প্রত্যাশামতোই নেপালে নিরঙ্কুশ সংখ্যাগরিষ্ঠতা নিয়ে সরকার গড়ল রাষ্ট্রীয় স্বতন্ত্র দল। গতবছর সেপ্টেম্বর মাসে নেপালে সরকার-বিরোধী গণ-অভ্যুত্থানের পর যখন কমিউনিস্ট পার্টি অফ নেপাল (ইউএমএল)-এর নেতা প্রাক্তন প্রধানমন্ত্রী কে পি ওলি সাময়িকভাবে দেশ ছাড়তে বাধ্য হলেন, কাঠমাণ্ডুর রাস্তার দখল নিয়েছিল নেপালের জেন-জি। জনপ্রিয় র্যাপ-শিল্পী থেকে রাজনীতির আলোয় উদ্ভাসিত হয়ে ওঠা সেদিনের জন-আন্দোলনের নেতা পয়ত্রিশ বছর বয়সী বলেন্দ্র শাহ এইবার নেপালের বিরাটসংখ্যক ছাত্র-যুবর প্রতিনিধিত্বকারী হিসেবে ‘রাষ্ট্রীয় স্বতন্ত্র দল’-এর সরকার গড়ছেন। প্রতিদ্বন্দ্বী হিসেবে নেপালের কমিউনিস্ট পার্টি (ইউএমএল), যৌথ পার্টি হিসেবে আত্মপ্রকাশকারী নেপালের কমিউনিস্ট পার্টি (এনসিপি), যেটি প্রাক্তন মাওবাদী নেতা পুষ্পকুমার দহাল(প্রচণ্ড) এবং মাধব নেপালের ইউনিফায়েড কমিউনিস্ট পার্টি-র মিলিত রূপ, সকলেই এই ভোটে ধুয়েমুছে গেছে। চতুর্মুখী নির্বাচনী প্রতিদ্বন্দ্বিতার পরে বলেন্দ্র শাহ এবং জেন-জির জয় এই প্রতিবেশী দেশটির ভবিষ্যতের কোন দিশা দেখায়, সেদিকে তাকিয়ে রয়েছে গোটা দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়া।
জেন-জির এই নজরকাড়া আন্দোলন এর আগেও আমরা দেখেছি বিগত কয়েকবছরে। প্রথমে শ্রীলঙ্কায়, যেখানে এক ব্যাপক গণ-অভ্যুত্থানের পরে কমিউনিস্ট পার্টি ‘জনতা ভিমুক্তি পেরুমনা’ (জেভিপি) সরকার গড়েছে। তার ঠিক পরেই দেখেছি বাংলাদেশের অগস্ট অভ্যুত্থান। ‘কোটাবিরোধী’ আন্দোলন হিসেবে শুরু হয়ে যা শেষ অব্দি প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার দেশত্যাগ এবং মহম্মদ ইউনুসের অন্তর্বর্তী সরকার গঠনের মধ্য দিয়ে তার প্রাথমিক পর্যায় শেষ করেছিল। এই উত্তাল পরিস্থিতিতে এমন কয়েকটি সাধারণ লক্ষণ দেখা গেছে, যেগুলো দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার সাম্প্রতিক রাজনৈতিক জনবিক্ষোভ এবং সেই গণ-অসন্তোষের পরিণামস্বরূপ ক্ষমতাবদলের নির্দিষ্ট প্যাটার্ন হিসেবে চিহ্নিত হয়েছে।
