আচ্ছা বিজয় কী ভবিষ্যৎ দ্রষ্টা নাকি কোনও ম্যাজিশিয়ান? একথা বলার যথেষ্ট কারণ রয়েছে, সৌজন্যে ২০২৪ সালে মুক্তিপ্রাপ্ত তাঁর সিনেমা ‘গোট’ এবং সেখানে দেখানো একটি গাড়ির নাম্বারপ্লেট। যেই নাম্বারপ্লেটে লেখা ছিল ‘TN 07 CM 2026’! আর তিনি তামিলনাডুর মুখ্যমন্ত্রী হিসেবে শপথ নিলেন সেই ২০২৬ সালেই। এরপর তাঁকে ম্যাজিশিয়ান বললে মনে হয় খুব একটা অত্যুক্তি করা হয় না। তবে অভিনেতা থেকে এই যে প্রথমবারের প্রচেষ্টাতেই মুখ্যমন্ত্রী হওয়া, এর পেছনে কিন্তু কোনও ম্যাজিক নেই। আছে কিছু সুপরিকল্পিত সিদ্ধান্ত, বহু বছর ধরে সচেতন ভাবে গড়ে তোলা একটা ইমেজ, প্রচুর ধৈর্য আর অনেক অনেক সাহস। কীরকম? খুঁজে দেখা যাক।
বিজয়ের উত্থান নিয়ে কথা বলতে গেলে তামিলনাডুর রাজনীতি নিয়ে ছোট্ট করে কিছু জিনিস রিভিশনের মতো বলে নেওয়া প্রয়োজন। বিংশ শতাব্দীর শুরুর দিকে মাদ্রাজ প্রেসিডেন্সিতে দ্রাবিড় আন্দোলনের সূচনা হয়, যার মূল ছিল জাতিভেদ বিরোধিতা এবং লক্ষ্য ছিল অ-ব্রাহ্মণ সম্প্রদায়গুলোর উন্নতি। এটি বৈদিক-ব্রাহ্মণ্য আধিপত্যকে চ্যালেঞ্জ জানানোর পাশাপাশি তামিল গৌরব প্রচার করেছিল, সেইসঙ্গে প্রান্তিক জাতিগুলোর জন্য শিক্ষা ও রাজনৈতিক অধিকার নিশ্চিত করেছিল। এই সমস্তই তামিলনাড়ুর সামাজিক ও রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটের জন্যে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ছিল। এই আন্দোলনের সূত্র ধরেই ১৯১৬ সালে তৈরি হল জাস্টিস পার্টির। ‘সাউথ ইন্ডিয়ান লিবারেল ফেডারেশন’ হিসেবে গঠিত এই দলটি ছিল আন্দোলনের রাজনৈতিক ভিত্তি। এমনকি ১৯২০ সালে এই জাস্টিস পার্টি তৎকালীন মাদ্রাজ প্রেসিডেন্সিতে ভোটে জিতে সরকার গঠন করে।এরপর আসবে সেই মানুষটির কথা, তামিলনাডুর রাজনীতিতে যার প্রভাব এখনও প্রত্যক্ষ বা পরোক্ষভাবে বিশাল। ভদ্রলোকের পিতৃদত্ত নাম ই.ভি.রামাস্বামী, যদিও এই নামে তাঁকে চেনেন এমন মানুষের সংখ্যা নেহাতই হাতেগোনা। বরং জনগণ এবং ইতিহাস তাঁকে মনে রেখেছে পেরিয়ার নামে। এই ভদ্রলোককে নিয়ে বলতে হলে আরেকটা গোটা লেখার প্রয়োজন, আপাতত যতোটুকু দরকার সেই প্রসঙ্গগুলো খানিক ছুঁয়ে দেখা যাক। পেরিয়ার ১৯১৯ সালে কংগ্রেসে যোগদান করেন। ১৯২৫ সালে তিনি কংগ্রেস ত্যাগ করেন, কারণ তাঁর অভিযোগ ছিল কংগ্রেস ব্রাহ্মণদের বেশি গুরুত্ব দিচ্ছে। এরপর তিনি জাস্টিস পার্টিতে যোগ দেন, ১৯৩৯ সালে দলের প্রধান হন। পেরিয়ার রাজনীতির চেয়েও বেশি বিশ্বাস করতেন সামাজিক সংস্কারে। সম্ভবত এই কারণেই কে. কামরাজের পর