পশ্চিমবঙ্গ দিবস পালন নিয়ে এবার বঙ্গ রাজনীতি উত্তাল হয়ে উঠেছে। এর সূত্রপাত হয়েছিল অবশ্য মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের নেতৃত্বে তৃণমূল কংগ্রেস যখন ১ বৈশাখকে পশ্চিমবঙ্গ দিবস হিসেবে ঘোষণা করেছিলেন, তখনই। সেই সিদ্ধান্ত থেকে সরে এসে বিজেপি শাসিত নতুন সরকার ২০ জুনকে পশ্চিমবঙ্গ দিবস হিসেবে ঘোষণা করেছে। শ্যামাপ্রসাদ মুখার্জিকেও এই সরকার এবং দল হিসেবে বিজেপি পশ্চিমবঙ্গের রূপকার হিসেবে মান্যতা দিচ্ছে। এ নিয়ে কোনো সন্দেহ নেই যে, একজন রাজনীতিক হিসেবে শ্যামাপ্রসাদ মুখার্জি ছিলেন ভারতীয় রাজনীতির এক গুরুত্বপূর্ণ চরিত্র। স্বাধীনতার আগে ও পরে ভারতীয় রাজনীতিতে তাঁর গুরুত্ব ছিল প্রশ্নাতীত। তাঁর পাণ্ডিত্যও ছিল অগাধ। বামপন্থী সাংসদ হীরেন্দ্রনাথ মুখার্জিও সাংসদ হিসেবে শ্যামাপ্রসাদ মুখার্জির ভূয়সী প্রশংসা করেছেন। এও ঠিক যে, তিনি আন্তরিকভাবে চেয়েছিলেন বাংলা ভাগ হোক, হিন্দুদের জন্য একটি পৃথক রাজ্য গঠিত হোক। কিন্তু পশ্চিমবঙ্গের জন্মের পুরো কৃতিত্বই কি শ্যামাপ্রসাদ মুখার্জিকে দেওয়া যায়? ইতিহাস কিন্তু সেই কথা বলছে না।
প্রথম কথা হলো ১৯৪৭ সালের ২০ জুনকে অনেক সময় বাংলাভাগের নির্ণায়ক মুহূর্ত হিসেবে চিহ্নিত করা হলেও, ইতিহাসবিদদের একাংশ মনে করেন এটি আসলে একটি দীর্ঘ মেয়াদী পদ্ধতির অংশ হয়ে থাকা একটি দিন মাত্র। একদিক থেকে দেখতে গেলে বলা যায় এই প্রক্রিয়া শুরু হয়েছিল ১৯০৫ সালের বঙ্গভঙ্গের সময়েই, বা হয়তো তারও খানিক আগে। ১৯৪৭ এর ২০ জুন প্রাদেশিক আইনসভায় ভোটাভুটির মাধ্যমে হিন্দু-অধ্যুষিত একটি প্রদেশ গঠনের সিদ্ধান্তটি যখন গৃহীত হচ্ছে তখন বাংলার রাজনৈতিক পরিস্থিতি যা ছিল তাতে বোঝাই গিয়েছিল প্রাদেশিক আইনসভার ভোটের ফলাফল কী হতে চলেছে। এর কারণ এর আগে সারা বাংলা জুড়ে বিশেষত হিন্দু-অধ্যুষিত জেলাগুলিতে বাংলা ভাগের পক্ষে জোর সওয়াল চলেছিল বেশ কিছুদিন ধরেই। এই প্রচারে অবশ্যই হিন্দু মহাসভা ছিল, ছিল ভারত সেবাশ্রম সংঘ, কিন্তু ইতিহাস বলছে, এই প্রচারের কাণ্ডারী ছিল বাংলার কংগ্রেস।
যতই স্বাধীনতা সংগ্রামের একটি পর্বে গান্ধির মতো নেতারা হিন্দু মুসলিম সৌভ্রাতৃত্বের কথা বলে থাকুন না কেন, ১৯৩০ এর দশকের বাংলা সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতির খুব বড়ো নিদর্শন ছিল না। বরং ততদিনে আজকের মতোই ধর্ম চলে এসেছিল রাজনীতির কেন্দ্রে। একদিকে যেমন ছিল মুসলিম লীগ, অন্যদিকে তেমনি ছিল হিন্দু মহাসভা, রাষ্ট্রীয় সেবক সংঘ ও অন্যান্য নানা হিন্দু সংগঠন। ধর্মভিত্তিক এই রাজনীতিতে অংশ নিয়েছিল কংগ্রেসও। এর নির্দিষ্ট কারণও ছিল। আসলে ১৯৩৬–৩৭ সালের নির্বাচনে কংগ্রেস তেমন উল্লেখযোগ্য ফল করতে পারেনি। ৮০টি আসনের মধ্যে কংগ্রেস