এই গণ-অভ্যুত্থানের একটা অন্যতম দিক যদি হয় জেন-জির স্বতঃস্ফূর্ত বিক্ষোভ-উদ্ভূত সামগ্রিক রাজনৈতিক বিশৃঙ্খলার সৃষ্টি, একইসঙ্গে এটাও লক্ষণীয় অন্তত বাংলাদেশ এবং নেপাল এই দুই দেশের ক্ষেত্রেই, ছাত্র-যুব বিদ্রোহের ভিতরে কোনও হার্ডকোর মতাদর্শ অথবা আন্দোলনের গতিপথ এগিয়ে নিয়ে যাবার স্পষ্ট রোডম্যাপ নেই। অথচ নেপালে সংগঠিত সংসদীয় বাম এবং সংসদ-বহির্ভূত বামপন্থী আন্দোলনের এক সমৃদ্ধ ইতিহাস রয়েছে। বিশেষত, ২০০৮ সালে কমরেড প্রচণ্ডর নেতৃত্বে সিপিএন মাওয়িস্টের একদশকব্যাপী সশস্ত্র জনযুদ্ধের এক সংক্ষিপ্ত অথচ তীব্র ইতিহাস ছিল। সেইবছর প্রচণ্ড এবং বাবুরাম ভট্টরাইয়ের প্রায়োগিক ও তাত্ত্বিক পদ্ধতিতে এক অভূতপূর্ব সাফল্য এসেছিল সশস্ত্র আন্দোলনের রাস্তা ছেড়ে সংসদীয় নির্বাচনে অংশগ্রহণ করা এবং বিপুল ভোটে জিতে সরকার গঠনের মধ্য দিয়ে। একে ‘প্রচণ্ড পাথ’ হিসেবে (অনেকটা পেরুর সশস্ত্র জনযুদ্ধের নেতা আবিমায়েল গুজমানের নেতৃত্বে গড়ে ওঠা ‘শাইনিং পাথ’ অনুসরণে) চিহ্নিতও করা হচ্ছিল। কিন্তু অচিরেই সেই লড়াই সরকার গঠনের অল্প কিছুদিনের মধ্যেই মুখ থুবড়ে পড়ল। প্রচণ্ডর বিরুদ্ধে বিপুল আর্থিক দুর্নীতি এবং স্বজনপোষণের অভিযোগ উঠেছিল। দেশের পরাভূত রাজতন্ত্র ও সামন্তবাদী শক্তিগুলোর সঙ্গে আপসকামী লাইন নেবার কারণে প্রচণ্ডকে ছেড়ে বাবুরাম ভট্টরাইয়ের মতো জওহরলাল নেহেরু বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রাক্তন ছাত্রনেতা নতুন উপদল গঠন করলেন এবং নেপালের ‘মাওবাদী” পার্টি ভেঙে গেল। সরকারেরও পতন ঘটল। এরপর বিগত দেড়দশকে একের পর এক সরকার প্রতিষ্ঠিত হয়েছে নেপালে। রাজনৈতিক নেতা এবং কর্পোরেট অলিগার্কির সম্পদ ফুলেফেঁপে উঠেছে। একটা বিরাট শিক্ষিত অথচ উপযুক্ত কর্মহীন যুবপ্রজন্ম তৈরি হয়েছে, যাদের সামনে কোনও নির্দিষ্ট ভবিষ্যৎ নেই। সেপ্টেম্বরের ওই উত্তাল জন-আন্দোলন গড়ে ওঠার নেপথ্যে একটা অন্যতম কারণ ছিল এই যে, সরকার ইন্টারনেটের উপর নিষেধাজ্ঞা চাপিয়েছিল। অথচ বর্তমান নেপালি যুবপ্রজন্মের একটা বড়ো অংশের রোজগারের মুখ্য অবলম্বন সোশ্যাল মিডিয়ায় রিলস বানানো অথবা অন্যান্য কর্মসূচি। এ থেকে বোঝা যায়, স্পষ্ট রাজনৈতিক শিক্ষাবিহীন, নির্দিষ্ট আইডিওলজিবিহীন এক ক্ষুব্ধ, চরম অসহিষ্ণু যুবপ্রজন্ম বেড়ে উঠছে, যাদের সামনে রাস্তার আন্দোলনে নেমে তাৎক্ষণিক বিক্ষোভের হিংস্র নির্গমন ছাড়া অন্য কোনও পথ জানা নেই। এই অসহিষ্ণুতাই এদের চালিত করে এক ভয়াবহ ‘মবোক্রেসি’ বা ‘ভিড়তন্ত্রে’র দিকে, যার কোনও সুদূরপ্রসারী উদ্দেশ্য নেই, রাজনৈতিক অভিমুখ অথবা কর্মসূচি তো নেইই।