আন্নাদুরাই থেকে শুরু করে বিজয় পর্যন্ত বেশিরভাগ তামিলনাডুর মুখ্যমন্ত্রী সিনেমার সঙ্গে জড়িত, যাদের প্রায় প্রত্যেকে প্রথমে সমাজে নিজেদের প্রভাব বিস্তার করে তারপর রাজনীতিতে যোগ দিয়েছেন (এই বিষয়টি বিজয়ের রাজনৈতিক উত্থানের পেছনেও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছে)। ফেরা যাক পেরিয়ারে, ভদ্রলোক সমাজ সংস্কারের ভাবনা থেকে ১৯৪৪ সালে শুরু করছেন দ্রাবিড় কাজাঘাম বা ডি.কে-র। ভোটে লড়ার উদ্দেশ্য এই দলের কখনোই ছিল না।
এরপর একটু ফাস্ট ফরওয়ার্ড করা যাক, নইলে দ্রাবিড় আন্দোলনের ইতিহাস এতই দীর্ঘ এবং ইন্টারেস্টিং যে মূল বিষয়ে পৌঁছোতে দেরি হয়ে যাবে। মতাদর্শগত কারণে ১৯৪৯ সালে দ্রাবিড় কাজাঘাম বা ডি.কে ভেঙে আন্নাদুরাই তৈরি করেন দ্রাবিড় মুন্নেত্রা কাজাঘাম বা ডি.এম.কে। ১৯৬৭ সালে ডি.এম.কে কংগ্রেসকে হারিয়ে ক্ষমতায় আসে এবং তখন থেকে ২০২৬ পর্যন্ত ডি.এম.কে এবং এআই.এ.ডি.এম.কে ছাড়া অন্য কোনও দল তামিলনাডুর ক্ষমতায় আসেনি। প্রথম ডি.এম.কে সরকারের মুখ্যমন্ত্রী হন আন্নাদুরাই। যদিও মাত্র দু’বছর পর তিনি মারা যান। এরপর তামিলনাডুর মুখ্যমন্ত্রী হন করুণানিধি। যদিও মুখ্যমন্ত্রীত্বের প্রবল দাবিদার ছিলেন ম্যাটিনি আইডল এম.জি.আরও। এরপর ১৯৭১ সালেও ডি.এম.কে ফের ক্ষমতায় আসে, ফের মুখ্যমন্ত্রী হন করুণানিধি। এই জয়ের পেছনে অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা ছিল এম.জি.আরের। কিন্তু ১৯৭২ সালে করুণানিধি এবং এম.জি.আরের মধ্যে বিরোধ বাধে। এম.জি.আরের অভিযোগ ছিল দলের বেশিরভাগ নেতা দুর্নীতিগ্রস্ত এবং সেইসঙ্গে তিনি সমস্ত মন্ত্রীর সম্পত্তির পরিমাণ জনসমক্ষে নিয়ে আসার দাবি জানান। ফলাফল, দলের তৎকালীন ট্রেজারার এম.জি.আরকে ১০ অক্টোবর, ১৯৭২ সালে প্রথমে সাময়িক সময়ের জন্য এবং চারদিন পর পাকাপাকিভাবে বহিষ্কার করে ডি.এম.কে। এরপর ১৭ অক্টোবর, ১৯৭২ সালে এম.জি.আরের নেতৃত্বে পথ চলা শুরু হয় আন্না দ্রাবিড় মুন্নেত্রা কাজাঘাম বা এআই.এ.ডি.এম.কে-র।এই দুই দলের আকচাআকচি নিয়ে লেখা শুরু করলে খাতার পাতা শেষ হয়ে যাবে তবু লেখা শেষ হবে না (প্রথমবার ভোটে লড়ে মুখ্যমন্ত্রী হওয়া নাকি এই দুই দলকে সরকার গড়ার জন্যে মুখোমুখি বসানো, রাজনীতিতে বিজয়ের সবচেয়ে বড় সাফল্য কোনটা এই নিয়ে বিতর্ক চলতেই পারে)।
