“ভোটাধিকার, মহিলাদের ভোটাধিকার”-“আমার স্ত্রী আমার পছন্দ অনুযায়ী ভোট দেয়”, এই কথাগুলির একটি বাম দিকে চললে, অপরটির চলন ডান দিকে। অর্থাৎ দুটি বিপরীতমুখী। আপনি কোনদিকে হাঁটছেন? একবিংশের আধুনিক সমাজের নারীদের একাংশ কি নিজের ভোটের অধিকার নিয়ে ওয়াকিবহাল, নাকি বাড়ির পুরুষ সদস্যের কথাই তাঁদের কাছে চূড়ান্ত?
ভোট দানের অধিকার খাতায় কলমে তো আছে, কিন্তু মত প্রকাশের স্বাধীনতা? আছে কি? একজন প্রাপ্তবয়স্ক মহিলা হিসেবে সর্বপ্রথম আমি নিজেকে এই প্রশ্ন করি। বুঝতে পারি, ‘মহিলাদের ভোটাধিকার’ এই শব্দবন্ধনের ভার বহন সহজ নয়। তবে অশান্ত এই সময়ে, বিশেষ করে পার্লামেন্টে যখন মহিলা সংরক্ষণ বিল থুড়ি, ডিলিমিটেশন বিল নিয়ে এত শোরগোল, সেই সময়ে বিশেষ এই শব্দবন্ধনের ভার সব মহিলার আরও একবার বুঝে নেওয়া প্রয়োজন। কারণ পিতৃতান্ত্রিক সমাজের রাজনৈতিক মঞ্চ মহিলাদেরকে নিজ স্বার্থে বারবার ব্যবহার করেছে, এটি পরিচিত ছক। মহিলাদের উন্নয়নকে সামনে রেখে আসলে নিজ কার্যসিদ্ধির প্রচেষ্টা ও ক্ষমতার গগনচুম্বী লোভ এবং কুম্ভীরাশ্রু ঝরানো। কেমন যেন চেনা চেনা! ইতিহাস সাক্ষী, এমন ঘটনা নারীরা বহুবার দেখেছেন। তাই দেশের তথা এই রাজ্যের শ্রমজীবী মহিলাদের (গৃহস্থলির শ্রমও শ্রম, বিনা পারিশ্রমিকে) উদ্দেশে গলা ফাটিয়ে বলতে ইচ্ছে করে, বড় বড় মাথাদের একবার ইতিহাস ফিরে দেখতে বলুন! উনবিংশ ও বিংশ শতকের আন্দোলনকে ভুলে গেলেন? মহিলারা কারও হাতের পুতুল নন, তাঁরা ভিক্ষা চান না। লড়াই করে অধিকার ছিনিয়ে নেওয়ার আন্দোলনের কাব্য তাঁদের রক্তস্রোতে বয়ে চলেছে। ঠিক যেভাবে তাঁরা বুঝে নিয়েছিলেন ভোট দানের অধিকার, রাজনৈতিক অধিকার। আর সেখান থেকেই নারীবাদী আন্দোলনের সূত্রপাত। আজ আমার ভোটাধিকার—অনেক মানুষের শ্রম, আত্মত্যাগ ও লড়াইয়ের ফসল। তাই সেই আন্দোলনের ভার আমাদেরও বইতে হয়। আজ যে মহিলারা বুথে গিয়ে ভোট দিতে পারছেন, তাঁদের প্রত্যেকের কাঁধে একটু একটু করে এর ভার রয়েছে। আমাদের প্রত্যেকের আত্মায় শহিদের ঋণ রয়েছে। প্রতিটি অনশনের দিন রয়েছে। আমাদের রাজনৈতিক মতের গুরুত্ব বাড়াতে ও প্রাতিষ্ঠানিক স্বীকৃতি দিতে আমাদের পূর্বসূরীরা বছরের পর বছর আন্দোলন করেছেন। তাই ভোটের বোতাম চেপার আগে সেসব দিনের কথা অবশ্যই ভাবা উচিত। নিজেকে প্রশ্ন করা উচিত, আমি কি আমার ভোটাধিকারের সঠিক ব্যবহার করছি? আমি কি নিজের মতকে গুরুত্ব দিচ্ছি? আমার রাজনৈতিক পছন্দের কদর করছি? নাকি আমার পরিবারের পুরুষ সদস্য যা শিখিয়ে দিচ্ছেন, আমি তাই করছি? আপনার কাঁধে বিপ্লবের যে ঋণ রয়েছে, তাকে তো সহজেই ঝেড়ে ফেলা যায় না।
