Jammu Kashmir : পরাধীনতার গ্লানি, বেকারত্ব, ৩৭০ ধারার উচ্ছেদ! কেমন আছে কাশ্মীরের মেয়েরা? | নজর রাখুন HOW -এর ইউটিউব চ্যানেলে।
রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটে কাশ্মীরী নারীদের ভূমিকা, সংগ্রাম এবং অবস্থান অত্যন্ত জটিল এবং বহুমাত্রিক। দশকের পর দশক ধরে চলা রাজনৈতিক অস্থিরতা ও সংঘাতের মধ্যে তারা যেমন সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন, তেমনই আবার নিজেদের অধিকার আদায়ে অত্যন্ত দৃঢ় রাজনৈতিক সচেতনতাও দেখিয়েছেন।
Jammu Kashmir : সংঘাতের শিকার এবং ‘হাফ-উইডো’ (Half-Widow)
কাশ্মীরে দীর্ঘদিনের সশস্ত্র সংঘাত ও সামরিক পরিস্থিতির কারণে হাজার হাজার নারী তাদের স্বামী বা সন্তানদের হারিয়েছেন। যেসব নারীদের স্বামীরা নিখোঁজ হয়ে গেছেন (যাদের ‘হাফ-উইডো’ বলা হয়), তারা বছরের পর বছর ধরে আইনি লড়াই এবং নিখোঁজ স্বজনদের সন্ধানে আন্দোলন চালিয়ে যাচ্ছেন। পারভীনা আহাঙ্গারের মতো নারীরা ‘অ্যাসোসিয়েশন অফ প্যারেন্টস অফ ডিসঅ্যাপেয়ার্ড পারসন্স’ (APDP) গঠন করে বিশ্বমঞ্চে কাশ্মীরী নারীদের এই রাজনৈতিক ও আইনি লড়াইকে তুলে ধরেছেন।
তৃণমূল রাজনীতি ও নেতৃত্ব (Grassroots Politics) সাম্প্রতিক বছরগুলোতে কাশ্মীরের স্থানীয় স্বায়ত্তশাসন ব্যবস্থায় (যেমন পঞ্চায়েত, BDC এবং DDC নির্বাচন) নারীদের অংশগ্রহণ উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়েছে। পঞ্চায়েত স্তরে আসন সংরক্ষণের ফলে প্রত্যন্ত অঞ্চলের কাশ্মীরী নারীরাও এখন ‘পঞ্চ’ বা ‘সরপঞ্চ’ হিসেবে নির্বাচিত হচ্ছেন এবং স্থানীয় শাসন ও নীতি নির্ধারণে সরাসরি ভূমিকা রাখছেন। এটি তাদের রাজনৈতিকভাবে স্বাধীন হতে সাহায্য করছে।
Jammu Kashmir : মূলধারার রাজনীতিতে শীর্ষ নেতৃত্ব
কাশ্মীরের মূলধারার রাজনীতিতে নারীদের শীর্ষ নেতৃত্বে থাকার ইতিহাস রয়েছে। যেমন, মেহবুবা মুফতি জম্মু ও কাশ্মীরের প্রথম নারী মুখ্যমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছেন। জম্মু অ্যান্ড কাশ্মীর ন্যাশনাল কনফারেন্স (JKNC) বা পিপলস ডেমোক্র্যাটিক পার্টি (PDP)-র মতো প্রধান রাজনৈতিক দলগুলোতে নারীদের জন্য শক্তিশালী ‘উইমেন্স উইং’ রয়েছে, যেখানে শামীমা ফিরদৌসের মতো নেত্রীরা নারীদের অধিকার এবং রাজনৈতিক অংশগ্রহণের জন্য কাজ করছেন।
রাজনৈতিকভাবে কাশ্মীরী নারীরা শুধু ভোট বা নির্বাচনের মধ্যেই সীমাবদ্ধ নন; তারা বড় বড় নাগরিক আন্দোলনে সক্রিয় ভূমিকা নেন। নিখোঁজ স্বজনদের খোঁজে প্রতিবাদ করা থেকে শুরু করে মানবাধিকার লঙ্ঘনের বিরুদ্ধে আওয়াজ তোলা—সবক্ষেত্রেই নারীরা সামনের সারিতে থেকেছেন। অনেক তরুণী কাশ্মীরী নারী বর্তমানে সাংবাদিকতা, লেখালেখি, এবং সমাজকর্মী হিসেবে ডিজিটাল ও আন্তর্জাতিক প্ল্যাটফর্মে কাশ্মীরের রাজনৈতিক পরিস্থিতি ও নারীদের অধিকার নিয়ে সোচ্চার হচ্ছেন।
৩৭০ ধারা বাতিলের পরবর্তী পরিস্থিতি- ২০১৯ সালে ভারতীয় সংবিধানের ৩৭০ ধারা বাতিলের পর কাশ্মীরের রাজনৈতিক ও প্রশাসনিক কাঠামোতে বড় পরিবর্তন এসেছে। সরকারের দাবি অনুযায়ী, এর ফলে কেন্দ্রীয় আইনগুলো কার্যকর হওয়ায় কাশ্মীরী নারীদের সম্পত্তিতে অধিকার এবং অন্যান্য আইনি সুরক্ষা বৃদ্ধি পেয়েছে। তবে এই রাজনৈতিক রূপান্তর নিয়ে স্থানীয় নারীদের মধ্যে বিভিন্ন সামাজিক ও রাজনৈতিক মিশ্র প্রতিক্রিয়াও রয়েছে। সংক্ষেপে বলতে গেলে, কাশ্মীরের পুরুষতান্ত্রিক সামাজিক কাঠামো এবং দীর্ঘদিনের রাজনৈতিক অস্থিতিশীলতার মধ্যেও কাশ্মীরী নারীরা নিজেদের শুধু ‘ভুক্তভোগী’ হিসেবে না রেখে, রাজনৈতিকভাবে অত্যন্ত সচেতন ও প্রতিরোধী এক শক্তি হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করেছেন।