কিন্তু ভিড়ের মনস্তত্ত্বে স্পষ্ট রাজনৈতিক কর্মসূচি বা এজেন্ডা না থাকার অর্থ এই নয়, রাষ্ট্রশক্তির সঙ্গে ওতপ্রোত জড়িয়ে থাকা অন্যান্য কর্মসূচিভিত্তিক সংগঠন অথবা দল সেই সম্মিলিত ক্ষোভকে নিজেদের উদ্দেশ্যে ব্যবহার করবে না। গোটা উপমহাদেশে বিপুল অর্থ এবং নির্দিষ্ট লক্ষ্যসম্বলিত ‘ডিপ স্টেট’, যার প্রধান পরিচালক মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র যেমন এই ‘মবোক্রেসি’কে নিজের কার্যসিদ্ধির হাতিয়ার করে তুলতে পারে, তেমনই উপমহাদেশের আরেক আধিপত্যবাদী খেলোয়াড় কমিউনিস্ট চীনও হাত গুটিয়ে বসে নেই। এটা এখন স্পষ্ট, ২০০৮-এর নেপালে মাওবাদী বিপ্লব, ২০১৭-র ভুটানের সংসদীয় নির্বাচনে বামপন্থীদের সরকারে আনা এবং অতিসম্প্রতি শ্রীলঙ্কায় কমিউনিস্ট পার্টিকে ক্ষমতায় নিয়ে আসার পিছনে লালচীনের নেপথ্য মস্তিষ্ক বিপুলভাবে ক্রিয়াশীল। বাংলাদেশেও তাদের স্বার্থ সক্রিয় ছিল। ঘটনাক্রম লক্ষ করুন। “তুমি কে? আমি কে?/রাজাকার রাজাকার’ আওয়াজে মুখরিত ব্যঙ্গাত্মক শ্লোগানে বাংলাদেশের প্রধান শহরগুলো, বিশেষত ঢাকা যখন কম্পিত, তখনই এই ছাত্র আন্দোলনকে সম্পূর্ণ হাইজ্যাক করার মেটিক্যুলাস ডিজাইন রেডি করে ফেলেছে বাংলাদেশের জামায়েত-ই-ইসলামি, হেফাজতের মতো চরম প্রতিক্রিয়াশীল শরিয়তি শক্তি, যারা ১৯৭১-এ মুক্তিবাহিনীর বিরুদ্ধে রাজাকার, আলবদর, আল শামস অথবা শান্তিসেনা হিসেবে প্রত্যক্ষ অংশগ্রহণ করেছিল এবং পাকিস্তানি হানাদারদের সাহায্যকারী হিসেবে লক্ষ লক্ষ বাঙালি নারীপুরুষের হত্যা ও গণ-ধর্ষণের মতো ঘৃণ্য আপরাধের সঙ্গে যুক্ত ছিল। ধর্মীয় আত্মপরিচিতিনির্ভর উগ্র দক্ষিণপন্থী রাজনৈতিক শক্তি হিসেবে বাংলাদেশের জামায়েত আর ভারতের আরএসএস একে অপরের সহোদর ভাই। উভয়েই ধর্মীয় টোট্যালিটারিয়ান সমাজ গঠনে ইচ্ছুক, হিটলারের ফ্যাসিবাদী রাষ্ট্রের সমর্থক, নারীস্বাধীনতার বিরোধী এবং সমস্তধরনের ধর্মনিরপেক্ষ, বামপন্থী, লিবারাল ভাবনার চূড়ান্ত বিরোধী। তাদের মূল এজেন্ডা ছিল হাসিনার অপসারণ ও আওয়ামী লিগকে নিষিদ্ধ করার মধ্য দিয়ে একাত্তরের মুক্তিযুদ্ধের ‘’এসেন্স’কেই উপড়ে ফেলা। ৩২ ধানমণ্ডির বাড়ি ইউনুস সরকারের প্রশাসনের চোখের সামনে বুলডোজারে গুঁড়িয়ে দেওয়া হচ্ছে, একের পর এক হিন্দু-নিধন, মন্দির, উদার ইসলামিক পিরের মাজার ও আখড়া ধ্বংস হচ্ছে, চাকমা ও বৌদ্ধদের