Mein Vaapas Aaunga: ইমতিয়াজ পারলেন, বিবেক হারলেন! “ওরা ভেবেছিল গান্ধীকে মারলেই ভারত হিন্দুরাষ্ট্র হবে”, মোলাকাতের প্রথম পর্বে মুখোমুখি গান্ধীবাদী শিক্ষাবিদ মনীষা বন্দ্যোপাধ্যায় One Nation, One Law: এক দেশ, এক আইন প্রজেক্টের নাম “হিন্দি হিন্দু- হিন্দুস্তান” অশান্ত মণিপুরের নেপথ্যে অবৈধ মাদক কারবার? প্রশাসনের ভূমিকায় ক্ষুব্ধ স্থানীয়রা ‘বাঙালির সন্তান থাকবে রাজমা চাওলে’, নিরামিষ বাংলা গড়ার প্রথম পদক্ষেপ? Gym Jihad: বাজারে নতুন ট্রেন্ড ‘জিম জিহাদ’, ফের ‘খাত্রে মে’ হিন্দুরা? রাজনৈতিক হিংসার দুই অধ্যায় বাজেটে পার্শ্বশিক্ষকদের নামমাত্র বেতন বৃদ্ধি, যোগ্যতার অমর্যাদা ও আর্থিক বঞ্চনার চালচিত্র!

‘হয় ভিটে দাও, নয় জীবন্ত জ্বালিয়ে দাও’! মধ্যপ্রদেশে উন্নয়ন বনাম অধিকারের ‘চিতা আন্দোলন’

৩ জন
পড়েছেন

প্রতিবেদন টি শেয়ার করুন

প্রাচীন কাল থেকেই সম্মান ও অস্তিত্ব রক্ষার সংগ্রামে নারীদের ভূমিকা নজরকাড়া। মধ্যযুগে সম্ভ্রম রক্ষার জন্য বহু নারী আত্মাহুতির পথ বেছে নিয়েছিলেন, যা ইতিহাসের পাতায় ‘জহর ব্রত’ নামে পরিচিত। তবে সময় বদলানোর পাশাপাশি বদলেছে প্রতিবাদের ভাষাও। নারীরা আজ সম্মান বাঁচানোর পাশাপাশি হকের লড়াইতেও নেতৃত্ব দেয়। সেটা কখনও নিজেদের অধিকার প্রতিষ্ঠার লড়াইয়ে, কখনও বন বাঁচাতে, কখনও বা গ্রাম, নদী, ভিটেমাটি বাঁচানোর আন্দোলনে। উল্লেখযোগ্য উদাহরণ হল— চিপকো আন্দোলন, নর্মদা বাঁচাও আন্দোলন। এবারও তেমনই এক আন্দোলনে শামিল হয়েছে মধ্যপ্রদেশের ছাতারপুর ও পান্না জেলার আদিবাসী মহিলারা।

আন্দোলনের নাম ‘চিতা আন্দোলন’। এই নামকরণের কারণ হল— দিনের পর দিন মহিলারা তাঁদের সন্তানদের নিয়ে প্রতীকী চিতার ওপর শুয়ে অবস্থান করছেন। আন্দোলনকারী মহিলারা বোঝাতে চাইছেন যে, সরকারের উন্নয়নমূলক প্রকল্প তাঁদের সম্প্রদায় ও সংস্কৃতির জন্য মৃত্যুদণ্ড। প্রতিবাদী মহিলাদের সাফ বক্তব্য, ‘হয় তাঁদের পৈতৃক ভিটা রক্ষা করুক সরকার, নচেৎ জীবন্ত জ্বালিয়ে দিক।