জিতেছিল মাত্র ৪৬টি আসন। কংগ্রেসের হিন্দু ভোটে থাবা বসিয়েছিল নির্দল প্রার্থীরা। ভদ্রলোক হিন্দু শ্রেণির কাছ থেকে কংগ্রেস অর্থনৈতিক সমর্থনও পেত। সেই সমর্থনেও ভাঁটা পড়ে। তাই অর্থনৈতিক চাপ এবং ভদ্রলোক শ্রেণির সমর্থন হারানোর আশঙ্কায় বাংলা কংগ্রেস ক্রমশ তার রাজনৈতিক অবস্থান পরিবর্তন করতে শুরু করে এবং হিন্দুত্বের রাজনীতিতে সক্রিয়ভাবে অংশ নিতেও শুরু করে। বাংলা কংগ্রেসের নলিনীরঞ্জন সরকারকে গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্বে ফিরিয়ে আনা, কৃষক আন্দোলন থেকে দূরত্ব তৈরি করা, এবং সুভাষচন্দ্র ও শরৎচন্দ্র বসুর সঙ্গে দূরত্ব বাড়ানো—এসব পদক্ষেপের পেছনে ভদ্রলোক সমাজের আস্থা পুনরুদ্ধারের প্রয়াস ছিল বলেই মনে করেন গবেষকেরা। কাজেই, হিন্দু মহাসভা তো ছিলই কিন্তু কংগ্রেসের চরিত্র বদলের ফলেও চল্লিশের দশকে বাংলার রাজনীতিতে হিন্দুত্ব ক্রমশ একটি বৃহত্তর রাজনৈতিক ইস্যুতে পরিণত হয়। মূলত শিক্ষিত ভদ্রলোক সমাজকে কেন্দ্র করে এই হিন্দুত্বের রাজনীতি গড়ে উঠলেও ক্রমশ প্রান্তিক জনগোষ্ঠীকেও এর আওতায় আনার চেষ্টা শুরু হয়। ধর্মীয় উৎসবগুলোও ধীরে ধীরে রাজনৈতিক মেরুকরণের ক্ষেত্র হয়ে ওঠে। ইতিহাসবিদ জয়া চ্যাটার্জি তাঁর Bengal Divided গ্রন্থে উল্লেখ করেছেন যে, সুভাষ ও শরৎ বসুর প্রস্থান-পরবর্তী সময়ে বাংলা কংগ্রেস এবং হিন্দু মহাসভার রাজনৈতিক অবস্থানের মধ্যে পার্থক্য সাধারণ মানুষদের কাছে প্রায় অস্পষ্ট হয়ে উঠেছিল। এই হিন্দুত্ববাদী রাজনীতিতে অংশ নেওয়ার সুফল কংগ্রেস পেয়েছিল ১৯৪৫-৪৬-এর সাধারণ নির্বাচনে। এই নির্বাচনের ফল বুঝিয়ে দিয়েছিল যে, হিন্দুদের জন্য একটি পৃথক রাজ্য নির্মাণের ব্যাপারে প্রায় নব্বই শতাংশ হিন্দুই ভরসা রেখেছিল কংগ্রেসের ওপরেই। ওই নির্বাচনে সাধারণ ও বিশেষ হিন্দু আসন মিলিয়ে বিপুল সংখ্যক আসনে জয়ী হয় বাংলার কংগ্রেস। সাধারণ আসনের ৮০টির মধ্যে ৭১টিই পেয়েছিল কংগ্রেস। অন্যদিকে হিন্দু মহাসভা ২৬টি আসনে লড়াই করে মাত্র ২.৭৩ শতাংশ ভোট পায়। কেবল বিশ্ববিদ্যালয়-নির্দিষ্ট একটি আসনেই হিন্দু মহাসভা জয়ী হয়। ওই আসনটিতে শ্যামাপ্রসাদ মুখোপাধ্যায় জেতেন বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায়।
দেশভাগ এবং পশ্চিমবঙ্গ গঠনের ক্ষেত্রে শ্যামাপ্রসাদ মুখোপাধ্যায়ের ভূমিকাতেও কিন্তু স্পষ্ট বিবর্তন দেখা যায়। প্রথমে তিনি দেশভাগের বিপক্ষে ছিলেন। ধীরে ধীরে তাঁর মত পরিবর্তন হয় এবং তিনি দেশভাগের পক্ষে সওয়াল শুরু করেন। ১৯৪৬ সালে সুরাওয়ার্দির নেতৃত্বে সরকার গঠন, দুর্ভিক্ষ এবং সাম্প্রদায়িক দাঙ্গার অভিজ্ঞতা বাংলার বহু হিন্দুর মধ্যে নিরাপত্তাহীনতার বোধ তৈরি করেছিল। সেই সময়ে একটি নোটে শ্যামাপ্রসাদ মুখোপাধ্যায় লিখেছিলেন, বাংলা যদি পাকিস্তানের অন্তর্ভুক্ত হয়, তবে বাঙালি হিন্দু সংস্কৃতির অস্তিত্ব সংকটে পড়বে। কাজেই পশ্চিমবঙ্গ গঠনের জন্য শ্যামাপ্রসাদ মুখোপাধ্যায়ের গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা ছিল। কিন্তু হিন্দু অধ্যুষিত পৃথক প্রদেশ নির্মাণের জন্য যে-প্রচার সে সময় গোটা বাংলা জুড়ে হয়েছিল তার নেতৃত্বে ছিল বাংলা কংগ্রেসই। জয়া চ্যাটার্জি তাঁর বেঙ্গল ডিভাইডেড গ্রন্থে লিখেছেন, “…local Congress groups were deeply involved in the organisation of the campaign. This is a fact that is not well-recognised. On the contrary, the campaign is widely and incorrectly believed to have been the brainchild of Shyama Prasad Mookerjee (certainly an advocate of partition) and organised by Mahasabha volunteers. In fact, the Bengal Congress was the chief organiser of the campaign for the partition of Bengal।” তথ্যও কিন্তু জয়া চাটার্জির এই দাবিকে সমর্থন করে। এ কথা ঠিক যে, বাংলা ভাগের সমর্থনে এই আন্দোলনে প্রায়ই একই সঙ্গে কাজ করত বাংলা কংগ্রেস ও হিন্দু মহাসভা। তথ্য বলছে যে, ওই সময় রাজনৈতিক দলগুলি ৭৬টি সভা করেছিল। যার মধ্যে ৪৯ টির আয়োজক ছিল কংগ্রেস। ১৩ টির আয়োজক ছিল হিন্দু মহাসভা আর ৫ টির আয়োজন হয়েছিল যৌথভাবে। প্রচারেও কংগ্রেস, হিন্দু মহাসভা, এবং ভারত সেবাশ্রম সংঘ ছাড়াও আরও একাধিক সংগঠন ও সমিতি অংশ নিয়েছিল। এগুলির মধ্যে ছিল মিউনিসিপ্যাল কমিশনারদের সমিতি, ইউনিয়ন বোর্ডগুলি, জমিদার সমিতি, আইনজীবী সমিতি, বাণিজ্যিক সমিতি, করদাতা সমিতি, ন্যাশনাল অ্যাথলেটিক ক্লাব (এন্টালি), কলকাতার খেয়ালি সংঘ, এন্টালি বয়েজ লাইব্রেরি প্রভৃতি। নথি ঘেঁটে জয়া চ্যাটার্জি দেখিয়েছেন যে, সারা বাংলা থেকে এই সময়ে হিন্দুদের সই করা যে বিপুল সংখ্যক পিটিশন জমা পড়ছিল, সেগুলির মধ্যে মাত্র ৪টিতে বাংলা ভাগের আবেদন জানানো হয়েছিল শ্যামাপ্রসাদ মুখার্জিকে, বাকি সবক-টি পিটিশনই কিন্তু ছিল কংগ্রেসের উদ্দেশ্যে লেখা। বোঝাই যাচ্ছে যে, বাঙালি হিন্দুরা মোটের ওপর পশ্চিমবঙ্গ সৃষ্টির জন্য বাংলা কংগ্রেসের ওপরেই ভরসা করেছিল। ভোটের অঙ্কও বলছে, আইনসভায় শ্যামাপ্রসাদের একক ভূমিকা সিদ্ধান্ত নির্ধারণে নির্ণায়ক ছিল না। আইনসভায় হিন্দু মহাসভার পক্ষ থেকে তিনি একমাত্র প্রতিনিধি ছিলেন। পশ্চিমবঙ্গ গঠনের প্রস্তাবের পক্ষে পড়েছিল ৫৮টি ভোট। বিপক্ষে ২১টি। এই ৫৮ টি ভোটের মধ্যে শ্যামাপ্রসাদ মুখোপাধ্যায়ের একটি ভোট অবশ্যই ছিল। কাজেই পশ্চিমবঙ্গের জন্মের অনেকখানি কৃতিত্ব শ্যামাপ্রসাদ মুখোপাধ্যায়কে দিলেও সম্পূর্ণ কৃতিত্ব কিছুতেই তাঁকে দেওয়া যায় না। গোটা প্রক্রিয়াটিতে