ঝাড়খণ্ড পাবলিক সার্ভিস কমিশন (JPSC) এবং ঝাড়খণ্ড স্টাফ সিলেকশন কমিশন (JSSC)-এর নিয়োগ পরীক্ষায় অনিয়ম এবং কারচুপির বিরুদ্ধে আন্দোলন জারি রয়েছে ঝাড়খণ্ডে। শান্তিপূর্ণ লাগাতার আন্দোলনকে হাতিয়ার করেই নিজেদের দাবিতে অনড় ছাত্র-ছাত্রীরা। ইতিমধ্যেই তাঁদের আন্দোলনের জেরে নড়েচড়ে বসেছে প্রশাসন। আন্দোলনকারীদের সঙ্গে দুই দফা বৈঠক করেও সুরাহা হয়নি। তবে আন্দোলনের চাপে পাবলিক সার্ভিস কমিশনের ৩ জন সদস্য ইস্তফা দেন। রাজ্যসরকারের অনুমোদনে ড. অজিতা ভট্টাচার্য, ড. অনিমা হাঁসদা এবং ড. জামাল আহমেদ এর পদত্যাগ পত্র গৃহীত হয়েছে রাজভবনে।
ছাত্রদের দাবি ছিল সিবিআই তদন্ত। ঝাড়খণ্ডের হেমন্ত সোরেনের সরকার রাজি হয়েছে ইডিকে তদন্তভার দিতে। কিন্তু ছাত্রদের দাবি তদন্তভার সিবিআই-কে না দেওয়া অবধি আন্দোলন জারি রাখবে তারা। আজ, ১০ অগাস্ট শান্তিপূর্ণভাবেই বিধানসভা ঘেরাও কর্মসূচি চলবে বলে জানিয়েছে ছাত্ররা।

১০ আগস্ট, সোমবার রাঁচিতে জেপিএসসি-জেএসএসসি পরীক্ষার্থীদের প্রস্তাবিত ‘বিধানসভা ঘেরাও’ কর্মসূচির আগে রবিবার ঝাড়খণ্ড পাবলিক সার্ভিস কমিশন (JPSC)-এর তিন সদস্য-এর পদত্যাগ নিঃসন্দেহে বাড়তি অক্সিজেন জুগিয়েছে বিক্ষোভকারীদের।
আলোচনার পর ঝাড়খণ্ডের মন্ত্রী সুদিভ্য কুমার সোনু জানান, পড়ুয়াদের একাধিক দাবি মেনে নিতে সম্মত হয়েছে রাজ্য সরকার। তার মধ্যে অন্যতম পরীক্ষা বাতিলের দাবিও। যদিও, সরকার ৯৮ শতাংশ দাবি মেনে নেওয়ার কথা জানানোর মাত্র দু’ঘণ্টার মধ্যেই সাংবাদিক বৈঠক করে পড়ুয়ারা এই বক্তব্যের বিরোধিতা করেন। তাঁদের অভিযোগ, JSSC-CGL পরীক্ষার CBI তদন্তের দাবি সরকার এখনও মেনে নেয়নি। এছাড়াও পড়ুয়াদের দাবি, তারা মোট ১৩টি পরীক্ষা বাতিলের দাবি জানিয়েছিলেন। কিন্তু সরকার মাত্র তিনটি পরীক্ষা বাতিলের অনুমোদন দিয়েছে। তাই বিধানসভা অভিযানের সিদ্ধান্তে অনড় পড়ুয়ারা।

ঝাড়খণ্ডের ছাত্রনেতা দেবেন্দ্র নাথ মাহতো তাঁর অনির্দিষ্টকালের অনশন কর্মসূচির আজ ১৭ তম দিন। সিবিআই তদন্তের দাবি জানিয়ে তিনি বলেন, শুধু তদন্ত করলেই হবে না। দ্রুত বিচার, দোষীদের বিরুদ্ধে কঠোর পদক্ষেপ এবং নিয়োগ ব্যবস্থায় বৃহত্তর সংস্কার করতে হবে।

