সাংবাদিক সম্মেলন, শেখ হাসিনা ফের খবরে! তারেক নাকি হাসিনা? কী ভাবছে দিল্লী? ক্যাম্পাসে গ্রাফিতিতে চুনকাম ও রাষ্ট্রের ছায়া বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় জয় বন্ধ করে সার্বিক হোক নির্বাচন! তবেই সাপমুক্তি হবে পশ্চিমবঙ্গের? বিজেপির বিরুদ্ধে ভোটে জিতে মোদীর সঙ্গে ব্রেকফাস্ট! সায়নী, কাকলীরা আর জিতবেন? প্রতিবাদী মানেই ‘অ্যান্টিন্যাশনাল’ নয়, ভাগবতের কথা কি মাথায় রাখবে তথাকথিত ‘দেশভক্ত’রা? বাঁকিপুরের ঝাঁকি, সঙ্গে CJP! ঘুরে দাঁড়াতে পারবে BJP? গোষ্ঠীদ্বন্দ্ব কাঁটা মোদী-শাহ’র CPIM থেকে BJP হয়ে তৃণমূল! বিরোধী হলেই কাদা-ডিম্ ছোঁড়ার রাজনীতি বাংলায়, কবে বদলাব আমরা? জমিতেও হিন্দু-মুসলমান? মুখ্যমন্ত্রীর ‘ল্যান্ড জিহাদ’ মন্তব্যে শোরগোল বঙ্গ রাজনীতিতে

‘হ্যালো ফ্রেন্ডস!’ জেনজিদের দৌলতে ‘মন কি বাত’ এবার সোশ্যাল মিডিয়াতেই?

১৩ জন
পড়েছেন

প্রতিবেদন টি শেয়ার করুন

“Revolution does not necessarily involve sanguinary strife. It is not a cult of bomb and pistol.” অর্থাৎ
“বিপ্লব মানেই রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষ নয়। বিপ্লব বোমা ও পিস্তলের উপাসনাও নয়।” বলেছিলেন শহীদ ভগৎ সিং।

সেই পথ ধরেই এক নতুন দিগন্ত দেখিয়েছে দেশের নতুন প্রজন্ম। সংঘর্ষ নয় তাঁদের দাবি দাওয়া জানানোর অস্ত্র হয়ে উঠেছে ফেসবুক ভিডিও, রিল, মিম থেকে প্যারোডি। যারা শারীরিকভাবে এই আন্দোলনে যোগ দিতে পারেননি, তাঁদের সংহতির মাধ্যম হয়ে উঠেছিল সোশ্যাল মিডিয়া। শুধু তাই কেন? এতবড় আন্দোলনের একটি মঞ্চও তৈরি হয়েছিল কেবল একটি পেজ থেকে। সুপ্রিমকোর্টের প্রধান বিচারপতির একটি মন্তব্যের উপর ভিত্তি করে তৈরি হয়েছিল আস্ত- ‘ককরোচ জনতা পার্টি’। যার ফলোয়ার্স রাতারাতি ছাপিয়ে গিয়েছিল দেশের বৃহত্তম রাজনৈতিক দল ভারতীয় জনতা পার্টিকেও। প্রথম দিকে মেইনস্ট্রিম মিডিয়া এই আন্দোলনকে বিশেষ গুরুত্বের চোখে দেখেনি। কিন্তু তাতে কী? পরবর্তীতে আন্দোলনকারীরা লাইক, শেয়ার, রিপোস্টকে হাতিয়ার করে তাঁদের বার্তা পৌঁছে দেশের প্রতিটা কোনায়।

আর এর থেকে শিক্ষা নিয়েছেন স্বয়ং প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদিও। আন্দোলন চলা কালীন কেন্দ্রীয় মন্ত্রিসভার বৈঠকে তিনি বলেন, “তরুণরা ইনস্টাগ্রামে রয়েছেন। এটা নাগরিকদের জন্য একটি শক্তিশালী ক্ষেত্র, যার সঙ্গে আমাদের সবারই সংযুক্ত হওয়া প্রয়োজন।” শুধু তাই নয় বৈঠকে তিনি সহকর্মীদের জিজ্ঞেস করেন কতজন নিয়মিত ইনস্টাগ্রামে সক্রিয়? পাশাপাশি তিনি এও বলেন প্রতিদিন কোটি কোটি যুবক এই প্ল্যাটফর্ম ব্যবহার করছেন।

