আরএসএস প্রধান মোহন ভাগবতের আসন্ন যুক্তরাষ্ট্র সফরের প্রাক্কালে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের একটি সরকারি সংস্থা—‘ইউএস কমিশন অন ইন্টারন্যাশনাল রিলিজিয়াস ফ্রিডম’ (USCIRF)—আরএসএস-এর বিরুদ্ধে নিষেধাজ্ঞা আরোপের যে আহ্বান জানিয়েছে, তা আন্তর্জাতিক রাজনীতি ও ভারত-মার্কিন দ্বিপাক্ষিক সম্পর্কের ক্ষেত্রে একটি নতুন বিতর্কের জন্ম দিয়েছে।
ইউএস কমিশন অন ইন্টারন্যাশনাল রিলিজিয়াস ফ্রিডম (USCIRF) হলো মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের কংগ্রেস দ্বারা প্রতিষ্ঠিত একটি স্বাধীন দ্বিদলীয় ফেডারেল সংস্থা, যা বিশ্বজুড়ে ধর্মীয় স্বাধীনতার বিষয়গুলো পর্যবেক্ষণ করে। সাম্প্রতিক এক বিবৃতিতে, USCIRF-এর চেয়ার আসিফ মাহমুদ এবং কমিশনার জিন মিলস আরএসএস-এর বিরুদ্ধে বেশ কিছু কঠোর অবস্থানের কথা জানিয়েছেন।
উল্লেখ্য যে, ২০২৬ সালের মার্চ মাসে প্রকাশিত বার্ষিক প্রতিবেদনেও এই কমিশন ভারতকে ‘কান্ট্রি অব পার্টিকুলার কনসার্ন’ (CPC) হিসেবে আখ্যায়িত করার সুপারিশ করেছিল এবং আরএসএস-এর ওপর নিষেধাজ্ঞার প্রস্তাব দিয়েছিল।
ভারত সরকার অত্যন্ত কঠোরভাবে এই সুপারিশ প্রত্যাখ্যান করেছে। ভারতের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র রণধীর জয়সোয়াল এই সংস্থাকে ‘পক্ষপাতদুষ্ট’ এবং ‘বিশ্বাসযোগ্যতাহীন’ বলে বর্ণনা করেছেন।
ভারতের পাল্টা অভিযোগ, এই কমিশন পশ্চিমা আদর্শিক বা রাজনৈতিক অ্যাজেন্ডা নিয়ে কাজ করে এবং ভারতে হিন্দু মন্দিরগুলোর ওপর আক্রমণ বা প্রবাসী ভারতীয়দের নিরাপত্তা ঝুঁকির মতো বিষয়গুলো এড়িয়ে যায়।
এই পরিস্থিতির নেপথ্যে বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ রাজনৈতিক সমীকরণ কাজ করছে বলে বিশেষজ্ঞদের মত৷ USCIRF একটি সরকারি পরামর্শদাতা সংস্থা হলেও এর সুপারিশসমূহ মার্কিন সরকারের জন্য বাধ্যতামূলক নয়। বাইডেন প্রশাসন বা মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তর এই সুপারিশ বাস্তবায়নে বাধ্য নয়। তবে এই ধরনের বয়ান ভারত-মার্কিন কৌশলগত সম্পর্কের ওপর চাপ সৃষ্টি করে, বিশেষ করে যখন দুই দেশের প্রতিরক্ষা ও প্রযুক্তিগত সম্পর্ক গভীর হচ্ছে।
মোহন ভাগবতের এই সফর মূলত আরএসএস-এর শতবর্ষের প্রাক্কালে প্রবাসীদের সঙ্গে সরাসরি সংযোগ স্থাপনের একটি প্রয়াস। মার্কিন কমিশন এই সফরের আগেই নিষেধাজ্ঞা বা বয়কটের কথা বলে সফরটিকে একটি ‘কূটনৈতিক পরীক্ষায়’ পরিণত করার চেষ্টা করেছে। যদি মার্কিন সরকারি কর্মকর্তারা তার সঙ্গে দেখা করেন, তবে মানবাধিকার কর্মীদের সমালোচনার মুখে পড়ার আশঙ্কা থাকে; আবার যদি দেখা না করেন, তবে তা ভারতের সমর্থকদের কাছে ‘রাজনৈতিক বিদ্বেষ’ হিসেবে গণ্য হবে।
সংক্ষেপে, এই ঘটনাটি প্রমাণ করে যে আন্তর্জাতিক রাজনীতিতে ধর্মীয় স্বাধীনতা ও মানবাধিকার এখন বড় বড় শক্তির মধ্যে আলোচনার একটি কেন্দ্রীয় ও সংবেদনশীল বিষয় হয়ে দাঁড়িয়েছে। USCIRF-এর দাবি মার্কিন নীতিতে সরাসরি কোনো প্রভাব ফেলার সম্ভাবনা কম থাকলেও, এটি ভারত ও আমেরিকার কূটনৈতিক সম্পর্কের ক্ষেত্রে এটি । ভারত সরকার বরাবরই এই ধরনের সমালোচনাকে তাদের জাতীয় সার্বভৌমত্বের ওপর আক্রমণ বলে বিবেচনা করে, ফলে অদূর ভবিষ্যতে এই ধরনের আন্তর্জাতিক টানাপোড়েন অব্যাহত থাকার সম্ভাবনা রয়েছে।