উপর নিপীড়ন চলছে, খুলে-আম নৈরাজ্য ও প্রকাশ্যে মেয়েদের গণধর্ষণ চালানো হচ্ছে—এটাই হাসিনা-পরবর্তী রেজিম পরিবর্তনের তাৎক্ষণিক প্রতিক্রিয়ায় ঘটে চলেছিল। বলা যায়, ইউনুস প্রশাসন তা ঘটতে দিচ্ছিল। আওয়ামী লীগকে নিশ্চিহ্ন করার কাজে খুচরো বামপন্থী সংগঠনগুলোও জামায়েতের এই গোপন অভিসন্ধির সামনে আত্মসমর্পণ করে। অবিকল ইরানে স্বৈরাচারী শাহর সরকার ফেলে দিয়ে আয়াতোল্লা খোমেইনির ‘ইসলামিক রেভোলিউশন’ (১৯৭৯) ঘটানোর কাজে ইরানের বৃহত্তম কমিউনিস্ট ‘তুদেহ্’ পার্টির সক্রিয় সহযোগিতা এবং বিপ্লবের মাত্র চারবছরের মধ্যেই ওই সহায়তাকারী ‘তুদেহ্’ পার্টিকে দুরমুশ করা খোমেইনি-রাজের সঙ্গে এর পূর্ণ সাদৃশ্য পাওয়া যায়। বাংলাদেশের আওয়ামী লীগবিহীন নির্বাচনে বিএনপি যে ক্ষমতা দখল করবেই এ বিষয়ে কারও তেমন কোনও সন্দেহ ছিল না। তারা ২১২ টা আসন জিতে মসনদে বসেছেও। কিন্তু বিগত চারটি সাধারণ নির্বাচনে সর্বোচ্চ ৮ থেকে ১০ শতাংশ ভোট পাওয়া, ১৯৯১-এর নির্বাচন থেকে পরবর্তী চারটি ভীটে অংশ নিয়ে মাত্রই ১৭, ৩, ১৫ এবং ২ টি আসন পাওয়া জামায়েত এবার পেয়েছে ৩১.৪ শতাংশ ভোট ও ৬৭ টি আসন। এই ভোটের মাধ্যমে মুক্তিযুদ্ধের চেতনাকে বুকে স্থান দেওয়া বাংলাদেশে জামায়েতের রাজনৈতিক ‘নরম্যালাইজেশন’ ঘটল। ছাত্র আন্দোলনের মুক্ত রাজনৈতিক মঞ্চের একাংশ সরাসরি জামায়েতের সঙ্গে জোট করে পেল ৫ টি আসন আর বামপন্থী অংশটি প্রায় চোখে-না-পড়ার মতো নগণ্য অবস্থায় পৌঁছে গেল। তাদের প্রতিনিধি সংযুক্ত ‘গণ-সংহতি আন্দোলন’ মঞ্চের অংশ হিসেবে দাঁড়িয়ে মাত্রই একটি আসনে জিতেছে।
বিএনপি সরকারে এসেই জামায়েতের সঙ্গে দহরম-মহরম বাড়িয়েছে (এটা অবশ্য আলাদা কিছু নয়, দীর্ঘসময় তারা একে অপরের জোটসঙ্গী ছিল)। অর্থাৎ আদতে জিতেছে জামায়াতের সঙ্কীর্ণ মৌলবাদী রাজনৈতিক ন্যারেটিভ। এর অর্থ হল ক্ষমতায় না এসেও ন্যারেটিভকে প্রভাবিত করার জায়গায় চলে গেছে তারা। ঠিক যেমন ভারতেও আজ বাম-ডান নির্বিশেষে আরএসএস-এর উগ্র দক্ষিণপন্থী ন্যারেটিভকেই মান্যতা দিচ্ছে ছোটো-বড়ো অধিকাংশ বিরোধী দল। দিল্লির অরবিন্দ কেজরিওয়াল প্রকাশ্য জনসভায় ‘হনুমান চালিশা’ পাঠ করতেন, ভারতীয় টাকার নোটে মা লক্ষ্মীর ছবি ছাপার দাবি জানিয়েছিলেন। নরম হিন্দুত্বের সেই নড়বড়ে বাঁশের কেল্লা চুরমার করে আজ দিল্লিতে প্রতিষ্ঠিত হয়েছে