বিশ্ব ইতিহাস পড়তে গিয়ে দেখি, এক সময়ে মহিলাদের কোনও ভোটাধিকার ছিল না। অর্থাৎ সরকার নির্বাচনে তাঁর কোনও ভূমিকা নেই। পার্লামেন্টে তাঁর অস্তিত্ব নেই। কারণ পিতৃতান্ত্রিক সমাজব্যবস্থা ভাবতে পারেনি যে, সরকার গঠনে মহিলাদের ভূমিকা থাকতে পারে, মহিলারাও পার্লামেন্টে প্রশ্ন তুলতে পারেন এবং রাজনীতির মঞ্চে এক তারকা হয়ে উঠতে পারেন। তাই রাজনৈতিক অধিকার থেকে মহিলাদের বিচ্যুত রাখা হয়েছিল। কিন্তু এরকম আর কতদিন? তাই উনবিংশ শতকে শুরু হয় আন্দোলন। মহিলাদের ভোটাধিকার আন্দোলন বা Women’s Suffrage Movement। মূলত নারীদের রাজনৈতিক অধিকার, ভোটের অধিকার অর্জনের জন্য একটি দীর্ঘ সামাজিক ও রাজনৈতিক সংগ্রাম। মূল দাবি— ভোটাধিকার, সম্পত্তির অধিকার ও আইনি সভা। এটি ছিল নারীবাদের প্রথম সংগঠিত বড় আন্দোলন, বা নারীবাদের প্রথম তরঙ্গের সূত্রপাত। আমেরিকায় সেনেকা ফলস কনভেনশন হয় ১৮৪৮ সালে, এটি প্রথম নারী অধিকার সম্মেলন। যুক্তরাজ্যেও Suffragette আন্দোলন চলে।
এক্ষেত্রে আন্দোলন কখনও হয়ে ওঠে আক্রমণাত্মক, তার ধারা প্রতিবাদী। দীর্ঘ বছর ধরে চলতে থাকা আন্দোলনে পিটিশন, সভা ও প্রচারের শান্তিপূর্ণ ভূমিকা দেখা গেলেও কখনও কখনও এটি প্রতিবাদ, অনশন ও বিক্ষোভকেও হাতিয়ার বানায়। ১৯১৩ সালে এমিলি ডেভিসন, এপসম ডার্বিতে রাজার ঘোড়ার সামনে প্রতিবাদী হয়ে ঝাঁপ দেন, গুরুতর আহত হন। পরে তাঁর মৃত্যু হয়। নারীবাদীদের একাংশ তাঁকে এই আন্দোলনে শহিদ মনে করেন। দীর্ঘ সংগ্রামের পরে যুক্তরাজ্যে ১৯১৮ সালে আংশিক এবং ১৯২৮ সালে মহিলাদের সম্পূর্ণ ভোটাধিকার, আমেরিকায় ১৯২০ সালে এবং ধীরে ধীরে বিশ্বের অন্যান্য দেশে মহিলাদের ভোট দানের অধিকার প্রতিষ্ঠিত হয়। এই আন্দোলনই আধুনিক নারীবাদের ভিত্তি তৈরি করে। এই সময়ে বলে রাখা ভালো, মূলত পাশ্চাত্যের দেশের নারীরা এই আন্দোলনের নেতৃত্ব দিয়েছিলেন ঠিকই, কিন্তু এর বীজ সারা বিশ্বে ছড়িয়ে পড়েছিল।
অধিকারের জন্য পথে নেমেছিলেন সমাজের সব স্তরের নারীরা। খেটে খাওয়া শ্রমজীবী নারীরাই! আমার-আপনার মতো নারীরাই। সুন্দরবনের প্রত্যন্ত দ্বীপের দলিত পরিবারের জয়া, মুর্শিদাবাদের সংখ্যালঘু পরিবারের আফরিন, জলপাইগুড়ির চা শ্রমিক পরিবারের নীলা, সোনারপুরের গরিব পরিবারের মেধাবী অন্বেষা। এঁরা প্রত্যেকেই আগুনের স্ফুলিঙ্গ, ছড়িয়ে পড়তে পারেন। লোহিত স্রোতে ভাসিয়ে নিয়ে যেতে পারেন গ্লানি। ভাতের হাঁড়ি নামিয়ে রেখে কাস্তে হাতে মাঠে গিয়ে ধানও কাটতে পারেন। ইট ভাটায় কাজ করতে পারেন, কর্পোরেট মিটিংয়ে প্রেজেন্টেশন দিতে পারেন। এঁরা ফিনিক্স, এঁরা মৃত্যুর সঙ্গে বাজি রেখে জ্বলে উঠতে পারেন। তেমনই নির্বাচনের সময়ে, গণতন্ত্রের মাটিতে পুঁততে পারেন অধিকারের ঝান্ডা!
