Mein Vaapas Aaunga: ইমতিয়াজ পারলেন, বিবেক হারলেন! “ওরা ভেবেছিল গান্ধীকে মারলেই ভারত হিন্দুরাষ্ট্র হবে”, মোলাকাতের প্রথম পর্বে মুখোমুখি গান্ধীবাদী শিক্ষাবিদ মনীষা বন্দ্যোপাধ্যায় One Nation, One Law: এক দেশ, এক আইন প্রজেক্টের নাম “হিন্দি হিন্দু- হিন্দুস্তান” অশান্ত মণিপুরের নেপথ্যে অবৈধ মাদক কারবার? প্রশাসনের ভূমিকায় ক্ষুব্ধ স্থানীয়রা ‘বাঙালির সন্তান থাকবে রাজমা চাওলে’, নিরামিষ বাংলা গড়ার প্রথম পদক্ষেপ? Gym Jihad: বাজারে নতুন ট্রেন্ড ‘জিম জিহাদ’, ফের ‘খাত্রে মে’ হিন্দুরা? রাজনৈতিক হিংসার দুই অধ্যায় বাজেটে পার্শ্বশিক্ষকদের নামমাত্র বেতন বৃদ্ধি, যোগ্যতার অমর্যাদা ও আর্থিক বঞ্চনার চালচিত্র!

Gym Jihad: বাজারে নতুন ট্রেন্ড ‘জিম জিহাদ’, ফের ‘খাত্রে মে’ হিন্দুরা?

৩৫ জন
পড়েছেন

প্রতিবেদন টি শেয়ার করুন

লাভ জিহাদ, ল্যান্ড জিহাদের পর নেটদুনিয়ায় কান পাতলে আরেকটা নতুন শব্দ শোনা যাচ্ছে — ‘জিম জিহাদ’। এর আগে লাভ জিহাদ, ল্যান্ড জিহাদের ধারণা নিয়ে কম বিতর্ক হয়নি। একদিকে যেমন কিছু মানুষকে এর তীব্র বিরোধিতা করতে দেখা গিয়েছে, উল্টোদিকে ঠিক তেমনই তাঁদের সেই বিরোধিতাকেও কটাক্ষের মুখে পড়তে হয়েছে। এবার আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে জিম জিহাদ। কী এই জিম জিহাদ, যা হিন্দুত্ববাদী সংগঠনগুলির নয়া হাতিয়ার?

আসলে এই জিম জিহাদের সঙ্গে মিল রয়েছে লাভ জিহাদ ধারণার। দুই ক্ষেত্রেই একটি নির্দিষ্ট সম্প্রদায়কে ধর্মান্তরকরণে চাপ দেওয়ার মতো গুরুতর অভিযোগ সামনে এসেছে। স্বাভাবিকভাবেই হিন্দুত্ববাদী সংগঠনগুলি এর রাজনৈতিক ফায়দা তুলছে। অভিযোগ অনুযায়ী, কিছু জিমের মালিক ও প্রশিক্ষকরা শরীর চর্চা করতে আসা অল্পবয়সী তরুণী ও মহিলাদের ধর্মান্তরিত করার চেষ্টা চালাতেন। এছাড়া আরও অভিযোগ উঠেছে যে, উদ্দেশ্য সাধনের জন্য অভিযুক্তরা মহিলাদের প্রেমের জালে ফাঁসিয়ে কিংবা শরীর চর্চার সময় তাঁদের গোপন ছবি তুলে ব্ল্যাকমেইল করতেন।

এমনই অভিযোগে তোলপাড় উত্তরপ্রদেশ। বছরের শুরুতেই সে রাজ্যের মির্জাপুরে কয়েকজন জিমের মালিকসহ প্রশিক্ষকদের বিরুদ্ধে জবরদস্তি ধর্মান্তরিত করার অভিযোগ উঠেছে। সংবাদমাধ্যম সূত্রে খবর, ১০ জনের বিরুদ্ধে উত্তরপ্রদেশের গ্যাংস্টার ও অবৈধ কার্যকলাপ প্রতিরোধ আইনে মামলা দায়ের করা হয়েছে। জানা গিয়েছে, অভিযুক্তরা প্রথমে মহিলাদের সঙ্গে প্রেমের সম্পর্ক গড়ে বিশ্বাস অর্জন করতেন। এরপর ছলে বলে কৌশলে গোপন ছবি তুলে ধর্মান্তরকরণে চাপ দিতেন।

