Shopping cart

কলাম

অনেক আগেই আত্মসমীক্ষার প্রয়োজন ছিল

127

শহরের দক্ষিণপ্রান্তের ব্যস্ততম মোড়ের সন্ধে। এক বিরাট উন্মত্ত ‘মব’ এসে আছড়ে ভাঙছে বিরাট নিয়ন ফ্লেক্স। যাতে লেখা—‘আমার ভালোবাসার শহর কলকাতা’। ভিডিওতে স্পষ্ট শোনা যাচ্ছে, ওই আগ্রাসী ভীড়ের উত্তেজক শ্লোগান—“ভাঙ, অক্ষরগুলো ভাঙ”। কী আশ্চর্য! অক্ষরগুলো তো বাংলা ভাষার। পশ্চিমবঙ্গে পালাবদল ঘটেছে মাত্রই চব্বিশ ঘণ্টা আগে। তখনও নতুন মন্ত্রীসভা শপথও নেয়নি। ভারতীয় জনতা পার্টির রাজ্য সভাপতি, বিশিষ্ট নেতা, যাঁকে সংস্কৃতিবান মানুষ হিসেবেই চেনে বাঙালি, সংবাদমাধ্যমে স্পষ্টই বার্তা দিয়েছেন—“কোনও অরাজকতা বরদাস্ত করা হবে না। আমাদের দলের কোনও সদস্য কোনওরকম ভাঙচুরে জড়িত থাকলে তৎক্ষণাৎ তাকে বহিষ্কার করা হবে”। উত্তর শহরতলির আরেকজন সদ্যবিজয়ী বিধায়ক, ভেঙে গুঁড়িয়ে দেওয়া তৃণমূল কংগ্রেসের অফিসে গিয়ে হাতজোড় করে ক্ষমা চাইছেন। প্রতিশ্রুতি দিচ্ছেন, কোনও পরাজিত প্রার্থী অথবা দলীয় কর্মীর গায়ে একটাও আঁচড় কাটা যাবে না। তিনি নিজে দাঁড়িয়ে থেকে সমস্ত ভাঙচুর মেরামতি করতে সাহায্য করবেন। সেই ভিডিও সমাজমাধ্যমে ভাইরাল হয়েছে। কিন্তু নেতৃত্বের এই সাবধানবাণী, সতর্কবার্তার পরেও জায়গায় জায়গায় হিংসা অব্যাহত। পালটা যুক্তি উঠে আসছে, ২০১১-র পরিবর্তনের পরে তৃণমূল কংগ্রেসের কর্মীরাও কি একই কাজ করেনি বামপন্থী কর্মী-সমর্থক অথবা তাঁদের বাড়িঘরের উপর? একের পর এক কাস্তে-হাতুড়ি আঁকা পার্টি অফিস কি ধ্বংস করা হয়নি? ১৩০০ বাম পার্টি-অফিস ভাঙা হয়েছিল, দাবি তাঁদের। এ তো তারই ধারাবাহিকতার প্রতিফলন। সেদিন জয়ের উল্লাসে রণোন্মত্ত নব্য তৃণমূল-কর্মীরা যা করেছিল, আজ সেই হিংসাই ব্যুমেরাং হয়ে ফিরে আসছে তাদেরই বিরুদ্ধে। ২০২১-এর বিধানসভার নির্বাচনে বিপুল জয় পাবার পরে ওই একইধরনের আক্রমণ নেমে এসেছিল বিজেপি কর্মীদের বিরুদ্ধেও। প্রতিহিংসার চাপা ক্ষোভ ধিকি ধিকি জ্বলছিলই। মাত্রই পাঁচবছরে সেই ক্ষোভ দাবানল হয়ে উঠে হিংসার বাতাবরণকেই চিরস্থায়ী রূপ যাতে না দেয়, বিজেপি নেতাদের সেই কঠোর দায়িত্ব এইবার পালন করতেই হবে। কারণ, স্বাধীনতার পর এই প্রথমবার রাজনৈতিক হিন্দুত্ববাদীদের ল্যান্ডস্লাইড ভিক্‌ট্রি প্রত্যক্ষ করল বাংলা। যে বিপুল ভোটে জয়ী, তারই প্রাথমিক দায়িত্ব পরাজিতকে আগলে রাখা। চিরন্তন ভারতীয় সংস্কৃতি সেই উদারবাদী চেতনাকেই বহন করে এসেছে শত শত বছর ধরে।

কিন্তু ‘ভীড়তন্ত্র’ বা ‘মবোক্রেসি’ এই সরল যৌক্তিক রেখা মেনে এগোয় না। ‘মব’ বা ‘জনপিণ্ড’ আসলে অন্তর্গত সামাজিক ধর্ষকামের প্রতিফলন, যেখানে চোখের বদলে চোখ, দাঁতের বদলে দাঁত—এই নীতিই নিয়ন্ত্রক। কারণটা কী? সভ্যতার লিনিয়ার ছবি এঁকেছিলেন আঠারো-উনিশ শতকীয় রেনেসাঁসের প্রধান প্রবক্তারা। ষাটের দশকে মিশেল ফুকো দেখালেন ইতিহাস জিনিসটা কোনও একরৈখিক, সম্মুখবর্তী অগ্রগতির পথ নয়। বরং ইতিহাস কম্বুগতি, স্পাইরাল। তার প্রত্যেকটি ভাঁজে ভাঁজে লুকোনো থাকে আচমকা চোরা বাঁকবদল, পিছুটান আর আকস্মিকতা। নইলে তেভাগা আন্দোলন, শিক্ষক আন্দোলন, খাদ্য আন্দোলন, নকশালবাড়ি অভ্যুত্থান এবং বামফ্রন্টের ৩৪ বছরের বাংলায় হিন্দুত্ববাদী শক্তি এভাবে গোটা রাজ্য দখল করে ফেলে? আর বাংলার শিক্ষিত ভদ্রবিত্তের বৃহদংশ সেই পরিবর্তনে সাগ্রহ সায় দেয়? গোটা কলকাতা জেলায় ১১টা আসনের মধ্যে বিজেপি ৬টা আসন আর তৃণমূল মাত্র ৫টায় জয়ী? কলকাতা তৃণমূলের সাংগঠনিক শক্তি ও জনভিত্তির গড়—এই মিথ হাওয়ায় উড়িয়ে কলকাতার সিগন্যাল আজ গেরুয়া। খোদ মমতা ব্যানার্জি, প্রবল ক্যারিশম্যাটিক জননেত্রী পরাজিত! এই অভূতপূর্ব ঘটনা যে বাস্তবে ঘটবে, কেউ ভেবেছিল? হয়তো ভেবেছিল। ভেবেছিল তৃণমূল কংগ্রেসের সেই নব্বই দশক থেকে সিপিআইএমের বিরুদ্ধে শিড়দাঁড়া টান করে লড়ে চলা অখ্যাত, অনামা মাটি-আঁকড়ে লড়াই-চালানো অপসৃত কর্মীরা, ক্ষমতায় আসার পরে ক্রমাগত ক্ষমতাসীন ঝাঁ-চকচকে দলের নতুন কাঠামোর সাপ-লুডোর সিঁড়িতে পা রাখার সুযোগ, কৃৎকৌশল, গলিঘুঁজি চিনে উঠতে না-পারা, হঠে-যাওয়া সেইসব পুরোনো সম্পদেরা, যাদের আয় যৎসামান্য, যারা পার্টির পনেরো বছরেও সেইভাবে কোনওরকমের আখের গোছাতে পারেননি, কেবল অদম্য আবেগ আর নেত্রীর প্রতি অকুণ্ঠ ভালোবাসায় যারা আজও ঘাসের উপর জোড়াফুল চিহ্নটাকে বুকে আগলে রেখে প্রত্যেকটা ভোটে স্বেচ্ছাশ্রম দেন, তারা। সামাজিক মাধ্যমে ভাইরাল হওয়া সেই পুত্র-পরিত্যক্তা অসুস্থ বৃদ্ধা মা, যিনি ‘লক্ষ্মীর ভাণ্ডারে’র সামান্য টাকাটুকু পেয়েই খুশি। ফাঁকা রাস্তায় দল হেরে যাবার পরেও একহাতে জোড়াফুলের পতাকা উড়িয়ে স্লোগান দিয়েই চলেছেন যিনি। পার্শ্ববর্তী মানুষ তাঁকে নিয়ে বিদ্রূপ করছে, তাতে তাঁর বিন্দুমাত্র ভ্রূক্ষেপ নেই। ভেবেছিল, মফস্‌সল থেকে কলকাতায় সামান্য মাইনেয় চাকরি করতে আসা সেই ছেলেটি, যার পরিবার একদিন বাম শাসকদের হাতে অত্যাচারিত হয়েছে, অথচ সে তার পারিবারিক আস্থা, ভরসার জায়গা থেকে নিজের পয়সায় আজও দশহাজার লিফলেট ছেপে তার অঞ্চলের স্থানীয় তৃণমূল প্রার্থীর হাতে তুলে দেয় প্রচারের জন্য। যেকোনও রাজনৈতিক দলের ক্ষেত্রেই এই নাম-না-জানা, জীবনে কিছুই-হয়ে-উঠতে-না-পারা মানুষগুলোই আসল সম্পদ। সাফল্যের চূড়ায় বসে থাকা নেতানেত্রীরা যাদের কথা ভুলে যান। ক্রমাগত চাটুকার এবং স্তাবক-পরিবৃত স্থানীয় নেতৃত্ব যাদের গুরুত্ব দেয় না। ক্রমাগত অর্থ আর ক্ষমতার অহঙ্কারে ফুলে-ফেঁপে ওঠা নব্য-নেতারা যাদের অপমান করেন, যোগ্য সম্মান দেন না। অথচ দুঃসময়ে এরাই দলের হাত ছাড়ে না।