আমার রিপোর্টার বন্ধু ভোট বাজারে মুর্শিদাবাদ, মালদা সহ অন্যান্য জেলার প্রত্যন্ত গ্রামে গিয়ে রিপোর্টিং করছেন। তাঁর অভিজ্ঞতায়— একাধিক পুরুষ দাবি করেছেন, “আমি যাঁকে বলেছি আমার স্ত্রী তাঁকেই ভোট দেবে। ওর আবার কীসের মত, ভোট আমার কথাতেই দেবে।”
এই কথা অসত্য নয় যে, একবিংশ শতকেও মহিলাদের একাংশ ভোটাধিকার নিয়ে সচেতন নয়, রাজনৈতিক পছন্দ নিয়ে ওয়াকিবহাল নয়। বরং বাড়ির পুরুষ সদস্য যেমন তাঁর বাবা, যৌবনে তাঁর স্বামী এবং বার্ধক্যে তাঁর ছেলের কথাতেই তিনি চলেন আর রাজনৈতিক মতামতও এই নির্দেশের বাইরে নয়। অনেককেই দুঃখ করে বলতে শোনা যায়, “অল্প বয়সে স্বামীর কথায় ভোট দিয়েছি, আজ ছেলের নির্দেশ মেনে চলি।” ‘পরিরাবের প্রধান’ যাকে ঠিক ভাবেন, মহিলা সদস্যরা তাকেই ভোট দেন। নারীবাদীদের এবং সমাজবিজ্ঞানীদের একাধিক রিপোর্টে এই তথ্য উঠে এসেছে। সমাজবিজ্ঞানীদের একাংশ, মহিলাদের ভোটদান এবং রাজনৈতিক পছন্দের উপরে পুরুষদের একচেটিয়া অধিকার নিয়ে বারবার সরব হয়েছেন।
তবে এই সমস্যার শিকড় কোথায়, তা কি আমরা ভেবে দেখেছি? এটা কি কেবলই এক বিচ্ছিন্ন ঘটনা বা এর জন্য মহিলাদের দায়ী করা যায়, নাকি না? এই সমস্যার যে বিষবৃক্ষটি আজও ডালপালা মেলে রেখেছে, তার শিকড় অনেক গভীর। হয়তো সৃষ্টির আদিমকালের সঙ্গেও সংযোগ রয়েছে। তাই এই সমস্যার সূত্র বুঝতে পরিবার নামক ধারণাটি আরও একবার ভালোভাবে বোঝা উচিত। পরিবার আসলেই ব্যক্তিগত সম্পর্কের উদযাপন কিংবা ভালোবাসার বন্ধন নয়, এটি সম্পত্তিকে নিজের দখলে রাখার একটি সিস্টেম। পরিবার আসলে পলিটিকাল! যার সঙ্গে জেন্ডার পলিটিক্স, বা লিঙ্গ বৈষম্যের রাজনীতি ওতপ্রোতভাবে জড়িয়ে আছে। নারীবাদী তাত্ত্বিকরা বারবার পরিবার বা পরিবার প্রথাকে পিতৃতান্ত্রিক সমাজব্যবস্থার মূল কেন্দ্র হিসেবে দায়ী করেছেন। তাই ভোটদানেও যে বাড়ির মহিলাদের উপরে পুরুষ সদস্যের অধিকার থাকবে, সে কথা পুরোপুরি অস্বীকার করা যায় না। শ্রেণি ভিত্তিক সমাজের শুধুমাত্র নিচু স্তরে নয়, বরং উচ্চবিত্ত শ্রেণিতেও এই প্রভাব দেখা যেতে পারে। পরিবারের মতই শেষ মত, আর এই মত কে তৈরি করেন? অধিকাংশ ক্ষেত্রেই বাড়ির পুরুষ সদস্য। আর এই প্রসঙ্গে কোনও বিচ্ছিন্ন ঘটনা উদাহরণ হয়ে উঠতে পারে না। কিন্তু কীভাবে এই নিয়ন্ত্রণ শুরু হয়? মাটি খুঁড়ে শিকড়টাকে দেখার