যাকগে সেসব, এবার তাহলে হিরোর এন্ট্রি হোক? ভদ্রলোকের নাম সি জোসেফ বিজয়, ভক্তদের প্রিয় বিজয় বা থালাপতি। বেশিরভাগ মানুষ রাজনীতিতে ওনার উত্থানকে উল্কার গতিতে ভেবে ভুল করতেই পারেন কিন্তু খানিক পড়াশোনা করলে জানা যায় বিষয়টি মোটেও সেরকম নয়। প্রথমে আসা যাক, তার দলের বুথ স্তরের সংগঠনে। অন্য দলের যেখানে বুথ স্তরে সংগঠন বানাতে বছরের পর বছর লেগে যায়, বহু অর্থ ব্যয় হয় তারপরও ঠিক করে সংগঠন দানা বাঁধে না। বিজয় এবং তাঁর দল তামিলাগা ভেট্রি কাজাঘাম সেই কাজটাই করে ফেলল অনায়াসে। কিন্তু কীভাবে? এর উত্তর খুঁজতে আমাদের যেতে হবে ২৬ জুলাই, ২০০৯ সালে। যেদিন বিজয় সূচনা করেন বিজয় মাক্কাল ইয়াক্কাম বা ভিএমআই-এর। যেখানে এক ছাতার তলায় তিনি নিজের পঁচাশি হাজার ফ্যান ক্লাবকে নিয়ে আসেন। উদ্দেশ্য সমাজসেবা। তখন থেকে এই ভিএমআই নিয়মিত রক্তদান শিবির, বন্যায় ত্রাণ দেওয়া, খাবার বিলি করার মতো কাজ নিয়মিত করে আসছিল। এখানে বলে রাখা প্রয়োজন দক্ষিণ ভারতে কোনও অভিনেতার ফ্যান ক্লাব আর পাঁচটা সাধারণ ফ্যান ক্লাবের মতো হয় না। তাদের সভাপতি থাকে, ট্রেজারার থাকে, বার্ষিক সভা হয়, মেম্বারশিপ কার্ড হয় এমনকি কিছু কিছু ফ্যান ক্লাব তো আবার রেজিস্টার্ড সংগঠন হিসেবেও চিহ্নিত হয়। ভিএমআই যে কাজগুলো করেছে এত বছর ধরে সেই কাজ অন্য ফ্যান ক্লাবও কম বেশি করে কিন্তু ভিএমআই-এর মতো এতো সংগঠিত ভাবে করে না। এবার ভিএমআই-এর লাগাতার এই ধরণের সমাজসেবামূলক কাজ চালিয়ে যাওয়ার ফলে বিজয়ের অভিনেতার বাইরে অন্যরকম একটা ইমেজ যেমন তৈরি হল তেমনই বুথ স্তরে তাঁর দলের সংগঠনও তখন থেকেই মজবুত হওয়া শুরু হল। যার প্রমাণ পাওয়া গেলো ২০২৪-এ যখন বিজয় টিভিকে-র সূচনা করলেন তখন সেই পঁচাশি হাজার ফ্যান ক্লাবের প্রত্যেকটিতে অন্ততপক্ষে ২৫ জন করে সক্রিয় সদস্য রয়েছেন। এবার পঁচাশি হাজারের সঙ্গে ২৫ গুণ করলে সংখ্যাটা কী দাঁড়াচ্ছে আপনারাই হিসেব করে নিন। এরা সবাই টিভিকে-র অংশ হয়ে গেল।
কিন্তু সুচারুভাবে নিজের ফ্যান ক্লাবকে না হয় তিনি পরিচালনা করলেন, কিন্তু ফ্যান তো কামাল হাসানেরও আছে, রজনীকান্তেরও আছে বরং বিজয়ের চেয়ে খানিক বেশিই রয়েছে। তারপরেও তাঁরা পারলেন না, কিন্তু বিজয় পারলেন। কীভাবে? এর পেছনেও বেশ কিছু কারণ রয়েছে। ২০২৬ সালে তামিলনাডুর ভোটারদের মধ্যে ৩১ শতাংশের বয়স ছিল ৩০ বছরের কম। এরা যুযুধান বাকি দুই পক্ষের লড়াই বিশেষ প্রত্যক্ষ করেনি। সেই সম্পর্কে তাদের অভিজ্ঞতা হয় মুখে শোনা, নইলে বইতে পড়া। কিন্তু তাঁরা বিজয়কে এবং তাঁর সিনেমাকে অনেকবেশি প্রত্যক্ষ করেছে। এখানে আসে বিজয়ের দ্বিতীয় মাস্টারস্ট্রোক, তাঁর সিনেমার বিষয়বস্তু।