যেমন বলা তেমন কাজ। নরেন্দ্র মোদি শুধু মন্ত্রীদের উপদেশ দিলেই ক্ষান্ত রইলেন না। রাতারাতি তিনিও জেনদি-দের কায়দাতেই ভিডিও বানানো শুরু করলেন সোশ্যাল মিডিয়ায়। ২০ জুলাই সংসদ অভিযানকে ঘিরে ধুন্ধুমার হল রাজধানীতে। তার ঠিক দিন তিনেকের মাথাতেই ২৩ জুলাই রাত্রে সেলফি ক্যামেরায় প্রথম ভিডিও বানালেন নরেন্দ্র মোদি। ক্রমে তাঁর জনপ্রিয় ‘মন কি বাত’ এর মাধ্যম হয়ে উঠল সোশ্যাল মিডিয়া। সেই ভিডিওতে প্রশ্নফাঁস রুখতে ফাস্টট্র্যাক কোর্টে তদন্তের আশ্বাস দিয়েছিলেন মোদি। বলেছিলেন প্রশ্নপত্র ফাঁসের ঘটনা কোনও সামান্য বিষয় নয়। এটি পড়ুয়াদের ভবিষ্যৎ নিয়ে তৈরি অত্যন্ত গুরুতর সমস্যা। নরেন্দ্র মোদির ওই রিলস মাত্র ২৪ ঘন্টায় ভিউ পেয়েছিল ৩২ কোটি ৮০ লক্ষ। যা কার্যত বিশ্ব রেকর্ড। একটি ভিডিও এমন সাড়া পেল। ফের পরের রাতেই ভিডিও বানালেন প্রধানমন্ত্রী।মোদি বললেন , ‘কাল রাতে যে ভিডিয়ো পোস্ট করেছিলাম, তার জন্য আপনারা যা প্রতিক্রিয়া দিয়েছেন… থ্যাঙ্কস টু এভরিবডি…আমাদের সংযোগ আরও সক্রিয় ভাবে জুড়বে।’ এমনকি কিছু সময়ের জন্য তাঁর সেই ভিডিও তুলে নেওয়ার ‘অপরাধে’ জবাবদিহি করতে হয়েছিল মেটাকেও।

মজার ব্যাপার হল জেনজিদের শেখানো পথে জেনদিদের কাছে বার্তা দিতে এসেও খানিক বিড়ম্বনায় পড়তে হয়েছিল দেশের প্রধানমন্ত্রীকে। তাঁর শেয়ার করা প্রথম ভিডিওর কমেন্টবক্সে ঝড় বয়ে গিয়েছিল। কেউ তাঁকে শেখাল, রিল বানাতে গেলে মোবাইলটা ঠিক কোন কোণে আর কত দূরে ধরে রাখতে হয়! , কেউ বা খোঁচা দিল টেলিপ্রম্পটার ব্যবহার নিয়ে। তবে পরের রিলে আর একই ভুল করলেন না তিনি। দ্বিতীয় ভিডিওতে আলো থেকে ক্যামেরার অ্যাঙ্গেল সব এক্কেবারে ঠিকঠাক রইল। এরপর দিনের ‘ন্যাচারাল লাইটে’ গাছের তলায় দাঁড়িয়ে, ধোপদুরস্ত পাঞ্জাবি-পাজামা উত্তরীয় গলায় দিলেও ভিডিও বানান তিনি।

কিন্তু তাতেও মন গলেনি ছাত্র-যুবদের। তাঁর ভিডিওর নিচে লাগাতার একের পর এক বিষয়ে প্রশ্ন ছুঁড়ে দিয়েছে এই প্রজন্মের ছেলেমেয়েরা। তাঁর সাজপোশাক থেকে ত্বকের ঔজ্বল্য সব নিয়েই মসকরা চলেছে। পাল্টা রিল, মিম তৈরি হয়েছে। ‘দেশের প্রধানমন্ত্রী প্রেস কনফারেন্স করেন না’ বলে অভিযোগ ছিল। কিন্তু জেনজি দের চাপে তিনি নিয়মিত রিল ভিডিও বানালে তাঁর কমেন্ট বক্স যে হয়ে উঠবে চোখা চোখা প্রশ্নের একটি প্রশ্নমালা তা বলাই বাহুল্য।

অন্যান্য প্রতিবেদন.