চেষ্টা করি। রাজনৈতিক তত্ত্বে পিতৃতান্ত্রিকতা কোনও নতুন শব্দ নয়। গ্রিক শব্দ patriarches থেকে patriarchy শব্দের উৎপত্তি, যার অর্থ গোষ্ঠীর প্রধান। সপ্তদশ শতাব্দীতে রাজতন্ত্রের বর্ধিত ক্ষমতাকে কেন্দ্র করে যে বিতর্ক তৈরি হয়েছিল, সেখানে রাজতন্ত্রে ক্ষমতার সপক্ষে যাঁরা ছিলেন, তাঁদের দাবি ছিল, একটি পরিবারের পিতার যে স্থান, সেই ক্ষমতাই রাজা ভোগ করেন। অর্থাৎ পরিবারে পিতার ক্ষমতা, সমাজের রাজার ক্ষমতার সমান। আক্ষরিক অর্থে, পিতৃতন্ত্র হল পুরুষ শাসিত সমাজে পিতার শাসন। ম্যাক্স ওয়েবার পিতৃতন্ত্রকে ব্যাখ্যা করতে গিয়ে উল্লেখ করেছেন, পিতৃতন্ত্র সরকারের এমন একটি ব্যবস্থা, যেখানে পুরুষেরা পরিবারের প্রধান হিসেবে সমাজকে শাসন করে। কেট মিলেটের মতে, সমাজে যে ক্ষমতার কাঠামো দেখতে পাওয়া যায় তার কেন্দ্রে পরিবারের অবস্থান। নারীকে অবদমন করার মূল উৎসই পরিবার। যেখানে পিতা কিংবা কোনও পুরুষই প্রধান, এবং তিনি মহিলাদের যৌনতা, শ্রম বা উৎপাদন, প্রজনন এবং গতিশীলতা নিয়ন্ত্রণ করেন। কমলা ভাসিন ‘হোয়াট ইজ পেট্রিয়ার্কি’-তে পিতৃতন্ত্রকে বর্ণনা করতে গিয়ে বলেছেন, এই শব্দটির প্রধান অর্থ পিতৃপ্রধানের শাসন। মূলত এই শব্দটি ব্যবহার করা হত পুরুষ প্রধান পরিবার বোঝাতে। যেখানে পুরুষের অধীনে থাকত পরিবারের নারী, কনিষ্ঠ পুরুষ, শিশু, দাস এবং গৃহকর্মীরা। দক্ষিণ এশিয়ায়, এটিকে হিন্দিতে পিতৃসত্তা, উর্দুতে পিদারশাহী এবং বাংলায় পিতৃতন্ত্র বলা হয়।
এই প্রসঙ্গে বহুচর্চিত একটি তত্ত্বও রয়েছে, মার্ক্সবাদী ফেমিনিস্টরা সেটিকে বেশ গুরুত্ব দেন। তাছাড়া, পরিবার সিস্টেমকে নিয়ে আলোচনা করার সময়ে ফ্রেডরিখ এঙ্গেলসের ‘দ্য অরিজিন অফ দ্য ফ্যামিলি, প্রাইভেট প্রপার্টি অ্যান্ড স্টেট’-এ আলোচ্য বিষয়গুলি উল্লেখ না করলেই নয়। এখানে ফ্রেডরিখ ব্যক্তিগত সম্পত্তির উদ্ভবকে নারীর বিশ্বে ঐতিহাসিক পরাজয়ের কারণ বা ‘দ্য ওয়ার্লড হিস্টোরিক ডিফিট অফ দ্য ফিমেল সেক্স’ বলে চিহ্নিত করেছেন। তাঁর লেখায় উল্লেখ করেছেন, আদিম সমাজে মানুষের জীবনযাপনের মূল পথ ছিল খাদ্য সংগ্রহ ও শিকার। এই সময়ে ব্যক্তিগত সম্পত্তি কিংবা বিবাহের কোনও স্পষ্ট ধারণা ছিল না। নারীর স্বাধীনতায় পুরুষদের নিয়ন্ত্রণও ছিল না। সন্তান পরিচিতি লাভ করত তার মায়ের পরিচয়ের সূত্রে, এঙ্গেলস এটিকে বলেছেন