দেশজুড়ে চলতে থাকা লাগাতার নিট আন্দোলনের জেরে অবশেষে ইস্তফা দেন প্রাক্তন শিক্ষামন্ত্রী ধর্মেন্দ্র প্রধান (Dharmendra Pradhan)। ধর্মেন্দ্র প্রধানের পদত্যাগের কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই, শনিবার (২৫ জুলাই) নতুন কেন্দ্রীয় শিক্ষামন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব পান প্রহ্লাদ জোশী (Pralhad Joshi)। দেশের নতুন শিক্ষামন্ত্রী প্রহ্লাদ জোশী আসলে কে? এই প্রতিবেদনে তারই কিছু তথ্য তুলে ধরা হল।
বছর ৬৩ এর প্রহ্লাদ জোশী, কর্ণাটকের ধারওয়াড় লোকসভা কেন্দ্র থেকে টানা পাঁচবার বিজেপির সাংসদ নির্বাচিত হয়েছেন। শিক্ষার দায়িত্ব পাওয়ার আগে তিনি কয়লা মন্ত্রী ছিলেন, এছাড়াও সংসদীয় বিষয়ক মন্ত্রকের দায়িত্বও তিনি সামলেছেন। প্রশাসনিক অভিজ্ঞতা ও সাংগঠনিক দক্ষতার জন্য বিজেপির শীর্ষ নেতৃত্বের আস্থাভাজন হিসেবে পরিচিত দেশের নয়া শিক্ষামন্ত্রী।

বিজেপিতে যোগ দেওয়ার আগে প্রহ্লাদ জোশী দীর্ঘদিন জাতীয় স্বয়ংসেবক সংঘ (RSS)-এর সক্রিয় কর্মী ছিলেন। দীর্ঘদিন সংগঠনের হয়ে কাজ করার পর তিনি বিজেপির সাংগঠনিক রাজনীতিতে সক্রিয় ভূমিকা নেন এবং ধাপে ধাপে দলের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ মুখ হয়ে ওঠেন। ১৯৯০-এর দশকের গোড়ার দিকে হুব্বলি ইদগাহ ময়দানকে কেন্দ্র করে তৈরি হওয়া বিতর্কে বিজেপি ও আরএসএসের জাতীয় পতাকা উত্তোলন আন্দোলনের অন্যতম নেতৃত্বে ছিলেন জোশী। এই আন্দোলন থেকেই তিনি বিজেপির নজরে আসতে শুরু করেন।
২০০৪ সালে কর্ণাটকের ধারওয়াড় লোকসভা কেন্দ্র থেকে প্রথমবার সাংসদ নির্বাচিত হয়ে জাতীয় রাজনীতিতে অভিষেক হয় তাঁর। এরপর টানা ৫ বারের সাংসদ হন তিনি। ২০১৩ থেকে ২০১৬ সাল পর্যন্ত রাজ্য বিজেপির সভাপতির দায়িত্ব সামলেছেন প্রহ্লাদ।

শিক্ষামন্ত্রীর দায়িত্ব পাওয়ার ঠিক একদিন আগেই চলমান NEET বিতর্কে কেন্দ্রের অবস্থানের পক্ষে সরব হয়েছিলেন প্রহ্লাদ জোশী। জোশীর বক্তব্য ছিল, “মোদি সরকার সবসময় ছাত্র-যুবদের পাশে রয়েছে। তাঁদের ভবিষ্যৎ নিয়ে কোনও ধরনের অনিয়ম বা অবিচার বরদাস্ত করা হবে না এবং প্রয়োজনীয় ক্ষেত্রে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে।” পরে তাঁর হাতেই শিক্ষা মন্ত্রকের দায়িত্ব দেয় কেন্দ্র।

এর আগেও বিভিন্ন মন্তব্যের জেরে বিতর্কে জড়িয়েছেন প্রহ্লাদ জোশী। ২০০২ সালের বিলকিস বানো গণধর্ষণ মামলায় যাবজ্জীবন কারাদণ্ডপ্রাপ্ত ১১ জন দোষীর আগাম মুক্তি নিয়ে যখন দেশজুড়ে বিতর্ক তুঙ্গে, তখন কেন্দ্রের নীরবতা ভেঙে সেই সিদ্ধান্তের পক্ষে সাফাই দিয়েছিলেন তৎকালীন কেন্দ্রীয় সংসদীয় বিষয়ক, কয়লা ও খনিমন্ত্রী প্রহ্লাদ জোশী। দ্য ইন্ডিয়ান এক্সপ্রেস-কে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে জোশী বলেন, “যা করা হয়েছে, তা সম্পূর্ণ আইন মেনেই করা হয়েছে। নির্ধারিত সময় কারাবাসের পর আইনে মুক্তির সুযোগ রয়েছে। এই ক্ষেত্রেও সেই আইনসম্মত বিধানই প্রয়োগ করা হয়েছে।” উল্লেখ্য, গুজরাট দাঙ্গার সময় ২১ বছর বয়সি গর্ভবতী বিলকিস বানো পালিয়ে যাওয়ার সময় একদল ব্যক্তির হামলার শিকার হন। তাঁকে গণধর্ষণ করা হয় এবং তাঁর পরিবারের ১৪ জন সদস্যকে হত্যা করা হয়। নিহতদের মধ্যে ছিল তাঁর তিন বছরের কন্যাসন্তানও। ২০০৮ সালে মুম্বইয়ের একটি বিশেষ আদালত ১১ জন অভিযুক্তকে ধর্ষণ ও হত্যার অপরাধে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড দিয়েছিল।
২০০৮ সালে সাংবাদিক গৌরী লঙ্কেশ তাঁর প্রকাশিত একটি প্রতিবেদনে অভিযোগ করেছিলেন, ধারওয়াড়ের কয়েকজন বিজেপি নেতা, যার মধ্যে প্রহ্লাদ জোশী ও তাঁর সচিব উমেশ দুশির নামও ছিল, এক স্বর্ণ ব্যবসায়ীর সঙ্গে প্রতারণা ও তাঁকে হুমকি দেওয়ার ঘটনায় জড়িত। এই প্রতিবেদনের জেরে জোশী ও দুশি মানহানির মামলা করেন। আদালতে অভিযোগের পক্ষে পর্যাপ্ত প্রমাণ উপস্থাপন করা না যাওয়ায় গৌরি লঙ্কেশ দোষী সাব্যস্ত হন। তিনি সেই রায়ের বিরুদ্ধে আপিল করেছিলেন, কিন্তু ২০১৭ সালে তাঁর হত্যার পর মামলাটি আইনত নিষ্পত্তি হয়ে যায়। এছাড়া কর্ণাটকের SSLC পাঠ্যবই সংশোধন নিয়ে বিতর্কেও নাম জড়িয়েছিল তাঁর।

