সোমবার কোর্টরুমে একসাথে রাহুল-মমতা! পথে থাকছে GEN Z

১২ জন
পড়েছেন

প্রতিবেদন টি শেয়ার করুন

​ প্রধান নির্বাচন কমিশনার (সিইসি) জ্ঞানেশ কুমারের কার্যপ্রণালী, ভোটার তালিকা সংশোধন তথা ফর্ম ৬-এ বেআইনি ও একতরফা পরিবর্তনের অভিযোগে কেন্দ্র ও নির্বাচন কমিশনের বিরুদ্ধে দেশজুড়ে প্রতিবাদের ঝড় উঠেছে। এই আবহে রাহুল গান্ধী, মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়সহ জাতীয় স্তরের বিরোধী নেতাদের সুপ্রিম কোর্টের দ্বারস্থ হওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন৷ সাথে ফের রাজপথে থাকার ঘোষণা তরুণ প্রজন্মের।


​বিতর্কের কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছে মুখ্য নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমারের নিরপেক্ষতা। বিরোধীদের অভিযোগ, নির্বাচন কমিশনের মতো সাংবিধানিক সংস্থাকে ব্যবহার করে শাসকদল বিজেপিকে সুবিধা পাইয়ে দেওয়ার চেষ্টা চলছে। বিশেষ করে ভোটার তালিকা সংশোধনের প্রক্রিয়ায় যথাযথ নিয়ম না মেনে একক সিদ্ধান্তে বহু মানুষের নাম বাদ দেওয়া কিংবা তালিকা পরিবর্তনের গুরুতর অভিযোগ উঠেছে। এই ইস্যুতে সুপ্রিম কোর্টও নির্বাচন কমিশন ও কেন্দ্রকে নোটিস পাঠিয়ে জবাব তলব করেছে এবং স্পষ্ট জানিয়েছে যে, সাংবিধানিক প্রতিষ্ঠানের সিদ্ধান্ত বা প্রক্রিয়া সর্বসম্মত কিংবা সংখ্যাগরিষ্ঠের মতের ভিত্তিতে হওয়া উচিত। সর্বোচ্চ আদালতের এই পর্যবেক্ষণ বিরোধী শিবিরের অবস্থানকে আরও জোরালো করেছে।


​রাজনৈতিক ময়দানে এই লড়াই কেবল বিরোধী দলগুলির প্রাতিষ্ঠানিক প্রতিবাদের মধ্যেই সীমাবদ্ধ নেই, তা এক বৃহত্তর গণআন্দোলনের রূপ নিচ্ছে। তরুণ প্রজন্ম বা ‘জেন-জি’ অংশের প্রতিনিধিত্বকারী সিজেপি (CJP)-এর আন্দোলন দিল্লি প্রশাসনকে রীতিমতো নাড়িয়ে দিয়েছে। দিল্লির সীমানায় ব্যারিকেড, যন্তর মন্তরে যাওয়ার পথে কড়াকড়ি এবং আন্দোলনকারীদের উপর দিল্লি পুলিশের ধরপাকড়ের ঘটনা প্রমাণ করে যে কেন্দ্রীয় সরকার বিরোধীদের স্বর রোধ করতে কতটা কঠোর অবস্থান নিয়েছে।


পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী তথা তৃণমূল সুপ্রিমো মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় দিল্লিতে প্রতিবাদে সামিল হয়ে পুলিশের হাতে আটক হন। দীর্ঘদিন সংসদীয় ও বিরোধী রাজনীতি করার পরও এমন রাজনৈতিক অসহিষ্ণুতা এবং প্রবীণ নেতাদের ওপর পুলিশের কড়া পদক্ষেপের তীব্র সমালোচনা করেছেন তিনি। এই পরিস্থিতিতে কংগ্রেস নেতা রাহুল গান্ধীর সঙ্গে তাঁর যোগাযোগ এবং সুপ্রিম কোর্টকেন্দ্রিক যৌথ আইনি ও রাজনৈতিক লড়াইয়ের কৌশল ঠিক করার পদক্ষেপ জাতীয় রাজনীতিতে বিরোধী ঐক্যের এক নতুন রূপরেখা তৈরি করছে। সোমবারের দিনটিকে ঘিরে দিল্লির রাজনৈতিক ও প্রশাসনিক মহলে ব্যাপক উৎকণ্ঠা তৈরি হয়েছে, কারণ একদিকে যেমন আইনি লড়াইয়ে সুপ্রিম কোর্টের পরবর্তী পদক্ষেপের দিকে নজর রয়েছে দেশবাসীর, তেমনই অন্যদিকে রাজপথে বিরোধীদের প্রতিবাদ কর্মসূচি প্রতিহত করতে দিল্লি পুলিশের ভূমিকাও বারবার পরীক্ষার মুখে পড়ছে


​পরিশেষে বলা যায়, নির্বাচন কমিশনের মতো একটি নিরপেক্ষ সাংবিধানিক প্রতিষ্ঠানের ভূমিকা নিয়ে যখন সরাসরি প্রশ্ন ওঠে এবং তার বিরুদ্ধে সুপ্রিম কোর্ট পর্যন্ত জল গড়ায়, তখন তা সুস্থ গণতন্ত্রের জন্য বড় উদ্বেগের বিষয়। একদিকে শাসকদলের প্রশাসনিক ও পুলিশি নিয়ন্ত্রণ এবং অন্যদিকে বিরোধী দল ও তরুণ প্রজন্মের রাজপথ থেকে আইনি লড়াই—এই দুইয়ের টানাপোড়েনে ভারতের গণতান্ত্রিক কাঠামো এক গভীর সংকটের মুখে। সোমবারের এই রাজনৈতিক লড়াই ভারতের নির্বাচন ব্যবস্থার বিশ্বাসযোগ্যতা টিকিয়ে রাখার এক কঠিন লড়াইয়ে পরিণত হয়েছে।
​

অন্যান্য প্রতিবেদন.