মাতৃ অধিকার। সমাজের বিবর্তনে, পরবর্তী পর্যায়ে পশুপালন ও কৃষিকাজ শুরু হয়। জৈবিক গঠনের জন্য সন্তান ধারণ ও তার রক্ষণাবেক্ষণের কাজে নারীর স্থান নির্ধারিত হয় গৃহে। তাও এই পর্যায়ে নারী ও পুরুষের অধিকার প্রায় সমান ছিল। কিন্তু ক্রীতদাস প্রথার প্রচলন শুরু হতে পুরুষদের আধিপত্য বিস্তৃতি শুরু হয়। ব্যক্তিগত মালিকানা ও ধন সম্পদের পরিমাণ ধীরে ধীরে বাড়তে থাকে। ব্যক্তিগত সম্পত্তির উত্তরাধিকার স্থির করা অনিবার্য হয়ে ওঠে। তাই পুরুষেরা নারীদের গৃহবন্দি করে ও একগামী বিবাহের প্রচলন ঘটায়। নারী যৌন স্বাধীনতা হারায় ও সন্তান উৎপাদনের যন্ত্রে পরিণত হয়। ব্যক্তিগত সম্পত্তির উদ্ভবের পূর্বে আদিম সাম্যবাদী সমাজে হয়ত শ্রমের বিভাজন ছিল। তবে নারী ও পুরুষ নিজ নিজ কর্মক্ষেত্রে স্বাধীন ছিল। কেউ কারও দ্বারা নিয়ন্ত্রিত হত না।
যদিও এই বিষয় নিয়েও নারীবাদীদের মধ্যে মতবিরোধ রয়েছে। এবং নারীবাদীদের একাংশ মনে করেন, শ্রেণি বৈষম্যের চেয়েও আদিম লিঙ্গ বৈষম্য। তবে এখানে আলোচ্য তথ্যগুলি থেকে অন্তত নিশ্চিত হওয়া যায় যে, পরিবার প্রথাই পিতৃতন্ত্রের অন্যতম মূল চালিকা শক্তি এবং সেখান থেকেই লিঙ্গ ভিত্তিক শোষণের সূত্রপাত। আর পারিবারিক ভোট কিংবা মহিলাদের ভোটদানের উপরে পুরুষদের যে একচেটিয়া অধিকার, এটাও হয়তো পিতৃতান্ত্রিক পারিবারিক ব্যবস্থার ফসল। মহিলাদের রাজনৈতিক চেতনা কম বলে হাত ঝেরে ফেললেই আমাদের দায় শেষ হয়ে যায় না। বরং আন্দোলন গড়তে হয় সংগঠিতভাবে। হাতে হাত রেখে। পূর্বজদের স্মরণ করে। যাঁরা মহিলাদের ভোটের অধিকারের জন্য সংগ্রাম করেছিলেন, তাঁরা কেউ শ্রমিক, কেউ সন্তানের জননী। তাঁরা লড়াইয়ের জমি তৈরি করে দিয়েছেন, আমরা কেন সেই মাটি আঁকড়ে ধরে পড়ে থাকতে পারব না? পিতৃতান্ত্রিক ব্যবস্থার মূল চালিকা শক্তিকে ঝাঁকুনি দিয়ে বলতে পারব না, আমি একজন স্বতন্ত্র ব্যক্তিত্ব, আমারও রাজনৈতিক অধিকার আছে!
আজ মহিলারাও ভোটের কালি আঙুলে লাগান, মহিলা সাংসদরা পার্লামেন্টে সওয়াল করেন। এটি একদিনেই সম্ভব হয়নি, কিন্তু একদিন ঠিক সম্ভব হয়েছে। সামনেই নির্বাচনের দিন, “আমার স্ত্রী আমার কথায় নয়, নিজের মতকে গুরুত্ব দিয়ে ভোট দেয়”— কথাগুলি প্রতিষ্ঠা করার জন্য মজবুত ভিত তৈরি করুন, আন্দোলনের ইমারত অনেক বড়, গড়তে সময় লাগবে।