কংগ্রেস নেতাদের অনেকেই অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেছিলেন। আরও একটি বিষয় পরিষ্কার করা প্রয়োজন। অনেকে বলছেন যে, ১৯৪৭-এ তারকেশ্বরে অনুষ্ঠিত হিন্দু মহাসভার বিশাল ঐতিহাসিক সম্মেলন থেকেই শ্যামাপ্রসাদ মুখার্জি প্রথম হিন্দু হোমল্যান্ড তৈরি করার ডাক দেন। এই ডাক কিন্তু আগেই উঠে গিয়েছিল। ১৯৪৪-এই সি. রাজাগোপালচারি বলেছিলেন যে, মুসলিম-অধ্যুষিত অঞ্চলগুলি নিয়ে পাকিস্তান গঠনের প্রস্তাব কংগ্রেসের মেনে নেওয়া উচিত। তাঁর ফর্মুলা ছিল পাঞ্জাব এবং বাংলা ভাগের। ১৯৪৭ সালের ২৩ মার্চ অমৃতবাজার পত্রিকা হিন্দু বাঙালিরা দেশভাগ চাইছেন কি না তা বুঝতে একটি গণভোটের আয়োজন করেছিল। বলা বাহুল্য এই ভোটের রায় বিপুলভাবে গিয়েছিল দেশভাগের পক্ষে। অবশ্য এরও আগে বাংলায় দেশভাগের প্রস্তাব উত্থাপিত হয়েছিল। ১৯৪৬ সালেই বেঙ্গল পার্টিশন লিগ হিন্দু-অধ্যুষিত অঞ্চলগুলি নিয়ে একটি পৃথক রাজ্য গঠনের দাবি তুলেছিল। কাজেই শ্যামাপ্রসাদ মুখার্জি পৃথক হিন্দু হোমল্যান্ডের দাবি তুললেও তিনিই যে প্রথম এই দাবি তুলেছিলেন এই তথ্যটি সঠিক নয়।
একইভাবে ১৯৪৭-এর ২০ জুনকে পশ্চিমবঙ্গ দিবস হিসেবে মেনে নেওয়ার ক্ষেত্রেও অনেকগুলি সমস্যার মুখোমুখি হতে হয়। পশ্চিমবঙ্গ গঠনের প্রস্তাব পাস হলেও ওইদিন কিন্তু পশ্চিমবঙ্গের ভৌগোলিক সীমানা নির্দিষ্ট হয়নি। পশ্চিমবঙ্গের সীমানার প্রথম আনুষ্ঠানিক নির্ধারণ হয় পরবর্তীকালে র্যাডক্লিফ কমিশনের ঘোষণার মাধ্যমে, যা প্রকাশিত হয়েছিল ১৯৪৭-এর ১৭ আগস্ট। আর পশ্চিমবঙ্গের সীমান্তের প্রশাসনিক পুনর্বিন্যাস ও চূড়ান্ত রূপায়ণ সম্পন্ন হয় কোচবিহার এবং পুরুলিয়া এই রাজ্যের অন্তর্ভুক্ত হওয়ার মধ্য দিয়ে। ১ নভেম্বর ১৯৫৬ সালে পশ্চিমবঙ্গের অন্তর্ভুক্ত হয় পুরুলিয়া। কাজেই এই প্রশ্নই উঠতেই পারে আজকের যে-পশ্চিমবঙ্গকে আমরা দেখছি তার জন্ম কি সত্যিই ১৯৪৭-এর ২০ জুন হয়েছিল?
এ কথা ঠিক বাঙালিদের রাজ্য হলেও পশ্চিমবঙ্গের সত্তা যে বাংলাদেশের থেকে আলাদা তাকে প্রতিষ্ঠা করার জন্যই একটি দিনকে পশ্চিমবঙ্গ দিবস হিসেবে ঘোষণার প্রয়োজন আছে। কারণ, বহু মিল সত্ত্বেও পশ্চিমবঙ্গের বাঙালি আর বাংলাদেশের বাঙালিদের সম্পূর্ণ এক করে দেখা যায় না। তাই ভারতবর্ষের এক অঙ্গরাজ্য হিসেবেই পশ্চিমবঙ্গের নিজস্ব পরিচিতি ঘোষণা করার জন্য পশ্চিমবঙ্গ দিবসের নিশ্চয়ই প্রয়োজন রয়েছে। কিন্তু, এক্ষেত্রে সর্বদলীয় বৈঠক ডেকে আলোচনার মাধ্যমে ওপরে উল্লিখিত দিনগুলির কোনো একটিকে পশ্চিমবঙ্গ দিবস হিসেবে মেনে নিলেই ভালো হতো, মনে হয়। সেটি হলেই কিন্তু আর এত বিতর্ক থাকত না। প্রধানমন্ত্রী যে-দিবসটির উদ্যাপনে অংশ নিচ্ছেন, সেই দিনটির নির্বাচন সর্বসম্মতিক্রমে, বিতর্কহীনভাবে হলেই ভালো হতো নাকি?