এই অবিরাম যন্ত্রণা ও রাজনৈতিক অনিশ্চয়তা কেবল মধ্যপ্রাচ্যের আঞ্চলিক নিরাপত্তাই নয়, বরং সমগ্র বিশ্বব্যবস্থার ন্যায়বিচার ও শান্তির ভবিষ্যৎকে গভীরভাবে প্রশ্নবিদ্ধ করছে।

অন্যান্য প্রতিবেদন.