তাঁর অভিনীত মোট ছটি সিনেমা এবং তাঁর বিষয়বস্তু নিয়ে আলোচনা করলে ব্যাপারটা খানিক পরিষ্কার হবে। প্রথম সিনেমা ‘কাথথি’ (২০১৪)- এই সিনেমার মধ্যে উঠে এসেছে কর্পোরেটের বিরুদ্ধে কৃষকদের লড়াই এবং দুঃখ-দুর্দশার কথা। দ্বিতীয় ‘থেরি’- পুরো সিনেমাটি আর পাঁচটা মশালা সিনেমার মতো হলেও ধর্ষণ এবং ধর্ষককে বিজয় যেভাবে শাস্তি দিচ্ছে সেই বিষয়গুলো দর্শকের মনে দাগ কাটে। তৃতীয় ‘মার্শাল’ (২০১৭)- এই সিনেমায় উঠে এসেছে চিকিৎসা ক্ষেত্রে দুর্নীতির প্রসঙ্গ, এখানেই তাঁর জিএসটি সংক্রান্ত সংলাপ নিয়ে যথেষ্ট বিতর্ক হয়েছিল। চতুর্থ এবং এই আলোচনার প্রেক্ষিতে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ সিনেমা ‘সরকার’ (২০১৮)- যেখানে উঠে আসে ভারতবর্ষের ভোটিং ব্যবস্থা এবং ভোটারদের অধিকারের কথা। পঞ্চম ‘বিগিল’ (২০১৯)- ক্রীড়াক্ষেত্রে দুর্নীতি এবং নারীমুক্তি নিয়ে এই সিনেমা কথা বলে। ষষ্ঠ ‘মাস্টার’ (২০২১)- পুরো সিনেমার বিষয়বস্তু আলাদা হলেও ছাত্র রাজনীতির প্রসঙ্গটি এই সিনেমায় যেভাবে উঠে আসে সেটা খুব কম দেখা যায়। অর্থাৎ শুধু ভিএমআই নয় সিনেমা দিয়েও বিজয় নিজের একটা খানিক এম.জি.আরের মতো ইমেজ বহুদিন ধরেই তৈরি করছিলেন।
এইসবের সঙ্গে ক্যারিয়ারের মধ্যগগনে থাকার সময়ে আর সিনেমা না করার সিদ্ধান্ত নিয়ে তিনি যে পুরোপুরি রাজনীতিতে মনোনিবেশ করলেন সেটাও জনগণের ভালো লাগলো। এছাড়া সি.এ.এ, নিট নিয়ে তাঁর দৃঢ় মতামত, পেট্রোলের মূল্যবৃদ্ধির প্রতিবাদে তাঁর সাইকেল চালিয়ে ভোট দিতে যাওয়া রাজনীতিতে তাঁকে যথেষ্ট মাইলেজ দিল। সবের মধ্যে প্রতিকূলতাও এলো। ২৭ সেপ্টেম্বর, ২০২৫- কারুর কাণ্ড যেখানে পদপিষ্ট হয়ে নয়জন শিশু সহ ৪১ জন মারা গেলেন, সেইসঙ্গে আহত হলেন প্রায় ১২৪ জন। বিরোধীরা স্বাভাবিকভাবেই বিজয়ের মুণ্ডুপাত শুরু করল। এই পরিস্থিতিতে অনেকেই ভেবেছিলেন, বিজয়ের রাজনৈতিক জীবন বোধ হয় এখানেই শেষ হয়ে গেল। ঘটনার পরপরই বিজয়ের ষড়যন্ত্র তত্ত্ব খাড়া করার চেষ্টা এবং তারপর প্রায় একমাস চুপ থাকা সেই ধারণায় আরও বেশি করে শিলমোহর লাগাচ্ছিল। তবে এরপরেই আসে তাঁর তৃতীয় মাস্টারস্ট্রোক, যখন এক ভিডিও বার্তায় তিনি পুরো ঘটনার দায় স্বীকার করেন এবং ক্ষতিগ্রস্তদের পরিবারকে আর্থিক সাহায্য করেন। বহু বছর ধরে নেতাদের দায় ঝেড়ে ফেলতে দেখা তামিলনাডুর মানুষ কোথাও গিয়ে নতুন আশার আলো দেখতে পান, খুঁজে পান তাদের কাঙ্ক্ষিত তৃতীয় পক্ষকে। এক্ষেত্রে বিজেপিকে তাঁর আদর্শগত প্রতিপক্ষ এবং পূর্বতন শাসক ডি.এম.