প্রসঙ্গগত, ২০১৭ তে কেরালার বাসিন্দা অখিলা অশোকন ইসলাম ধর্ম গ্রহণ করে শাফিন জাহান নামের এক ইসলাম ধর্মাবলম্বী যুবককে বিয়ে করেন। তরুণীর পরিবার এই বিয়েকে অস্বীকার করে আদালতের দ্বারস্থ হন। অখিলার বাবার অভিযোগ ছিল, মেয়েকে বলপূর্বক ধর্মান্তরিত করা হয়েছে। প্রথমে কেরালা হাইকোর্ট বিয়েটি বাতিল করে তরুণীকে তাঁর বাবা-মায়ের হেফাজতে পাঠানোর নির্দেশ দেয়। তারপর তরুণীর স্বামী ওই রায়কে চ্যালেঞ্জ জানিয়ে সুপ্রিম কোর্টে আবেদন করেন। পরের বছর সঙ্গী বাছাইয়ের স্বাধীনতার পক্ষে রায় দিয়ে বিয়েটিকে বৈধ বলে ঘোষণা করে সুপ্রিম কোর্ট। ওই তরুণী নিজের নাম পাল্টে হাদিয়া রাখেন। এই ঘটনাটি ‘হাদিয়া মামলা’ নামে পরিচিত। ‘লাভ জিহাদ’ বিতর্কে দেশজুড়ে আলোড়ন ফেলেছিল এই হাদিয়া মামলা।

এপ্রিলে কর্ণাটকের হুবলিতে জিম জিহাদ সংক্রান্ত একটি ঘটনার প্রতিবাদ জানাতে ডানপন্থী সংগঠনগুলো থানা চত্বরে বিক্ষোভ দেখায়। তাঁদের দাবি, জিমগুলো ক্রমশ ‘লাভ জিহাদ’-এর কেন্দ্র হয়ে উঠছে। তার আগের মাসে সাহারানপুরে এক জিম প্রশিক্ষকের বিরুদ্ধে প্রোটিন ড্রিঙ্কে মাদক মিশিয়ে এক তরুণীকে অচেতন করে যৌন নির্যাতনের অভিযোগ উঠেছে।

এই ঘটনার শিকার যে শুধু মহিলারাই, এমনটা নয়। উত্তরপ্রদেশের শামলি শহরের ৩০ বছর বয়সী আয়ুষের পরিবার এক মহিলা জিম প্রশিক্ষকের বিরুদ্ধে জোরপূর্বক ধর্মান্তরকরণ ও প্রতারণার অভিযোগ আনে। মালিকের বাবা পুলিশকে জানান, ওই মহিলা প্রশিক্ষক তাঁর ছেলেকে ধর্ম পরিবর্তন করে বিয়ে করতে বাধ্য করেন। যদিও আয়ুষ প্রকাশ্যে এই অভিযোগ অস্বীকার করেন। তাঁর কথায়, দশ বছর ইসলাম সম্পর্কে পড়াশোনা করার পর সম্পূর্ণ নিজের ইচ্ছাতেই ধর্মান্তরিত হয়েছেন। তা সত্ত্বেও মহিলা প্রশিক্ষক ও তাঁর বাবাকে উত্তর প্রদেশের অবৈধ ধর্মান্তর বিরোধী আইনের অধীনে গ্রেপ্তার করে পুলিশ।উদারপন্থীদের মতে, জিম জিহাদের মতো এই শব্দবন্ধ উদ্দেশ্যপ্রণোদিত, যা জাতিগত বিরোধিতাকে উসকে দেয় এবং দেশের ঐক্যের পথে বাধা সৃষ্টি করে। যদিও হিন্দুত্ববাদী সংগঠনগুলির মুখে ভিন্ন সুর। তাঁদের বক্তব্য, এই ধরনের কর্মকাণ্ডের জন্য আজ হিন্দুরা সংকটে। তাই এর প্রতিরোধে তাঁরা সক্রিয়ভাবে কাজ করছেন।

অন্যান্য প্রতিবেদন.