‘সমাজকর্মীদের মতে, এই ‘চিতা আন্দোলন’ ক্রমশ প্রতিষ্ঠানবিরোধী হাওয়ায় অক্সিজেন জোগাচ্ছে। এরই সঙ্গে এই আন্দোলন স্পষ্ট করে দিয়েছে, নারীরা আজ শুধুমাত্র পরিবারের রক্ষক নন, তাঁরা সমাজ, পরিবেশ ও দেশ রক্ষারও সৈনিক। সংস্কৃতি ও দেশের ভবিষ্যৎ রক্ষার্থে প্রয়োজনে তাঁরা আত্মাহুতি দিতেও রাজি।আচমকাই এই ‘চিতা আন্দোলন’ গড়ে ওঠার পিছনে কারণ কী? সম্প্রতি সমাজমাধ্যমে কিছু মহিলাকে তাঁদের সন্তানদের সঙ্গে নিয়ে প্রতীকী চিতার ওপর শুয়ে প্রতিবাদ জানাতে দেখা গিয়েছে। তবে এ নিয়ে মূল স্রোতের সংবাদমাধ্যমে খবর হতে দেখা যায়নি। আসলে ইদানিং রাজনৈতিক খবরের ভিড়ে এ ধরনের খবর জায়গা পায় না। আশঙ্কা তৈরি হয়েছে যে, এই নদী-সংযুক্ত উন্নয়ন প্রকল্পের (Ken-Betwa River Linking Project) ফলে বহু গ্রাম ডুবে যেতে পারে। এহেন পরিস্থিতিতে গ্রামবাসীরা ক্ষুব্ধ ও উদ্বিগ্ন। অভিযোগ, প্রাতিষ্ঠানিক স্তর থেকে সেভাবে সাহায্যের হাত বাড়িয়ে দেওয়া হচ্ছে না। ক্ষতিপূরণও যথাযথ নয়। এমনকী, পুনর্বাসন নীতি কার্যকর করা হয়নি। তাই গ্রামীণ মানুষ, বিশেষ করে নারীরা জমি, ভিটেমাটি ও জীবিকা হারানোর দুশ্চিন্তায় প্রতীকী প্রতিবাদের পথ বেছে নিয়েছেন।

এই প্রকল্পের উদ্দেশ্য, উত্তরপ্রদেশ ও মধ্যপ্রদেশের কিছু অঞ্চলে জলসংকট দূর করা, সেচ ব্যবস্থাতে উন্নতি ঘটানো, খরা নিয়ন্ত্রণ ও বিদ্যুৎ উৎপাদন করা। আপাতদৃষ্টিতে দেখলে এই প্রকল্পকে উন্নয়নের উদাহরণ হিসেবে ধরা যেতে পারে। কিন্তু এই প্রকল্প বাস্তবায়িত হলে সংশ্লিষ্ট অঞ্চলের আদিবাসীদের জীবন বিপর্যস্ত হয়ে পড়বে। অভিযোগ, সে বিষয়টি গুরুত্ব দিয়ে দেখা হচ্ছে না। আসলে আন্দোলনকারী মহিলারা সহ কেউই সরকার বা কোনো রাজনৈতিক দলের বিরোধিতা করতে নামেনি। এই প্রকল্পের পরিকল্পনাগত ত্রুটির কারণে এর বিরোধিতা জানানো হচ্ছে। এছাড়াও এই আন্দোলনের আরও একটি কারণ হল এই প্রকল্পের ফলে টাইগার রিজার্ভের একটা বড় অংশ ডুবে যাওয়ার সম্ভাবনা, যা বাঘ, শকুন বা ঘড়িয়ালের মতো প্রাণীদেরকে সংকটের মধ্যে ফেলবে। বেঁচে থাকাই দায় হবে। ধ্বংস হবে বনাঞ্চল, এতে বাস্তুতন্ত্রের উপর গুরুতর আঘাত আসবে।

তবে এই প্রকল্পের কাজে বাধা হয়ে দাঁড়াতে পারে ভারতের সংবিধানের আর্টিকেল ২১ (রাইট টু লাইফ) এবং বনাধিকার আইন, ২০০৬ যা জঙ্গলের ওপর অধিবাসীদের পূর্ণ অধিকারের মান্যতা দেয়। এছাড়াও PESA Act-ও এই প্রসঙ্গে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। এখন দেখার এই আন্দোলনের জল কতদূর গড়ায়, নারীদের এই প্রতিবাদ দেখে আদৌ প্রশাসন ও সরকারের ঘুম ভাঙে কি না।

অন্যান্য প্রতিবেদন.