Shopping cart

  • Home
  • ফিচার
  • উন্নয়নের সুনামি আন্দামানে: দেড় কোটি গাছ কেটে হবে ‘নিউ হংকং’, ঝুঁকিতে বিরল জীববৈচিত্র্য
ফিচার

উন্নয়নের সুনামি আন্দামানে: দেড় কোটি গাছ কেটে হবে ‘নিউ হংকং’, ঝুঁকিতে বিরল জীববৈচিত্র্য

331

মোদীজির নতুন টার্গেট আন্দামান ও নিকোবর। উন্নয়নের নামে গাছ কাটা হতে পারে দেড় কোটির বেশি। বরাদ্দ ৯২ হাজার কোটি টাকা। গালভরা নাম দেওয়া হয়েছে ‘নিউ হংকং প্রজেক্ট’। দেখানো হচ্ছে হংকং বন্দরের সঙ্গে প্রতিযোগিতায় এগিয়ে যাবে ‘দ্য গ্রেট নিকোবর আইল্যান্ড’ প্রজেক্ট। টাউনশিপ তৈরি হবে, পর্যটন হাব হবে, আন্তর্জাতিক সমুদ্রের সঙ্গে খুব সহজেই যোগাযোগ বাড়বে, ফলত এই বন্দরের মুনাফা গিয়ে পৌঁছবে হিন্দুস্তানের ঘরে ঘরে। তার জন্য প্রাণীজগৎ ধ্বংস হলে হবে। আর এখন তো মুকেশ ভাইয়ের ‘ভানতারা’ রয়েছে, সেখানে পাঠিয়ে দেওয়া যাবে আন্দামানের বিরল প্রজাতির কচ্ছপদের—যাদের গোটা পৃথিবীর অন্য কোথাও খুঁজে পাওয়া যায় না।

এই প্রকল্প হলে নিশ্চিহ্ন হয়ে যেতে পারেন ‘শোম্পেন’ উপজাতির মানুষেরা—এই মুহূর্তে গোটা পৃথিবীতে যাদের মাত্র ২২৯ জন জীবিত আছেন। সঙ্গে ২৯ হাজারের কাছাকাছি ‘নিকোবরী’ উপজাতির মানুষও তাঁদের ঘর হারাবেন। আধুনিক সভ্যতার জলবায়ুর সঙ্গে তাল মেলাতে না পারলে তাঁরাও পড়তে পারেন অস্তিত্বের সংকটে।

শুধুমাত্র মানুষ নয়, জীবজগৎ হারাবে তাদের বাসস্থান। আমরা অনেকেই জানি আন্দামান হল ভারতের ইকোলজিক্যাল হটস্পট। যেখানে বিরল প্রজাতির লেদারব্যাক কচ্ছপ, নিকোবর মেগাপোড, নোনা জলের কুমির এবং প্রবালপ্রাচীর রয়েছে। এখন টিম মোদীজি বলছে, এখান থেকে কাটা বনাঞ্চলের ক্ষতিপূরণ হিসেবে মধ্যপ্রদেশ এবং হরিয়ানায় গাছ লাগানো হবে; তৈরি করা হবে বনাঞ্চল। কিন্তু মধ্যপ্রদেশ বা হরিয়ানায় তো আন্দামানের বিশাল প্রবালপ্রাচীর (যা নিশ্চিহ্ন হয়ে যাবে এই প্রকল্প হলে) তৈরি করা সম্ভব নয়। গৌতম আদানি তেল তুলতে পারেন, প্রবালপ্রাচীর নয়। আন্দামানের এই বিশাল অঞ্চলটি ‘সিআরজেড-১-এ’ (CRZ-IA) আইনের আওতায় পড়ে—যেখানে ম্যানগ্রোভ, কচ্ছপ, কোরাল এবং অন্যান্য সামুদ্রিক প্রাণীর অবাধ বিচরণ। আইন অনুযায়ী এখানে কোনোভাবেই সামুদ্রিক বন্দর তৈরি করা যায় না। কিন্তু মোদী হ্যায় তো মুমকিন হ্যায়! রাতারাতি পুরো অঞ্চলটিকে বলে দেওয়া হলো ‘সিআরজেড-১-বি’ (CRZ-IB), ব্যাস! নাম বদলের সঙ্গে সঙ্গে উন্নয়নের নামে জীববৈচিত্র্য ধ্বংসের মেগা প্ল্যান! দ্বীপটি ‘সিসমিক জোন-৫’ এর আওতায় পড়ে। সুতরাং, এই বিরাট গাছ কাটার ফলে বাড়তে পারে আরও বেশি ভূমিকম্পের ঝুঁকি। ২০০৪ সালের সুনামির কথা মনে আছে নিশ্চয়ই!

এছাড়াও ২০১১ সালের সেন্সাস বলছে আন্দামানে প্রায় এক লাখের বেশি বাঙালি থাকে। যারা মূলত বাংলাদেশ থেকে যাওয়া উদ্বাস্তু হিন্দু মানুষ। তাঁরা কি ফের উদ্বাস্তু হবেন? তার তথ্য বাংলাদেশের হিন্দুদের নিয়ে ভাবিত শুভেন্দু অধিকারী, শান্তনু ঠাকুররা দেবেন।

বরাবরের মতোই বিজেপি সরকার এই প্রকল্পের সঙ্গে ন্যাশনাল সিকিউরিটির প্রসঙ্গ জুড়ে দিয়েছে। কিন্তু তাহলে পর্যটন কেন্দ্র কেন? মানে ধরুন বাঙালি কোনো এক দুর্গাপূজায় খোলা হাওয়ার প্যাকেজে সিয়াচেন ঘুরতে যাচ্ছে—তেমন তো হয় না?

তেলেঙ্গানায় কংগ্রেস, আন্দামানে বিজেপি—গাছ কাটাই সরকারের কাজ। আদিবাসী জীবন সরিয়ে তাদের সো-কল্ড স্বাভাবিক জনজীবনে ফেরানোই সরকারের কাজ। আর দু-পাঁচ হাজার ভোটে কিছু যায় আসে না গণতন্ত্রের। কচ্ছপ তো ভোট দিতেও যায় না।তাই সংবাদমাধ্যম চুপ আছে, বলিউড স্টাররাও চুপ আছে। চুপ বিরোধী দলগুলিও। কিছু মানুষ বলছে, লিখছেও। কিন্তু উন্নয়ন তো আর থেমে থাকবে না।

সম্পর্কিত খবর