নব্বই দশকের মাঝামাঝি সময় থেকে সিপিআইএমে একই সমস্যার সৃষ্টি হয়েছিল। যাদের জেদ, কখনও বা আন্ডারগ্রাউন্ডে থেকে লড়াইয়ের সাফল্য হিসেবেই বাংলা জুড়ে উড়েছিল লাল পতাকা, তারাই ১৯৯৬ সালের ২৪ ডিসেম্বর দেখতে পেয়েছিল, তাদের শ্রমিক-কৃষক-সর্বহারার পার্টি গড়িয়াহাট, হাতিবাগান আর নিউ মার্কেটে ১৭০০ হকার উচ্ছেদ করছে। চালাচ্ছে ‘অপারেশন সানশাইন’, নব্বই দশকের গোড়ায় শুরু হওয়া নয়া উদারনীতিবাদের মোহিনী মায়ায় তাদের কমিউনিস্ট পার্টিরও দক্ষিণপন্থী প্রতিসরণ ঘটে গেছে। তারই পরিণতি সিঙ্গুর-নন্দীগ্রামের ঘটনা, যেদিন ভয় ভেঙে গ্রাম-শহরের গরিব মানুষই রুখে দাঁড়িয়েছিল। আর তাসের ঘরের মতো চুরমার হয়ে গিয়েছিল বাংলার লাল দুর্গ, যা বাইরে থেকে লাল দেখালেও ভিতরে ভিতরে যা আসলে হোয়াইট কলার সোশ্যাল ডেমোক্রেসির আখড়ায় পরিণত হয়েছিল। এই প্রতিসরণ একদিনে ঘটেনি। যতোদিন পার্টি মেশিনারি, অটুট সংগঠন, গণ-আধিপত্য আর ‘পার্টি-সোসাইটি’ তার নিজস্ব স্বাভাবিক ছন্দে এগোচ্ছিল, ততোদিন সমস্যা হয়নি। এইবার বোঝা গেল ভিতরটা উইপোকায় খেয়েছিল বহু আগেই। একটা ফোঁপরা কাঠামো টিঁকে রয়েছিল কোনওমতে। মমতা ব্যানার্জির নেতৃত্বে এক ব্যাপক গণ-অভ্যুত্থান সেই ক্ষুদে সমাজতন্ত্রকে উপড়ে ফেলল।