হিন্দুত্ববাদী বুলডোজার-রাজ। একের পর ঝুপড়ি বস্তি, দোকানপাট গুঁড়িয়ে দেওয়া হচ্ছে সরকারি বুলডোজারে, কর্পোরেট পুঁজির হাতে সেইসব লুট করা জমি-বাড়ি তুএ দেওয়া হবে বলে। পাশাপাশি আরএসএস-এর সদর দপ্তরের সামনে পার্কিং স্পেস তৈরি হবে বলে ভেঙে চুরমার করা হচ্ছে কয়েকশ’ বছরের পুরোনো হিন্দু মন্দির। এমনকি ২০১৯-এর লোকসভা নির্বাচনের আগে কংগ্রেসের রাহুল গান্ধি একের পর এক হিন্দু রিচুয়ালে অংশগ্রহণ করেন। তাতে তাঁদের আসনসংখ্যা আদৌ বাড়েনি। নরম হিন্দুত্ব দিয়ে হার্ডকোর মৌলবাদী হিন্দুত্বের রাজনীতিকে প্রতিহত করা যায় না।
তাহলে শেষ অব্দি কী দাঁড়াল? ২০২৬-এর রাজনীতিতে আসলে দীর্ঘস্থায়ী হার্ডকোর ন্যারেটিভের বদলে শর্ট-টার্ম কৌশল, অ্যাড-হক কর্মসূচির রমরমা। বিএনপির তারেক রহমান ‘ফ্যামিলি কার্ড’, মহিলাদের জন্য ৩০০০ টাকার ভাতা, জনস্বাস্থ্য কর্মসূচির মতো আলঙ্কারিক প্রকল্প দিয়ে জনতার মন জিতেছেন। সঙ্গে পেয়েছেন এইমুহূর্তে ‘নিষিদ্ধ’ আওয়ামী লীগের একাংশের ভোট। জামায়েতের বিরুদ্ধে মুক্তিযুদ্ধের টোকেন চিহ্নগুলোকে হাজির করছেন, সমস্ত সরকারি দপ্তরে নির্দেশিকা জারি করেছেন বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবের ছবি বাধ্যতামূলকভাবে ঝোলানোর জন্য, পাশাপাশি হাত মিলিয়ে রেখেছেন জামায়েতের মতো অন্ধ মৌলবাদী শক্তির সঙ্গেও। এই পর্বে সবকটা ‘জেন-জি’ আন্দোলনেরই এটাই আপাত পরিণতি। কোনও লং-টার্ম সমাজবদলের কর্মসূচি নেই, রয়েছে ‘কনটিনজেন্ট নেগোসিয়েশনে’র (আপতিক সমঝোতা) তাৎক্ষণিক রাজনীতি। যাকে সাম্প্রতিক ‘পপুলিস্ট’ বা ‘জনতুষ্টিবাদী’ রাজনীতির সাম্প্রতিক প্রবণতা হিসেবেই চিহ্নিত করছেন বিশেষজ্ঞরা। আপাতত এই রাজনীতিই উপমহাদেশ ছাপিয়ে গোটা দুনিয়ার একের পর এক দেশের রাজনৈতিক স্ট্র্যাটেজি নির্ধারণ করছে। যা আদতে ক্ষণস্থায়ী ‘ট্যাকটিক্স’ ছাড়া অন্য কিছুই নয়। যদিও এই ‘ট্যাকটিক্স’-এরও কোনও স্পষ্ট ম্যানিফেস্টো নেই। হাতেগরম ফললাভই এর মূখ্য উদ্দেশ্য। শোনা যাচ্ছে নেপালের নতুন আইকন বলেন্দ্র শাহ নাকি খোদ হিটলারের ভক্ত এবং তিনি কাঠমান্ডুর মেয়র থাকাকালীন ব্যাপক হকার উচ্ছেদ অভিযান ও বুলডোজার জাস্টিস প্রয়োগ করেছিলেন। ক্ষমতায় আসার পর রাষ্ট্রীয় স্বতন্ত্র দল কোন পথে এগোবে, তা বোঝার জন্য আরও কিছুদিন অপেক্ষায় থাকতে হবে আমাদের।











