ভারতের সবচেয়ে বড় পরমাণু বিদ্যুৎ কেন্দ্র কুদানকুলামের (Kudankulam Nuclear Power Plant) প্রায় ১৯ হাজার সংবেদনশীল নথি ডার্ক ওয়েবে লিক হয়ে যাওয়ার ঘটনায় আশঙ্কায় দেশবাসী। ব়্যানসমওয়্যার গ্রুপ World Leaks-এর দাবি ছিল রিলায়েন্স গ্ৰুপকে টার্গেট করেই এই তথ্য ডার্কওয়েবে আপলোড করেছে তারা। ঘটনায় অনিল আম্বানি-নেতৃত্বাধীন রিলায়েন্স গ্রুপ জানিয়েছে, তাদের তৃতীয় পক্ষের ডেটা সেন্টার পরিষেবা প্রদানকারী ইয়োটা ডেটা সার্ভিসেস (Yotta Data Services)-এর পরিকাঠামোকে লক্ষ্য করে র্যানসমওয়্যার হামলার চেষ্টা হয়েছিল। জানা গিয়েছিল ওই নথির মধ্যে পরমাণুর নকশা, সরবরাহ সংস্থার বিবরণ থেকে শুরু করে একাধিক সংবেদনশীল তথ্য ছিল। যদিও রিলায়েন্সের দাবি ঘটনায় সীমিত পরিসরে একটি সাইবার নিরাপত্তা সংক্রান্ত সমস্যা তৈরি হলেও তা দ্রুত নিয়ন্ত্রণে আনা হয়েছে।
কুদানকুলাম ভারতের ৭টি পরমাণুকেন্দ্রের মধ্যে সবচেয়ে বৃহত্তম। প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীও এই কেন্দ্রের উপর আস্থা রেখেছিলেন পারমাণবিক বিদ্যুৎ নির্ভর দেশ গড়ে তুলতে। তবে, কুডানকুলাম প্রকল্পের অন্যতম কন্ট্র্যাক্টর রিলায়েন্স গ্রুপের দাবি, এই সাইবার হামলার ফলে তাদের মূল সিস্টেম বা ব্যবসায়িক কার্যক্রমে কোনও প্রভাব পড়েনি। পরমাণু তথ্য ফাঁস হওয়াকে ‘Partial Breach’ বলে উল্লেখ করেছে তারা। তবুও এই ঘটনায় উদ্বেগ বাড়ছিল দেশ জুড়েই। ঠিক কোন কোন নথি বেহাত হয়েছে তা নিয়ে কোনও নির্দিষ্ট বিবৃতি প্রকাশ করেনি রিলায়েন্স। Nuclear Threat Initiative-এর সিনিয়র ডিরেক্টর Nickolas Roth-এর আশঙ্কা এক্ষেত্রে পরমাণু কেন্দ্রটির নিরাপত্তা নিয়ে প্রশ্ন উঠে গেল। যেকোনও দেশের সরকারেরই পরমাণু কেন্দ্রের নিরাপত্তা নিয়ে আরও বেশি যত্নবান হওয়া উচিত।
যদিও, বুধবার (১৫ জুলাই, ২০২৬) নিউক্লিয়ার পাওয়ার কর্পোরেশন অফ ইন্ডিয়া লিমিটেড (NPCIL) ‘সংবেদনশীল তথ্য ফাঁস’-এর আশঙ্কা উড়িয়ে দিয়েছে। সংস্থার দাবি, জনসমক্ষে যে তথ্য রয়েছে বলে দাবি করা হচ্ছে, তা শুধুমাত্র ‘কনভেনশনাল ব্যালান্স অব প্ল্যান্ট’ (Balance of Plant)-এর সাধারণ পরিষেবা সংক্রান্ত অবকাঠামো সম্পর্কিত। এর সঙ্গে প্রকল্পের মূল পারমাণবিক ব্যবস্থা বা নিরাপত্তা-সংক্রান্ত কোনও সংবেদনশীল তথ্যের সম্পর্ক নেই।
বুধবার গভীর রাতে প্রকাশিত এক বিবৃতিতে NPCIL জানায়, কমন সার্ভিসেস–ব্যালান্স অব প্ল্যান্ট (Balance of Plant) প্যাকেজের ইঞ্জিনিয়ারিং, প্রোকিউরমেন্ট এবং কনস্ট্রাকশন (EPC) চুক্তি রিলায়েন্স ইনফ্রাস্ট্রাকচার লিমিটেড-কে উন্মুক্ত দরপত্র (Public Tender) প্রক্রিয়ার মাধ্যমে দেওয়া হয়েছিল।