একই ঘটনার আরেকবার সাক্ষী রইলাম আমরা। ‘লুই বোনাপার্টের অষ্টাদশ ব্রুমেয়ার’ রচনায় কার্ল মার্কস যে লিখেছিলেন—‘ইতিহাসে একই ঘটনা দুইবার পুনরাবৃত্ত হয়। প্রথমবার যা থাকে ট্র্যাজেডি। দ্বিতীয়বার তাই হয়ে ওঠে প্রহসন।‘ সুসংহত আঁটোসাটো রেজিমেন্টেড কাঠামো নেই, মূলত স্বতঃস্ফূর্ত আবেগ আর ব্যাপক গণ-অংশগ্রহণ নিয়ে গড়ে ওঠা অগোছালো পার্টিকাঠামো আর মাথার উপরে একজন অসম্ভব ক্যারিশম্যাটিক জননেত্রী-নির্ভর একটি দল পনেরো বছর শাসন চালাল, যে দলের নেত্রীকে প্রত্যেক ভোটের আগেই বলতে হয়—“মনে রাখবেন, ২৯৪ টা আসনেই আমিই প্রার্থী”। এইবার সেই দলকে একটা নির্দিষ্ট সাংগঠনিক ধাঁচায় বাঁধার চেষ্টা হল ভোটকুশলী সংস্থার দ্বারা। ২০২১ এবং ২০২৪-এর এক্সপেরিমেন্ট দুর্দান্ত সফলতা পেল। কিন্তু তারপরেই ‘কহানি মে ট্যুইস্ট’। ভোটকুশলী সংস্থার প্রাণপুরুষ সংস্থা ছেড়ে নিজের পৃথক দল গড়ে রাজনৈতিক অভীষ্ট নিয়ে পার্শ্ববর্তী রাজ্যে ভোটে লড়লেন। সংস্থাটি হয়ে উঠল নিছক একটি যান্ত্রিক ম্যানেজমেন্ট সংস্থার মতো। যার ঝকঝকে ছেলেমেয়েরা তথ্য সংগ্রহ করে এবং সেই রিপোর্ট জমা দেয় দলের শীর্ষে। কিন্তু এর ফলে পার্টির স্বাভাবিক ‘অরগ্যানিক’ চরিত্রটাই নষ্ট হতে বসল। তথ্য সংগ্রহ, প্রার্থী বাছাই, দলের বিভিন্ন স্তরের পদ-বাছাইয়ের ক্ষেত্রে মাটির সঙ্গে বিযুক্ত রাজনৈতিক প্রজ্ঞাবিহীন একশ্রেণির নয়া-টেকনোক্র্যাট পেশাদারেরা এবার ছড়ি ঘোরাতে লাগল। ইভেন্ট ম্যানেজমেন্ট সংস্থার মতো এই নয়া ডিগ্রিধারী পেশাদার কর্পোরেটদের বিরুদ্ধে একের পর এক সত্যি-মিথ্যা দুর্নীতির অভিযোগও যে উঠল না, তাও নয়। কিন্তু নিট ফল যা হল, তা এককথায় বিপর্যয়কর। পার্টির যে স্বতঃস্ফূর্ত, অরগ্যানিক চেহারাই ছিল আসল সম্পদ, সেই মাটির-গন্ধমাখা চেহারাটাই বদলে গিয়ে এক অদ্ভুত কর্পোরেট চেহারা পেল পার্টি, যার সঙ্গে পশ্চিমবঙ্গের আশি বছরের স্বাধীনতা-পরবর্তী রাজনীতির প্রায় কোনও স্বাভাবিক সম্পর্কই আর রইল না। জেলাওয়াড়ি যে রিপোর্ট জমা হতে লাগল শীর্ষস্তরে, তা বাস্তব পরিস্থিতির সঙ্গে একেবারেই সাযুজ্যপূর্ণ নয়। মিছিল, জনসভায় ভীড় হচ্ছে। হাজার হাজার লোক নেতৃত্বের সঙ্গে পা মেলাচ্ছে। কিন্তু সেই পা-মেলানোয় পুরোনো জানকবুল স্বতঃস্ফূর্ত প্রাণের স্পন্দন নেই। রয়েছে ইভেন্ট ম্যানেজমেন্টের সুদক্ষ কারিকুরি। সোশ্যাল মিডিয়ার পর্দায় তা দেখে অত্যুৎসাহী সমর্থকের হয়তো আশ্বাস জুটল, কিন্তু প্রৌঢ় নেতারা প্রমাদ গুনলেন, যদিও মুখে কিছুই বলতে পারলেন না। তাঁরা দলীয় শৃঙ্খলা ভঙ্গ করলেন না আদর্শ সৈনিকের মতোই। ফলত, ওয়াকফ আন্দোলন, সংখ্যালঘু ভোটব্যাঙ্কের ফাটল, সর্বোপরি এসআইআর-এর ফলে যে বিরাটসংখ্যক জ্যান্ত ভোটারের নাম বাদ পড়ল, তাদের নিয়ে কার্যকরী গণ-আন্দোলনের কোনও প্রস্তুতি বা সম্ভাবনা আর রইল না। ফলাফল, পনেরো বছরের মাথায় তৃণমূল কংগ্রেস মুখ থুবড়ে পড়ল মাত্র ৮০টি আসন পেয়ে, উল্টোদিকে ২০৮ টি আসন পেয়ে ভারতীয় জনতা পার্টির ডাবল ইঞ্জিন সরকার আজ বাংলার তখ্‌তে।