কে-কে রাজনৈতিক প্রতিপক্ষ হিসেবে চিহ্নিত করা তাঁর পক্ষে গেল। অন্যদিকে, নিজের দলের প্রতীক হিসেবে তিনি হুইসেল-কে ব্যবহার করায় টিভিকে-র সঙ্গে মানুষ আরও বেশি একাত্ম হতে পারলো। কারণ চেন্নাই সুপার কিংসের সঙ্গে এর সরাসরি যোগাযোগ রয়েছে। সেইসঙ্গে বিজয়ের রথের সারথী হিসেবে প্রশান্ত কিশোরকে পাওয়া নিঃসন্দেহে তাঁর প্রতিপক্ষদের তুলনায় তাঁকে বেশ খানিকটা এগিয়ে রেখেছিল।
শেষ করার আগে আরেকটা বিষয় উল্লেখ করা প্রয়োজন, সেটা হল বিজয়ের ধৈর্য এবং সময়জ্ঞান। বহুবার তাঁর রাজনীতিতে আসার গুঞ্জন সামনে এসেছে। প্রথম ২০০৯ সালে লোকসভা ভোটের ঠিক পরে যখন তিনি রাহুল গান্ধীর সঙ্গে দেখা করেন। দ্বিতীয় ২০১১ সালে যখন তিনি আন্না হাজারের সমর্থনে রামলীলা ময়দানে উপস্থিত হন। তৃতীয় ২০১১ সালেরই বিধানসভা নির্বাচনে যখন তিনি এবং ভিএমআই, এআই.এ.ডি.এম.কে-র নেতৃত্বাধীন জোটকে সমর্থন জানান। কিন্তু প্রতিবারই তিনি সেই সমস্ত গুঞ্জনকে মিথ্যে প্রমাণ করেন। আসলে তাঁর লক্ষ্য যে কেবল একজন বিধায়ক কিংবা সাংসদ হওয়া নয় বরং আরও বেশি কিছু সেটা কেই-ই বা জানবে!
শেষ করি কিছু তেতো কথা বলে। বিজয় এবং তাঁর দল টিভিকে সরকার তো গড়ে নিল। মুখ্যমন্ত্রী হিসেবে বিজয় শপথও নিয়ে নিলেন। শপথ নেওয়ার পর তাঁর করা পদক্ষেপগুলো ইতিমধ্যেই সাধারণের প্রশংসাও কুড়োচ্ছে। কিন্তু এরপর কী হবে? সংখ্যাগরিষ্ঠতা না থাকায় আসন সমঝোতা নিয়ে বিজয়কে যে বেশ খানিক নাকানিচোবানি খেতে হয়েছে তাঁর সাক্ষী গোটা দুনিয়া। যে ঘটনা প্রমাণ করে রাজনীতিবিদ হিসেবে এখনও তাঁর অনেক কিছু শেখা বাকি। সেইসব তিনি যত তাড়াতাড়ি শিখবেন তত তাঁর মঙ্গল, নইলে জোট সঙ্গীরা যে শরিকি কাঁটায় তাঁকে জর্জরিত করবেন না, তেমন নিশ্চয়তা কই? দ্বিতীয়ত, সংখ্যাগরিষ্ঠতা না থাকায় ইতিমধ্যেই তাঁকে জোটসঙ্গী হিসেবে বাছতে হয়েছে কংগ্রেসকে। নির্বাচনে যারা ছিলেন তাঁর প্রতিপক্ষ জোটের শরিক। সুতরাং তাঁর দল সম্বন্ধে যে আদর্শহীনতার অভিযোগ রয়েছে সেটা ভবিষ্যতে আরও জোরালো হবে বৈকি। তৃতীয়ত, নিজের মেনিফেস্টোতে বিজয় যেসব প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন, সেইসব পূরণ করতে প্রতি বছর আনুমানিক প্রায় দশ হাজার কোটি টাকা খরচ হওয়ার সম্ভাবনা, যা রাজ্যের অর্থনীতির ওপর দীর্ঘমেয়াদী প্রভাব ফেলতে পারে। এই সমস্ত তিনি কীভাবে সামলাবেন, তাঁর উত্তর দেবে সময়। তবে এখনও অবধি রাজনীতিতে তাঁর যা পারফরম্যান্স, তাতে বিজয় ভক্তরা আশায় বুক বাঁধতেই পারেন। আর সবশেষে যেটা মাথায় না রাখলেই নয়, তিনি হলেন ‘Thee Thalapathy’।