বুঝতে হবে এই নির্বাচনী যুদ্ধে বাংলার প্রধান শাসকদলের বিরুদ্ধে মাঠে-ময়দানে বিগত একদশকব্যাপী নীরব সশ্রম সাংগঠনিক ও আদর্শগত প্রচার, প্রসার ঘটিয়ে গিয়েছে রাষ্ট্রীয় স্বয়ংসেবক সঙ্ঘ। তারা হার্ডকোর আইডিওলজিভিত্তিক সংগঠন। সম্পূর্ণ বিপরীতধর্মী মাটিতেও নিজেদের শিকড় বিস্তার কীভাবে করতে হয় তা তাঁরা দেখিয়ে দিয়েছেন ত্রিপুরা, আসামসহ অন্তত কুড়িটি রাজ্যে। এরকম হার্ডকোর মতাদর্শের বিরুদ্ধে ওয়ান-ওম্যান আর্মি হিসেবে এক অসম লড়াই লড়ে পরাস্ত হয়েছেন মমতা। যখন তাঁকে চক্রব্যূহের মধ্যে ঘিরে ফেলছে কেন্দ্রীয় সরকারি দলটি, তিনি ইতিহাসের এই মোড়-ঘোরানো মুহূর্তের এক ট্র্যাজিক নেত্রী হয়েই থেকে গেলেন। বাংলার নয়া সরকারি দলকে বিপুল প্রত্যাশা নিয়ে ক্ষমতায় এনেছেন মানুষ। আশা রাখা যায়, তাঁরা মানুষের আকাঙ্ক্ষাগুলি পালন করবেন।

.

সম্পর্কিত খবর